নবী করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলিয়াছেন, “দোযখীগণ ফরিয়াদ করিবে, হে আল্লাহ! দোযখের আগুন আমাদিগকে চতুর্দিক হইতে ঘিরিয়া ফেলিয়াছে। আমরা সংকীর্ণ অবস্থায় আবদ্ধ হইয়া গিয়াছি।” তখন হাজার বিনয়েও তাহাদের আযাব কম করা হইবে না বরং নির্বাক রাখিবার জন্য তাহাদের গলায় তৌক পরাইয়া দেওয়া হইবে। এই কষ্ট ও যাতনা যখন অসহ্য হইবে তখন তাহারা চীৎকার করিতে থাকিবে। পরিশেষে অধৈর্য হইয়া মৃত্যু কামনা করিবে। এইবার কঠিন জিঞ্জির দ্বারা তাহাদিগকে দোযখে বাঁধিয়া রাখা হইবে। সেই কঠিন আযাব ও সংকীর্ণ গন্ডিতে থাকিয়া তাহারা চীৎকার করিবে। তাহাদের শরীর পচিয়া পুঁজের স্রোত বহিতে থাকিবে। তাহাদের শরীর ও মুখমন্ডল কুৎসিত হইয়া যাইবে। দোযখীগণ চীৎকার করিয়া বলিবে, “হে আল্লাহ! কু-অভ্যাস আমাদিগকে পাপ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল। অতএব আমরা পাপী ছিলাম। হে আল্লাহ! একদিনের জন্য হইলেও আমাদের আযাব কমাইয়া দাও। কেননা আমরা বিশ্বাসী হইয়াছি।”
হাদীস শরীফে আরও আছে যে, আল্লাহ পাক দোযখীদের জন্য একটি পাহাড় তৈরি করিয়া রাখিয়াছেন। তাহারা আল্লাহর নির্দেশক্রমে এক বৎসর একাদিক্রমে অধঃমুখে চলিয়া উহার শীর্ষদেশে উঠিলে উহা কাঁপিতে শুরু করিবে এবং সকল আরোহী ছিটকাইয়া অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভাঙ্গিয়া অতলতলে পড়িয়া যাইবে।”
হাদীস শরীফে আরও আছে যে, দোযখীগণ আল্লাহর নিকট বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করিলে একখন্ড কাল মেঘ তাহাদের উপর দেখিতে পাইবে এবং তাহারা মনে করিবে যে, সত্বরই আল্লাহর রহম বর্ষিত হইবে এবং আযাব কিছুটা কম হইবে ও তাহাদের পিপাসার নিবৃত্তি হইবে; কিন্তু উহা হইতে দোযখের সাপ, বিচ্ছু ও প্রস্তরখণ্ড তাহাদের উপর পতিত হইবে। আবার এক হাজার বৎসর পর্যন্ত তাহারা বৃষ্টির জন্য আবেদন করিলে পূর্বের ন্যায় একখন্ড কাল মেঘ দেখিয়া মনে করিবে বৃষ্টি হইবে; কিন্তু উহা হইতে কাল রংএর প্রকান্ড বিষাক্ত সাপ বর্ষিত হইবে। উহাদের বিষের যাতনা এক হাজার বৎসর পর্যন্ত বিদ্যমান থাকিবে। যেমন, আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন, “তাহাদের অশান্তি ও ফ্যাসাদের কারণে আমি তাহাদের আযাবকে কঠিন হইতে কঠিনতর করিয়া দিয়াছি।”
তিনি আরও বলিয়াছেন, “দোযখীগণ বিনয়ের সহিত সত্তর হাজার বৎসর পর্যন্ত হযরত মালেক (আঃ)এর নিকট ফরিয়াদ করিলে তিনি নিশ্চুপ থাকিবেন। তারপর তাহারা আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করিয়া বলিবে, “হে আল্লাহ! হযরত মালেক (আঃ) আমাদের আবেদন মঞ্জুর করিতেছেন না।
তারপর মালেক (আঃ) কে লক্ষ্য করিয়া বলিবেন, “হে মালেক! তাছযিন সরোবর হইতে শুধু এক অঞ্জলি পানি পান করিতে দাও। ” আগুন আমাদের হাড়, মাংস, শরীর ও হৃদয় জ্বালাইয়া দিয়াছে। পরিশেষে হযরত মালেক (আঃ) জাহান্নাম হইতে এক অঞ্জলি পানি তাহাদিগকে দিবেন। ঐ পানি এত বিষাক্ত হইবে যে, হাতে লইলে অঙ্গুলি খসিয়া পড়িবে এবং মুখের নিকট পৌছিবামাত্র মুখমন্ডল, চক্ষু ও চামড়া খসিয়া পড়িবে এবং ঐ পানি উদরে পরিবামাত্র নাড়িভুড়ি ও কলিজা খন্ড-বিখন্ড হইয়া যাইবে।”
হাদীস শরীফে আরও আছে যে, 'দোযখীগণ যখন আহারের জন্য ফরিয়াদ করিবে তখন তাহাদিগকে যাক্কুম নামক কাঁটাযুক্ত গাছ ভক্ষণ করিতে দেওয়া হইবে। উহা ভক্ষণ করিবামাত্র উদরস্থ সমস্ত বস্তু টগবগ করিয়া ফুটিতে থাকিবে এবং দন্তরাজি পড়িয়া . যাইবে ও মাথার মগজ উথলিয়া পড়িবে এবং মুখ হইতে আগুনের শিখা বাহির হইতে থাকিবে। উহার যাতনা এতই পীড়াদায়ক হইবে যে, উদরস্থ নাড়ি-ভুড়ি গলিয়া পড়িবে।” হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলিয়াছেন যে, দোযখীদিগকে কাতরান রঞ্জিত কাপড় পড়িতে দেওয়া হইবে। উক্ত পোশাক পড়িবামাত্র চামড়া খসিয়া পড়িবে এবং দোযখীগণ অন্ধ হইয়া যাইবে। তাহাদের বাকশক্তি রহিত হইয়া যাইবে এবং তাহারা বধির হইয়া যাইবে। ক্ষুধার্ত ব্যক্তিগণ খাদ্য ভক্ষণ করিতে চায়, কিন্তু দোযখীগণ তাহাও চাহিবে না। মুমূর্ষু ব্যক্তি দীর্ঘায়ু কামনা করে, দোযখীগণ তাহাও করিবে না; কিন্তু তাহারা মৃত্যু কামনা করিবে মৃত্যু হইবে না ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন