ফরজ বিদ্যা - ১ম
📚কাশফুল মাহজুব (পর্ব- ৯) ✍🏻দাতা গঞ্জেবকশ হাজবেরী (রহ.)যে ইলম শিক্ষা করা ফরজ তা দ্বিবিধ– (১) ইলমে হাকিকত (২) ইলমে শরীয়ত।
ইলমে হাকিকত—
ইলমে হাকিকতকে ইলমে উসূলও বলা হয়। তার তিনটি মৌলিক বিষয়।
(১) আল্লাহ তা'আলার সত্তা, তাঁর একত্ব এবং শিরকের সীমা জ্ঞান।
(২) আল্লাহ্ তা'আলার গুণাবলি এবং তাঁর আহকাম ও ফরমানের হুকুম এবং
(৩) আল্লাহ তা'আলার কার্যাবলি এবং তাঁর হেকমত সম্পর্কীত জ্ঞান।
ইলমে হাকিকত—
ইলমে হাকিকতকে ইলমে উসূলও বলা হয়। তার তিনটি মৌলিক বিষয়।
(১) আল্লাহ তা'আলার সত্তা, তাঁর একত্ব এবং শিরকের সীমা জ্ঞান।
(২) আল্লাহ্ তা'আলার গুণাবলি এবং তাঁর আহকাম ও ফরমানের হুকুম এবং
(৩) আল্লাহ তা'আলার কার্যাবলি এবং তাঁর হেকমত সম্পর্কীত জ্ঞান।
(১) আল্লাহ তা'আলার সত্তা সম্বন্ধীয় জ্ঞান হলো- প্রত্যেক জ্ঞানবান এবং বালেগের জন্য এ কথা জানতে হবে যে আল্লাহ বিদ্যমান, তিনি সর্বক্ষণ আছেন এবং থাকবেন, তাঁর জন্য কোন দিক নির্দিষ্ট নেই, স্থান নির্দিষ্ট নেই। তার ক্ষয় নেই সীমা নেই, উদাহরণ নেই, কোন প্রকার জাত নেই। তিনি সবখানে বিরাজমান, তিনি সব কিছু দেখেন, সব কিছু শ্রবণ করেন। তিনি সকলের মনের কথা জানেন। সৃষ্টি করায় কেউ তার অংশীদার নেই। কোন কাজে তার অংশীদার হওয়া তো দূরের কথা তার সম্মুখে নিঃশ্বাস ফেলার কারও ক্ষমতা নেই। তিনি সকলের স্রষ্টা; সবকিছু তার সৃষ্টি।
(২) আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কীয় জ্ঞান হলো, তাঁর যাবতীয় সিফাত তাঁর জাতের সাথে বিদ্যমান এবং চিরস্থায়ী। কিন্তু না আছে তার অংশ আর না তা পৃথক। তিনি উপাস্য ও একমাত্র উপাস্য চিরঞ্জীব। সকল বিষয়ের উপর শক্তিশালী। তিনি প্রত্যেক বিদ্যমান, অবিদ্যমান, প্রকাশ্য, অপ্রকাশ্য সম্বন্ধে পরিজ্ঞাত। যা ইচ্ছা তাই করেন। তাঁর প্রতিটি কথা সত্য, তাঁর প্রতিটি নির্দেশ অবশ্য পালনীয়। অন্যান্য যাবতীয় হুকুম আহকাম তাঁর হুকুম আহকামের অধীনস্থ।
(৩) আল্লাহর কার্যাবলি সম্পর্কীয় জ্ঞান হচ্ছে, যাবতীয় সৃষ্টির স্রষ্টা ও প্রতিপালক একমাত্র তিনি। হায়াত, মওত, ধনদৌলতের উন্নতি অবনতি যাবতীয় কিছু আল্লাহর কাজ। এর সকল কাজই তার কার্যকারকের স্মারক চিহ্ন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:– “এসব লোক কি দেখে না যে আমি উট কিরূপে সৃষ্টি করেছি; নভোমণ্ডলকে কীভাবে উন্নত করেছি, পাহাড়কে কীভাবে স্থির রেখেছি এবং জমিনকে কীভাবে বিছিয়ে দিয়েছি।” (সূরা: আল-গাশিয়াহ-১৭-২০)
আরও এরশাদ করেন,- "জমিন ও আসমানের সৃষ্টিতে, দিন ও রাতের ক্রমাগতভাবে আগমনে জ্ঞানবানদের জন্য অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে।” (সূরা: আলে-ইমরান- ১৯০)
এসব কিছু চোখ খুলে দেখলে এবং এসব কিছু মনোযোগ সহকারে ভেবে দেখলে অবশ্য তুমি বুঝতে পারবে এসব যার সৃষ্টি তিনিই একমাত্র আল্লাহ।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:– “এসব লোক কি দেখে না যে আমি উট কিরূপে সৃষ্টি করেছি; নভোমণ্ডলকে কীভাবে উন্নত করেছি, পাহাড়কে কীভাবে স্থির রেখেছি এবং জমিনকে কীভাবে বিছিয়ে দিয়েছি।” (সূরা: আল-গাশিয়াহ-১৭-২০)
আরও এরশাদ করেন,- "জমিন ও আসমানের সৃষ্টিতে, দিন ও রাতের ক্রমাগতভাবে আগমনে জ্ঞানবানদের জন্য অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে।” (সূরা: আলে-ইমরান- ১৯০)
এসব কিছু চোখ খুলে দেখলে এবং এসব কিছু মনোযোগ সহকারে ভেবে দেখলে অবশ্য তুমি বুঝতে পারবে এসব যার সৃষ্টি তিনিই একমাত্র আল্লাহ।
আল্লাহ তায়ালার সত্তা ও গুণাবলি সম্পর্কে আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীসমূহ বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য:
(১) "জেনে রেখো আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই"। (সূরা: মুহাম্মাদ-১৯)
(২) "জেনে রেখ আল্লাহই তোমাদের প্রভু"। (সূরা: আল-আনফাল- ৪০)
(৩) "আল্লাহকে আকড়িয়ে থেক তিনিই তোমাদের মালিক। (সূরা: আল-হজ্জ- ৭৮)
(৪) "আল্লাহর ইবাদত কর তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন উপাস্য নেই"। (সূরা: আল-আরাফ- ৫৯)
(৫) "আপনি বলুন, আল্লাহ এক। তিনি অমুখাপেক্ষী; তাঁর কোন সন্তান নেই, কোন পিতা নেই। তাঁর সমকক্ষ আর কেউ নেই।" (সূরা: ইখলাস : ১- ৪)
(৬) "তাঁর না আছে স্ত্রী আর নাআছে সন্তান"। (সূরা: জিন : ৩)
(৭) "তাঁর সমকক্ষ আর কেউ নেই"। (সূরা: শুরা- ১১)
(৮) "পূর্ব পশ্চিমে সব কিছুই আল্লাহর। যেদিকে তুমি চেহারা ফিরাবে সেই দিকেই আল্লাহ"। (সূরা: আল-বাকারা- ১১৫)
(৯) "তাঁর কোন পুত্র নেই এবং তাঁর রাজত্বে তাঁর কোন অংশীদারও নেই"। (সূরা: বানী ইসরাঈল- ১১১)
(১০) "জমিন আসমানের প্রভু এবং জমিন ও আসমানের মাঝে যা কিছু পাওয়া যায় তাদেরও প্রভু। তিনি প্রতিটি বস্তুর ওপর ক্ষমতাবান।" (সূরা: আল-মায়িদাহ- ১৭)
(১১) "জেনে রেখ! সৃষ্টি তাঁরই এবং বাদশাহীও তাঁরই"। (সূরা: আল-আরাফ- ৫৪)
(১২) "আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন"। (সূরা: আল-বাকারা- ১৮১)
(১৩) 'আল্লাহ অন্তরের গোপন রহস্যও জানেন"। (সূরা: আল-মায়িদাহ- ৭)
(১৪) "তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন"। (সূরা: বুরূজ- ১৬)।
(১৫) "যখন তিনি কোন বিষয়ে ফয়সালা করেন তখন নির্দেশ দেন "হয়ে যাও” আর তৎক্ষণাৎ তা অস্তিত্বে এসে যায়"। (সূরা: মারিয়াম- ৩৫)
(১৬) "তাঁর প্রতিটি কথা সত্য"। (সূরা: আল-আনআম- ৭৩)
(১৭) "নিশ্চয় আপনার প্রভু শাস্তি দেওয়ায় ব্যাপারে অতি ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন এবং ক্ষমা ও মেহেরবানি করায়ও মহান।" (সূরা: আল-আনআম- ১৬৫)
(১৮) "নিশ্চয় তোমার প্রভুর পাকরাও খুবই কঠিন"। (সূরা: বুরূজ- ১২)
(১৯) "তিনি সর্বাপেক্ষা মেহেরবান"। (সূরা: ইউসুফ- ৯২)
(২০) "তিনি সীমাহীন ক্ষমাকারী ও মহব্বতকারী"। (সূরা: বুরূজ- ১৪)
পরবর্তী পর্ব
ইলমে শরীয়ত বা শরীয়তী ইলম
ইলমে শরীয়ত বা শরীয়তী ইলম

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন