📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ৪৪)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
আযাবের ফেরেশতাদের বিবরণ
হযরত মন্ছুর ইবনে আম্মার (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, হুযুর করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিয়াছেন,“দোযখের দারোগা মালেক (আঃ) এর দোযখীদের সংখ্যানুপাতে হাত পা রহিয়াছে। অর্থাৎ প্রত্যেক দোযখীকে আযাব করার ও তৌক-জিঞ্জির পরাইবার জন্য তাঁহার পৃথক পৃথক হস্ত রহিয়াছে। মালেক (আঃ) দোযখের দিকে নজর করিবামাত্র দোযখ, একে অন্যকে গ্রাস করিতে থাকিবে। "বিসমিল্লাহ" শরীফে মোট ঊনিশটি অক্ষর আছে। তদ্রূপ আযাবের ফেরেশতাদের সংখ্যাও ঊনিশ। অতএব যে ব্যক্তি কায়মনে বিসমিল্লাহ্ শরীফ পাঠ করিবে, আল্লাহ পাক তাহাকে আযাবের ফেরেশতাদের নিপীড়ন ও অত্যাচার হইতে মুক্তিদান করিবেন। আযাবের ফেরেশতাগণ পা দ্বারা হাতের কর্ম করিতে সক্ষম হইবে। এইজন্য তাহাদিগকে ‘জবানিয়া' বলা হয়। তাহারা এক-এক হাত-পা দ্বারা দশ সহস্র কাফেরকে আযাব করিবে। তাহাদের অধীনে অগণিত ফেরেশতাও রহিয়াছে। তাহাদের চক্ষুদ্বয় দৃষ্টি হরণকারী বিদ্যুতের মত, দন্তরাজি গাভীর শিং এর মত লম্বা ও তীক্ষ্ণ হইবে! তাহাদের জিহ্বা পা-পর্যন্ত লম্বা ও উহা হইতে আগুনের শিখা-বাহির হইবে! তাঁহাদের কাঁধ এক বৎসরের দূরত্বের সমান হইবে। তাহারা নির্দয় ও পাষাণ হইবে। তাহারা একাদিক্রমে চল্লিশ বৎসরও যদি দোযখ সাগরে বিচরণ করে, তথাপি নরকাগ্নি তাহাদের কোন ক্ষতি করিতে পারিবে না। কেননা আল্লাহ পাক তাহাদিগকে দোযখের আগুন হইতে উত্তম বস্তু নূর দ্বারা পয়দা করিয়াছেন। হে আল্লাহ! তাহাদের আযাব হইতে আমাদিগকে রক্ষা করুন। মালেক (আঃ) পাপীগণকে দোযখে ফেলিতে নির্দেশ করিলে আযাবের ফেরেশতাগণ তাহাদিগকে দোযখে ফেলিবে। তখন তাহারা সমস্বরে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' বলিয়া ফরিয়াদ করিতে থাকিবে। অমনি দোযখের আগুন তাহাদের নিকট হইতে সরিয়া যাইবে। মালেক (আঃ) বলিবেন, “হে অগ্নি! সত্বর তাহাদিগকে গ্রাস কর।” আগুন বলিবে, “যাহারা কালেমায়ে তাইয়্যেবা পাঠ করিতেছে তাহাদিগকে আমরা কিরূপে গ্রাস করিব?” মালেক (আঃ) বলিবেন, “হে অগ্নি! আল্লাহ পাক এমতাবস্থায়ই গ্রাস করিবার জন্য নির্দেশ দিয়াছেন; সুতরাং অতিসত্ত্বর গ্রাস কর।” তখন তাহারা কালেমা পাঠ হইতে বিরত থাকিবে এবং আগুন তাহাদিগকে গ্রাস করিবে। দোযখের আগুন কাহারও পা, কাহারও হাঁটু, কাহার ও নাভি এবং কাহারও গলা পর্যন্ত জ্বালাইতে থাকিবে। যখন আগুন মুখমন্ডল গ্রাস করিতে চাহিবে তখন মালেক (আঃ) বলিবেন, “হে আগুন! মুখমন্ডল জ্বালাইও না, কেননা উহাদ্বারা সে আল্লাহকে সিজদাহ করিয়াছে। তাহার অন্তরকে জ্বালাইও না, কেননা সে রমজান মাসের রোযায় ক্ষুধা ও পিপাসার মোকাবেলা করিয়া আল্লাহকে রাজী করিয়াছেন। তারপর যতদিন আল্লাহ পাক ইচ্ছা করিবেন, ততদিন তাহারা দোযখের আযাব ভোগ করিবে।”
পরবর্তী পর্ব-

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন