এলমের প্রকারভেদ—
জ্ঞান বা এলম দুই প্রকার- আল্লাহ সম্পর্কীয় ও পার্থিব বৈষয়িক।
জ্ঞান বা এলম দুই প্রকার- আল্লাহ সম্পর্কীয় ও পার্থিব বৈষয়িক।
আল্লাহ সম্বন্ধীয় জ্ঞান হচ্ছে তার নিজস্ব সত্তা, তার গুণাবলি এবং তার সাথেই সম্পৃক্ত ও প্রতিষ্ঠিত। তার জ্ঞান সীমাতীত ও অসীম। তিনি সর্বজ্ঞানী। বিদ্যমান বা অবিদ্যমান সব কিছুই তার জ্ঞানের মাঝে সীমিত। আল্লাহ্ তা'আলা কুরআনুল করীমে বলেন:- “আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবগত।” (সূরা বাকারা- ২৩১ ও সূরা: মায়িদাহ- ৯) আরও বলেন-" আল্লাহর জ্ঞান সকল বস্তুকে ঘিরে রেখেছে।" (সূরা: তালাক- ৭৩)। তিনি আরো বলেন,– "তিনি প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য সব ব্যাপারেই পরিজ্ঞাত।" (সূরা: আল-আনআম- ৭৩)
(২) পার্থিব বৈষয়িক বা সৃষ্টি সম্বন্ধীয় জ্ঞান হচ্ছে, আল্লাহ প্রদত্ত সীমিত এবং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত জ্ঞান। এটা যেমন অর্জিত হয় তেমন বিলোপও হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, - “বান্দা আল্লাহর জ্ঞানভাণ্ডার হতে কোন কিছুকেই তার আয়ত্বে আনতে সক্ষম নয়। তবে এতটা সম্ভব যতটা তিনি দেওয়ার ইচ্ছা করেন।" (সূরা: আল-বাকারা- ২৫৫) তিনি আরো বলেন– "তোমাদের খুবই কম জ্ঞান দান করা হয়েছে।” (সূরা: বানী ইসরাঈল : ৮৫)
এই কথাও স্মরণ রাখতে হবে যে- সৃষ্টির কোন কিছুই আল্লাহর সাথে তার জ্ঞানের অংশীদার নয়। ফলে তালেবের (অনুসন্ধানীর) কর্তব্য আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান ও হেদায়াতকে পথের আলোস্বরূপ ভাবা এবং মনে রাখা যে আল্লাহ তার কাজকর্ম সব কিছুই দেখেন।
সুতরাং মানুষের এলম ও আমলের একটি প্রকাশ্য এবং আর একটি অপ্রকাশ্য দিক আছে। যেমন কালেমা শাহাদতের প্রকাশ্য দিক হচ্ছে- তাকে মুখে উচ্চারণ করা এবং তার সত্যতা স্বীকার কর। অপ্রকাশ্য বা বাতেন দিক হলো- তার অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝে তাতে ঈমান আনা। বাতেনী হাকিকতের বিদ্যমানতা ব্যতীত প্রকাশ্য বা জাহেরী সাজসজ্জা কপটতা। অপরদিকে বাহ্যিক দিক সুন্দর না রেখে শুধু বাতেনের দাবি করা- বেদীনি এবং যিন্দেকী। তরিকতপন্থীগণ বাতেনহীন জাহেরকে 'নাকস' এবং জাহের ব্যতীত বাতেনকে 'হাওয়াস, বলেন। ফলে সত্যের সন্ধানীর জন্য জাহের ও বাতেন উভয়কে দুরস্ত করাই প্রয়োজন।
পরবর্তী পর্ব-
ফরজ বিদ্যা (১) ইলমে হাকিকত
সুতরাং মানুষের এলম ও আমলের একটি প্রকাশ্য এবং আর একটি অপ্রকাশ্য দিক আছে। যেমন কালেমা শাহাদতের প্রকাশ্য দিক হচ্ছে- তাকে মুখে উচ্চারণ করা এবং তার সত্যতা স্বীকার কর। অপ্রকাশ্য বা বাতেন দিক হলো- তার অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝে তাতে ঈমান আনা। বাতেনী হাকিকতের বিদ্যমানতা ব্যতীত প্রকাশ্য বা জাহেরী সাজসজ্জা কপটতা। অপরদিকে বাহ্যিক দিক সুন্দর না রেখে শুধু বাতেনের দাবি করা- বেদীনি এবং যিন্দেকী। তরিকতপন্থীগণ বাতেনহীন জাহেরকে 'নাকস' এবং জাহের ব্যতীত বাতেনকে 'হাওয়াস, বলেন। ফলে সত্যের সন্ধানীর জন্য জাহের ও বাতেন উভয়কে দুরস্ত করাই প্রয়োজন।
পরবর্তী পর্ব-
ফরজ বিদ্যা (১) ইলমে হাকিকত

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন