মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ৭
পরামর্শ পরিষদ ও কর্মকর্তাদের গুণাবলী ও দায়িত্ব
রাষ্ট্রপতি যেহেতু রাষ্ট্রের উপরোক্ত ব্যবস্থাপনা ও কল্যাণমূলক কার্যকলাপের সব কিছু একা করতে পারেন না, তাই স্বভাবতঃই সহায়ক ব্যক্তিবর্গ থাকতে হবে। উক্ত সহায়ক লোকদের জন্য পয়লা শর্ত হল তাদের অবশ্যই যোগ্য ও আমানতদার হতে হবে। তেমনি রাষ্ট্রপতির প্রতি বাহ্যিক ও আন্তরিক আনুগত্য ও আস্থা থাকতে হবে। যার ভেতরে উপরোক্ত গুণাবলীর অভাব পরিলক্ষিত হবে তাকে পদচ্যুত করতে হবে। যদি রাষ্ট্রপতি তাকে পদচ্যুত করতে অবহেলা করেন, তা হলে তিনি যেন রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। পরন্তু নিজের অবস্থাও খারাপ করে ফেললেন।
এ কারণেই রাষ্ট্রীয় কাজে তাঁর এমন লোককে নিয়োগ করা উচিত নয়, যাকে তিনি পদচ্যুত করতে পারবেন না। তেমনি এমন কোন ঘনিষ্ঠ আপনজনকে তাঁর নিয়োগ করা উচিত নয় যাকে অপসারণ করা তাঁর জন্য অশোভন হবে।
রাষ্ট্রপতির উচিত, তাঁর প্রতি যারা আন্তরিক তাদের দিকে নজর রাখা। কারণ কিছু লোক ভয়ে আর কিছু লোক লালসায় তাঁর প্রতি প্রীতি দেখায়। এ ধরনের বন্ধুদের কোন কিছুর মাধ্যমে কৌশলে জড়িয়ে রাখা চাই।
তবে কিছু লোক অত্যন্ত আন্তরিকতা নিয়েই তাঁকে ভালবাসে। তাই তাদের লাভকে নিজের লাভ ও তাদের ক্ষতিকে নিজের ক্ষতি মনে করা উচিত। মূলতঃ এক ধরনের লোক প্রকৃতিগত ভাবেই নিঃস্বার্থ ও সরল স্বভাবের হয়ে থাকে। এরা সেই শ্রেণীর লোক।
রাষ্ট্রপতির উচিত নয় কারো থেকে তার যোগ্যতা ও ক্ষমতার বাইরে কিছু আশা করা। তাঁর সহায়ক ব্যক্তিবর্গ চার শ্রেণীর হতে পারে। একদল হল প্রতিরক্ষা ও শান্তিরক্ষী বাহিনীর লোক। রাষ্ট্রকে বহিঃশত্রু ও অভ্যন্তরীণ দুষ্কৃতকারীদের হাত থেকে রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব হবে। তারা দেহের সেই হাত যা সর্বদা সশস্ত্র থাকে। এক দল হবে দক্ষ ও কুশলী কর্মচারী। তারা মানব দেহের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতার সাথে তুলনীয়। একদল হবে পরামর্শদাতা, তারা মানব দেহের বুদ্ধিবৃত্তি ও মানবতার সাথে তুলনীয়। রাষ্ট্রপতির সাথে অপরিহার্য যা তা হচ্ছে প্রতি নিয়ত তাদের খবরাখবর রাখা ও ভাল-মন্দ দেখা।
রাষ্ট্রপতি ও তার উক্ত সহায়কবৃন্দ যখন জনগণের কর্মচারী হয়ে অহরহ তাদের কল্যাণে নিয়োজিত হয়, তখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব হয়ে যায় তাদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা। তবে রাজস্ব ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে সহজ সরল পন্থা অনুসরণ করা চাই। তাতে যেন জনগণের ক্ষতি ও হয়রানী দেখা না দেয়। অথচ রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনও যেন মিটে যায়। প্রত্যেক ব্যক্তির কিংবা প্রতিটি মালামালের ওপর ট্যাক্স বসানো উচিত নয়।
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রনায়কগণ এ ব্যাপারে একমত যে, শুধু সচ্ছল লোকের ওপর ট্যাক্স হওয়া উচিত। যেমন পশু সম্পদ কৃষিকাজ দ্রব্য, কিংবা ব্যবসায় মালামালের ওপর ট্যাক্স হতে পারে। তাতেও যদি রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন পূরণ না হয়, তা হলে পেশাদার লোকদের ওপর আয়কর ধার্য করা যেতে পারে।
রাষ্ট্রপতির এটাও অপরিহার্য দায়িত্ব যে, সেনাবাহিনীকে তিনি সে ভাবেই গড়ে তুলবেন, যেভাবে এক দক্ষ অশ্বারোহী তার অশ্বকে গড়ে তোলে। কোন ঘোড়ার কি চাল-চলন, কোনটির কোন বদঅভ্যাস, কোনটির দৌড় ও দোলা কিরূপ, কোটি আরোহীকে ঠিকভাবে নেয়, আর কোনটি ফেলে দিতে চায়, তা তার ভাল ভাবে জানা থাকে এবং সে ভাবেই ব্যবস্থা নিয়ে সে সেগুলোকে কাজে লাগায়। কখন আদর করতে হবে, কখন চাবুক মারতে হবে তা সে বুঝতে পারে। তাই যখন তারা ঘোড়া কোন অনুভিপ্রেত স্বভাব প্রকাশ করে, তার শৈথিল্য চলে যায়, অথচ সেটা কোন পেরেশানীর শিকার হয় না। কারণ, কি জন্য তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে সেটা সে অনায়াসেই বুঝতে পায়। এভাবে যখন যে স্বভাবের জন্য সেটাকে শিক্ষা দেয়া হয় সেটা যদি তার সামনে সুস্পষ্ট করে তুলে ধরা যায়, তা হলে সেটা তার অন্তরে স্থায়ীভাবে দাগ কাটে। ফলে সেই স্বভাবের পুনরাবৃত্তির ভয়ে এগিয়ে চলে। তথাপি সেটার এ ভয়টাকে স্বভাবে পরিণত করা পর্যন্ত সে সতর্কতার সাথে এ পরিবর্তন লক্ষ্য করতে থাকে। যখন দেখতে পায় যে, কোনরূপ সতর্কতা ছাড়াই সেটা স্বাভাবিকভাবে সদাচরণ করে চলে, তখনই কেবল সে নিশ্চিত হয়ে থাকে।
ঠিক এ পদ্ধতিতেই সেনাবাহিনীকে সুশৃঙ্খল করে গড়ে তোলা অপরিহার্য। তারা যেন তাদের করণীয় ও বর্জনীয় কাজগুলো যথাযথ ভাবে জানতে পারে এবং সেভাবে নিজেদের পরিপূর্ণভাবে গড়ে তুলতে পারে। সেনানায়কদের সেদিকে সদা-সতর্ক দৃষ্টি থাকতে এবং তাদের থেকেও কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার বাইরে কিছু প্রকাশ না পায় সেদিকে খেয়াল রাখবে। রাষ্ট্রপতির এ সহায়ক শক্তিগুলোর সংখ্যার নির্দিষ্ট কোন সীমারেখা থাকবে না। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে তা কমানো-বাড়ানো হবে। কারণ, কখনও কোন কাজে একজনই যথেষ্ট হয়, কখনও আবার একাধিক লোকের প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে মূল কর্মকর্তা হবেন পাঁচ জন।
এক, প্রধান বিচারপতি। তিনি হবেন পুরুষ, প্রাপ্ত বয়স্ক, স্বাধীন, বিজ্ঞ, ধীশক্তি সম্পন্ন ও যোগ্য। তাকে তাঁর বিষয়গত বিদ্যায় পারদর্শী হতে হবে এবং পক্ষ-বিপক্ষের বক্তব্যের মারপ্যাঁচ ও ছলচাতুরী সম্পর্কে ওয়াকিফহাল থাকতে হবে। স্বভাবে দৃঢ়তা ও ধৈর্য্য থাকতে হবে।
বিচার করতে হলে তাকে দুটো ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমেই বিচার্য ঘটনাটি বিশ্লেষণ করে তাঁর দেখতে হবে যে, এটা আদৌ কোন ঘটনা কিনা। যদি সত্যি কোন ঘটনা হয়, তা হলে সেটা জুলুম-বঞ্চনার ব্যাপার, না ভুল বুঝা-বুঝির ফলে সৃষ্ট আপোষযোগ্য ব্যাপার। দ্বিতীয়তঃ তাঁর দেখতে হবে যে, বাদী-বিবাদী মূলত তার প্রতিপক্ষের কাছে কি চায় এবং কার চাওয়াটা সঠিক, আর কারটি সঠিক নয়। তাছাড়া ঘটনা জানার সূত্রগুলোও বিশ্লেষণ করে দেখা চাই। কেননা, একপক্ষের হয়ত এরূপ সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ রয়েছে যার ওপর কারো কোন সংশয় দেখা দেবে না। পক্ষান্তরে প্রতিপক্ষের দলীল-প্রমাণ অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও সংশয়যুক্ত। এ সবই বিচার-বিশ্লেষণ সাপেক্ষ ও এগুলো পুংখানুপুংখ বিশ্লেষণ করেই রায় দিতে হবে।
দুই, প্রধান সেনাপতি। প্রধান সেনাপতিকে অবশ্যই সেনা সরঞ্জাম, সমরোপকরণ ও সমর কৌশল সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকেফহাল হতে হবে। তাকে সাহসী ও শক্তিশালী লোক সংগ্রহ করতে হবে। প্রতি ব্যক্তির কর্মক্ষমতা ও যোগ্যতা জানতে হবে। সৈন্যদের প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা নিয়োগের কলাকৌশল ভালভাবে জানা চাই। শত্রুর ঘাঁটিসমূহ ও আক্রমণ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাকে ওয়াকেফহাল থাকতে হবে।
তিন, পুলিশ প্রধান। শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রধানকে অবশ্যই সাহসী ও সুদক্ষ পুরুষ হতে হবে। কিভাবে রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা যায় ও শান্তি ভংগকারীদের শায়েস্তা করতে হবে, তা তাকে ভালভাবেই জানতে হবে। তার চরিত্রেও দৃঢ়তা ও ধৈর্য্য থাকতে হবে। তাকে অবশ্যই সেই স্বভাবের লোকদের একজন হতে হবে, যারা কোন অন্যায় দেখে চুপ থাকতে পারে না। পুলিশ প্রধান যখন এ স্বভাবের হবেন, তখন স্বভাবতঃই তিনি অনুরূপ স্বভাবের লোকই বেছে বেছে প্রত্যেক এলাকায় দায়িত্বশীলদের শ্রেণীতে নিযুক্ত করবেণ। তারা অবশ্যই স্ব-স্ব এলাকার খবরাখবর সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হবেন। তাদের মাধ্যমে তিনি সারা দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করবেন। যখন প্রয়োজন তখনই তাদের কাজের কৈফিয়ত নেবেন।
চার, রাজস্ব সচিব। সমগ্র রাজস্ব বিভাগে কর্মচারী নিয়োগ, সঠিক পাত্র থেকে রাজস্ব আদায় ও যথাযথ ক্ষেত্রে তা বিতরণ, তাঁর দায়িত্বে থাকে।
পাঁচ, প্রাইভেট সেক্রেটারী। রাষ্ট্রপ্রধানের করণীয় ব্যাপারগুলোই তাঁকে সাহায্য করা ও তার ব্যক্তিগত ব্যাপার তদারক করাই তার দায়িত্ব। কারণ রাষ্ট্রীয় সার্বিক দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত করার ফলে রাষ্ট্রপ্রধান তাঁর ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের অবকাশ পান না।
রাষ্ট্রপতি যেহেতু রাষ্ট্রের উপরোক্ত ব্যবস্থাপনা ও কল্যাণমূলক কার্যকলাপের সব কিছু একা করতে পারেন না, তাই স্বভাবতঃই সহায়ক ব্যক্তিবর্গ থাকতে হবে। উক্ত সহায়ক লোকদের জন্য পয়লা শর্ত হল তাদের অবশ্যই যোগ্য ও আমানতদার হতে হবে। তেমনি রাষ্ট্রপতির প্রতি বাহ্যিক ও আন্তরিক আনুগত্য ও আস্থা থাকতে হবে। যার ভেতরে উপরোক্ত গুণাবলীর অভাব পরিলক্ষিত হবে তাকে পদচ্যুত করতে হবে। যদি রাষ্ট্রপতি তাকে পদচ্যুত করতে অবহেলা করেন, তা হলে তিনি যেন রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। পরন্তু নিজের অবস্থাও খারাপ করে ফেললেন।
এ কারণেই রাষ্ট্রীয় কাজে তাঁর এমন লোককে নিয়োগ করা উচিত নয়, যাকে তিনি পদচ্যুত করতে পারবেন না। তেমনি এমন কোন ঘনিষ্ঠ আপনজনকে তাঁর নিয়োগ করা উচিত নয় যাকে অপসারণ করা তাঁর জন্য অশোভন হবে।
রাষ্ট্রপতির উচিত, তাঁর প্রতি যারা আন্তরিক তাদের দিকে নজর রাখা। কারণ কিছু লোক ভয়ে আর কিছু লোক লালসায় তাঁর প্রতি প্রীতি দেখায়। এ ধরনের বন্ধুদের কোন কিছুর মাধ্যমে কৌশলে জড়িয়ে রাখা চাই।
তবে কিছু লোক অত্যন্ত আন্তরিকতা নিয়েই তাঁকে ভালবাসে। তাই তাদের লাভকে নিজের লাভ ও তাদের ক্ষতিকে নিজের ক্ষতি মনে করা উচিত। মূলতঃ এক ধরনের লোক প্রকৃতিগত ভাবেই নিঃস্বার্থ ও সরল স্বভাবের হয়ে থাকে। এরা সেই শ্রেণীর লোক।
রাষ্ট্রপতির উচিত নয় কারো থেকে তার যোগ্যতা ও ক্ষমতার বাইরে কিছু আশা করা। তাঁর সহায়ক ব্যক্তিবর্গ চার শ্রেণীর হতে পারে। একদল হল প্রতিরক্ষা ও শান্তিরক্ষী বাহিনীর লোক। রাষ্ট্রকে বহিঃশত্রু ও অভ্যন্তরীণ দুষ্কৃতকারীদের হাত থেকে রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব হবে। তারা দেহের সেই হাত যা সর্বদা সশস্ত্র থাকে। এক দল হবে দক্ষ ও কুশলী কর্মচারী। তারা মানব দেহের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতার সাথে তুলনীয়। একদল হবে পরামর্শদাতা, তারা মানব দেহের বুদ্ধিবৃত্তি ও মানবতার সাথে তুলনীয়। রাষ্ট্রপতির সাথে অপরিহার্য যা তা হচ্ছে প্রতি নিয়ত তাদের খবরাখবর রাখা ও ভাল-মন্দ দেখা।
রাষ্ট্রপতি ও তার উক্ত সহায়কবৃন্দ যখন জনগণের কর্মচারী হয়ে অহরহ তাদের কল্যাণে নিয়োজিত হয়, তখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব হয়ে যায় তাদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা। তবে রাজস্ব ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে সহজ সরল পন্থা অনুসরণ করা চাই। তাতে যেন জনগণের ক্ষতি ও হয়রানী দেখা না দেয়। অথচ রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনও যেন মিটে যায়। প্রত্যেক ব্যক্তির কিংবা প্রতিটি মালামালের ওপর ট্যাক্স বসানো উচিত নয়।
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রনায়কগণ এ ব্যাপারে একমত যে, শুধু সচ্ছল লোকের ওপর ট্যাক্স হওয়া উচিত। যেমন পশু সম্পদ কৃষিকাজ দ্রব্য, কিংবা ব্যবসায় মালামালের ওপর ট্যাক্স হতে পারে। তাতেও যদি রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন পূরণ না হয়, তা হলে পেশাদার লোকদের ওপর আয়কর ধার্য করা যেতে পারে।
রাষ্ট্রপতির এটাও অপরিহার্য দায়িত্ব যে, সেনাবাহিনীকে তিনি সে ভাবেই গড়ে তুলবেন, যেভাবে এক দক্ষ অশ্বারোহী তার অশ্বকে গড়ে তোলে। কোন ঘোড়ার কি চাল-চলন, কোনটির কোন বদঅভ্যাস, কোনটির দৌড় ও দোলা কিরূপ, কোটি আরোহীকে ঠিকভাবে নেয়, আর কোনটি ফেলে দিতে চায়, তা তার ভাল ভাবে জানা থাকে এবং সে ভাবেই ব্যবস্থা নিয়ে সে সেগুলোকে কাজে লাগায়। কখন আদর করতে হবে, কখন চাবুক মারতে হবে তা সে বুঝতে পারে। তাই যখন তারা ঘোড়া কোন অনুভিপ্রেত স্বভাব প্রকাশ করে, তার শৈথিল্য চলে যায়, অথচ সেটা কোন পেরেশানীর শিকার হয় না। কারণ, কি জন্য তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে সেটা সে অনায়াসেই বুঝতে পায়। এভাবে যখন যে স্বভাবের জন্য সেটাকে শিক্ষা দেয়া হয় সেটা যদি তার সামনে সুস্পষ্ট করে তুলে ধরা যায়, তা হলে সেটা তার অন্তরে স্থায়ীভাবে দাগ কাটে। ফলে সেই স্বভাবের পুনরাবৃত্তির ভয়ে এগিয়ে চলে। তথাপি সেটার এ ভয়টাকে স্বভাবে পরিণত করা পর্যন্ত সে সতর্কতার সাথে এ পরিবর্তন লক্ষ্য করতে থাকে। যখন দেখতে পায় যে, কোনরূপ সতর্কতা ছাড়াই সেটা স্বাভাবিকভাবে সদাচরণ করে চলে, তখনই কেবল সে নিশ্চিত হয়ে থাকে।
ঠিক এ পদ্ধতিতেই সেনাবাহিনীকে সুশৃঙ্খল করে গড়ে তোলা অপরিহার্য। তারা যেন তাদের করণীয় ও বর্জনীয় কাজগুলো যথাযথ ভাবে জানতে পারে এবং সেভাবে নিজেদের পরিপূর্ণভাবে গড়ে তুলতে পারে। সেনানায়কদের সেদিকে সদা-সতর্ক দৃষ্টি থাকতে এবং তাদের থেকেও কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার বাইরে কিছু প্রকাশ না পায় সেদিকে খেয়াল রাখবে। রাষ্ট্রপতির এ সহায়ক শক্তিগুলোর সংখ্যার নির্দিষ্ট কোন সীমারেখা থাকবে না। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে তা কমানো-বাড়ানো হবে। কারণ, কখনও কোন কাজে একজনই যথেষ্ট হয়, কখনও আবার একাধিক লোকের প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে মূল কর্মকর্তা হবেন পাঁচ জন।
এক, প্রধান বিচারপতি। তিনি হবেন পুরুষ, প্রাপ্ত বয়স্ক, স্বাধীন, বিজ্ঞ, ধীশক্তি সম্পন্ন ও যোগ্য। তাকে তাঁর বিষয়গত বিদ্যায় পারদর্শী হতে হবে এবং পক্ষ-বিপক্ষের বক্তব্যের মারপ্যাঁচ ও ছলচাতুরী সম্পর্কে ওয়াকিফহাল থাকতে হবে। স্বভাবে দৃঢ়তা ও ধৈর্য্য থাকতে হবে।
বিচার করতে হলে তাকে দুটো ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমেই বিচার্য ঘটনাটি বিশ্লেষণ করে তাঁর দেখতে হবে যে, এটা আদৌ কোন ঘটনা কিনা। যদি সত্যি কোন ঘটনা হয়, তা হলে সেটা জুলুম-বঞ্চনার ব্যাপার, না ভুল বুঝা-বুঝির ফলে সৃষ্ট আপোষযোগ্য ব্যাপার। দ্বিতীয়তঃ তাঁর দেখতে হবে যে, বাদী-বিবাদী মূলত তার প্রতিপক্ষের কাছে কি চায় এবং কার চাওয়াটা সঠিক, আর কারটি সঠিক নয়। তাছাড়া ঘটনা জানার সূত্রগুলোও বিশ্লেষণ করে দেখা চাই। কেননা, একপক্ষের হয়ত এরূপ সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ রয়েছে যার ওপর কারো কোন সংশয় দেখা দেবে না। পক্ষান্তরে প্রতিপক্ষের দলীল-প্রমাণ অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও সংশয়যুক্ত। এ সবই বিচার-বিশ্লেষণ সাপেক্ষ ও এগুলো পুংখানুপুংখ বিশ্লেষণ করেই রায় দিতে হবে।
দুই, প্রধান সেনাপতি। প্রধান সেনাপতিকে অবশ্যই সেনা সরঞ্জাম, সমরোপকরণ ও সমর কৌশল সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকেফহাল হতে হবে। তাকে সাহসী ও শক্তিশালী লোক সংগ্রহ করতে হবে। প্রতি ব্যক্তির কর্মক্ষমতা ও যোগ্যতা জানতে হবে। সৈন্যদের প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা নিয়োগের কলাকৌশল ভালভাবে জানা চাই। শত্রুর ঘাঁটিসমূহ ও আক্রমণ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাকে ওয়াকেফহাল থাকতে হবে।
তিন, পুলিশ প্রধান। শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রধানকে অবশ্যই সাহসী ও সুদক্ষ পুরুষ হতে হবে। কিভাবে রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা যায় ও শান্তি ভংগকারীদের শায়েস্তা করতে হবে, তা তাকে ভালভাবেই জানতে হবে। তার চরিত্রেও দৃঢ়তা ও ধৈর্য্য থাকতে হবে। তাকে অবশ্যই সেই স্বভাবের লোকদের একজন হতে হবে, যারা কোন অন্যায় দেখে চুপ থাকতে পারে না। পুলিশ প্রধান যখন এ স্বভাবের হবেন, তখন স্বভাবতঃই তিনি অনুরূপ স্বভাবের লোকই বেছে বেছে প্রত্যেক এলাকায় দায়িত্বশীলদের শ্রেণীতে নিযুক্ত করবেণ। তারা অবশ্যই স্ব-স্ব এলাকার খবরাখবর সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হবেন। তাদের মাধ্যমে তিনি সারা দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করবেন। যখন প্রয়োজন তখনই তাদের কাজের কৈফিয়ত নেবেন।
চার, রাজস্ব সচিব। সমগ্র রাজস্ব বিভাগে কর্মচারী নিয়োগ, সঠিক পাত্র থেকে রাজস্ব আদায় ও যথাযথ ক্ষেত্রে তা বিতরণ, তাঁর দায়িত্বে থাকে।
পাঁচ, প্রাইভেট সেক্রেটারী। রাষ্ট্রপ্রধানের করণীয় ব্যাপারগুলোই তাঁকে সাহায্য করা ও তার ব্যক্তিগত ব্যাপার তদারক করাই তার দায়িত্ব। কারণ রাষ্ট্রীয় সার্বিক দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত করার ফলে রাষ্ট্রপ্রধান তাঁর ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের অবকাশ পান না।
পরবর্তী পর্ব
মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ৮
আন্তঃরাষ্ট্রিক নীতিমালা
আন্তঃরাষ্ট্রিক নীতিমালা

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন