মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ১১
মানবিক বৈশিষ্ট্যের তারতম্য
জেনে রেখো, বীরত্ব ও অন্যান্য নৈতিক কল্যাণ সব মানুষের এক হয় না। তাতে মানুষে মানুষে বিভিন্নতা দেখা দেয়। কোন কোন মানুষের ভেতরে তো বীরত্ব গুণ একেবারেই অনুপস্থিত। হয়ত এমন কোন প্রতিকূল পরিবেশ তার অভ্যন্তরে বিরাজ করছে যার ফলে তার কাছ থেকে বীরত্ব আশাই করা যায় না। যেমন, নপুংসক কিংবা অত্যন্ত দুর্বল চিত্তের লোক বীরত্ব গুণ থেকে বঞ্চিত। কিছু লোক এমন আছে যে, সাধারণত তারা বীর নয়, কিন্তু সাহস সৃষ্টির কাজ, কথা ও সাহসী নেতৃত্বের আনুগত্য তাকে বীর বানায়। বীর নেতা ও সহকর্মীদের দৃষ্টান্ত, কথা ও কাজ তাকে বীরত্বপূর্ণ কাজে পা বাড়াতে উৎসাহিত করে।
মূলতঃ বেশ কিছু লোক এমন রয়েছে যাদের ভেতরে সুপ্ত যোগ্যতা বিদ্যমান। তবে শুরুতে তা দেখাতে গিয়ে স্বভাতই ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকে। তখন যদি তাকে থামিয়ে দেয়া হয়, তাহলে তার উৎসাহ দমে যায় ও অনিচ্ছা সত্ত্বেও চুপ হয়ে যায়। তখন যদি কেউ তার জন্মগত সুপ্ত প্রতিভার অনুরূপ কোন নির্দেশ দেয় তা তখন গন্ধ্রকে আগুন লাগার মতই জ্বলে ওঠে।
কিছু লোক এমন রয়েছে যার ভেতরে বিশেষ কোন যোগ্যতা পূর্ণ মাত্রায়ই দেয়া হয়েছে। সে কখনও চুপ থাকতে পারবে না, তার জাগ্রত গুণ তাকে চাংগা করে সামনে এগিয়ে নেবে। সে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবেই ছুটে চলবে। কোন কাপুরুষ তাকে হাজার ডেকেও ফেরাতে পারবেনা। এমন কি সমাজের কোন রীতি-নীতির প্রতিকূলতা কিংবা অনুকূলতার তোয়াক্কা না করেই সে তার বিশেষ গুণের সহজ বাস্তবায়ন ঘটিয়ে চলে। এ ধরনের ব্যক্তিই উক্ত গুণের লোকদের নেতৃত্ব দেয়। তার কোন নেতা বা প্রশিক্ষকের প্রয়োজন দেখা দেয় না। যারা এ যোগ্যতায় তার চেয়ে পেছনে, তাদের জন্য জরুরী হল তার পদ্ধতি, রীতি-নীতি, কার্যধারা অনুসরণ করা ও তার ঘটনাবলী স্মরণ করা! তাহলেই তার গুণ, কৃতিত্ব ও যোগ্যতার ততটুকু সে অর্জন করতে পারবে যতটুকু তার জন্যে নির্ধারিত রয়েছে।
এভাবে মানুষের যোগ্যতার তারতম্যের প্রকৃতি ও পরিবেশগত অবস্থাও সক্রিয় থাকে, যেমন, খিযির (আঃ) যে ছেলেটিকে হত্যা করেছিলেন সে প্রকৃতিগতভাবেই কাফির ছিল।
যেমন আল্লাহ বলেন, ‘সে বধির, বোবা ও অন্ধ তাই পথে আসবে না’।
কিছু লোক এমন রয়েছে, যার গুণ ও যোগ্যতা প্রকাশ না পেলেও সংস্কারের মাধ্যমে তা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। তবে সে জন্যে তার কঠোর সাধনা প্রয়োজন। তেমনি প্রয়োজন ক্রমাগত আমল করা। স্থায়ী আমলের প্রভাবে প্রবৃত্তি প্রভাবিক হয়। এ ধরনের লোকদের প্রয়োজন আম্বিয়ায়ে কেরামের প্রেরণাদায়ক দাওয়াত ও সংশোধন পদ্ধতি। এ ধরণের লোকই সর্বাধিক। আম্বিয়ায়ে কেরামের মিশনের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল এদের দিকেই।
একদল লোক এমন রয়েছে, যাদের ভেতর চারিত্রিক গুণাবলীর মৌল ভিত্তি প্রদত্ত হয়েছে। তাই তার কাজে ক্রটি-বিচ্যুতিও দেখা দেয়। কারণ, মূল গুণকে শাখা-প্রশাখায় ছড়িয়ে দিয়ে সকল কাজকর্ম সঠিকভাবে করার জন্য তার পথপ্রদর্শক ‘গুরু’ প্রয়োজন। এদের দিকে লক্ষ্য করেই আল্লাহ এরশাদ করে, “অচিরেই তাদের প্রদীপ জ্বলে উঠবে যদিও তাতে এখনও আগুন লাগানো হয়নি”। এদের লা হয় সাব্বাক!
মানব জাতির একটি স্তর হল আম্বিয়ায়ে কেরামের। যাদের ভেতর মানবিক গুণাবলীর পূর্ণতা ঘটেছে। তাদের এ পূর্ণতা যথাযথভাবে অনুসরণ কর, অনর্জিত গুণ অর্জন করা, অর্জিত গুণ বহাল রাখা ও অপূর্ণকে পূর্ণতার তালিম দেয়ার ব্যাপারে তাদের জন্য কোন পথ প্রদর্শক দরকার হয়না, এমন কি তাদের কারো কিছু বলতেও হয় না। তারা স্বভাব সুলভ ভাবে যা কিছু করেন তা অন্যদের জন্য অনুসরণযোগ্য বিধান ও পদ্ধতি হয়ে দাঁড়ায়। অন্য সব মানুষ তা স্মৃতিস্থ করে নিজেদের কর্মধারায় পরিণত করে। যখন কোন কর্মকার, ব্যবসায়ী ও তাদের মত অন্যান্য পেশাদার নিজেদের পেশা চালাতে গিয়ে পূর্বপুরুষ থেকে তা শিখে নিতে হয়, তখনসেই উচ্চাংগের নৈতিক উৎকর্ষ অর্জন কি করে উৎকৃষ্ট ও পূর্ণাঙ্গের চরিত্রের মহাপুরুষদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ ছাড়া সম্ভব হতে পারে? অথচ তা শুধু চেষ্টায়ও হয় না, আল্লাহ পাকের তওফীক অর্জন ছাড়া।
এ ব্যাপারটি এখন সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, আম্বিয়ায়ে কেরামের মুখাপেক্ষী হওয়ার একান্তই অপরিহার্য। তাঁদের অনুসরণ করা ও তাঁদের বাণী অনুশীলন করা অত্যন্ত জরুরী। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।
জেনে রেখো, বীরত্ব ও অন্যান্য নৈতিক কল্যাণ সব মানুষের এক হয় না। তাতে মানুষে মানুষে বিভিন্নতা দেখা দেয়। কোন কোন মানুষের ভেতরে তো বীরত্ব গুণ একেবারেই অনুপস্থিত। হয়ত এমন কোন প্রতিকূল পরিবেশ তার অভ্যন্তরে বিরাজ করছে যার ফলে তার কাছ থেকে বীরত্ব আশাই করা যায় না। যেমন, নপুংসক কিংবা অত্যন্ত দুর্বল চিত্তের লোক বীরত্ব গুণ থেকে বঞ্চিত। কিছু লোক এমন আছে যে, সাধারণত তারা বীর নয়, কিন্তু সাহস সৃষ্টির কাজ, কথা ও সাহসী নেতৃত্বের আনুগত্য তাকে বীর বানায়। বীর নেতা ও সহকর্মীদের দৃষ্টান্ত, কথা ও কাজ তাকে বীরত্বপূর্ণ কাজে পা বাড়াতে উৎসাহিত করে।
মূলতঃ বেশ কিছু লোক এমন রয়েছে যাদের ভেতরে সুপ্ত যোগ্যতা বিদ্যমান। তবে শুরুতে তা দেখাতে গিয়ে স্বভাতই ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকে। তখন যদি তাকে থামিয়ে দেয়া হয়, তাহলে তার উৎসাহ দমে যায় ও অনিচ্ছা সত্ত্বেও চুপ হয়ে যায়। তখন যদি কেউ তার জন্মগত সুপ্ত প্রতিভার অনুরূপ কোন নির্দেশ দেয় তা তখন গন্ধ্রকে আগুন লাগার মতই জ্বলে ওঠে।
কিছু লোক এমন রয়েছে যার ভেতরে বিশেষ কোন যোগ্যতা পূর্ণ মাত্রায়ই দেয়া হয়েছে। সে কখনও চুপ থাকতে পারবে না, তার জাগ্রত গুণ তাকে চাংগা করে সামনে এগিয়ে নেবে। সে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবেই ছুটে চলবে। কোন কাপুরুষ তাকে হাজার ডেকেও ফেরাতে পারবেনা। এমন কি সমাজের কোন রীতি-নীতির প্রতিকূলতা কিংবা অনুকূলতার তোয়াক্কা না করেই সে তার বিশেষ গুণের সহজ বাস্তবায়ন ঘটিয়ে চলে। এ ধরনের ব্যক্তিই উক্ত গুণের লোকদের নেতৃত্ব দেয়। তার কোন নেতা বা প্রশিক্ষকের প্রয়োজন দেখা দেয় না। যারা এ যোগ্যতায় তার চেয়ে পেছনে, তাদের জন্য জরুরী হল তার পদ্ধতি, রীতি-নীতি, কার্যধারা অনুসরণ করা ও তার ঘটনাবলী স্মরণ করা! তাহলেই তার গুণ, কৃতিত্ব ও যোগ্যতার ততটুকু সে অর্জন করতে পারবে যতটুকু তার জন্যে নির্ধারিত রয়েছে।
এভাবে মানুষের যোগ্যতার তারতম্যের প্রকৃতি ও পরিবেশগত অবস্থাও সক্রিয় থাকে, যেমন, খিযির (আঃ) যে ছেলেটিকে হত্যা করেছিলেন সে প্রকৃতিগতভাবেই কাফির ছিল।
যেমন আল্লাহ বলেন, ‘সে বধির, বোবা ও অন্ধ তাই পথে আসবে না’।
কিছু লোক এমন রয়েছে, যার গুণ ও যোগ্যতা প্রকাশ না পেলেও সংস্কারের মাধ্যমে তা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। তবে সে জন্যে তার কঠোর সাধনা প্রয়োজন। তেমনি প্রয়োজন ক্রমাগত আমল করা। স্থায়ী আমলের প্রভাবে প্রবৃত্তি প্রভাবিক হয়। এ ধরনের লোকদের প্রয়োজন আম্বিয়ায়ে কেরামের প্রেরণাদায়ক দাওয়াত ও সংশোধন পদ্ধতি। এ ধরণের লোকই সর্বাধিক। আম্বিয়ায়ে কেরামের মিশনের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল এদের দিকেই।
একদল লোক এমন রয়েছে, যাদের ভেতর চারিত্রিক গুণাবলীর মৌল ভিত্তি প্রদত্ত হয়েছে। তাই তার কাজে ক্রটি-বিচ্যুতিও দেখা দেয়। কারণ, মূল গুণকে শাখা-প্রশাখায় ছড়িয়ে দিয়ে সকল কাজকর্ম সঠিকভাবে করার জন্য তার পথপ্রদর্শক ‘গুরু’ প্রয়োজন। এদের দিকে লক্ষ্য করেই আল্লাহ এরশাদ করে, “অচিরেই তাদের প্রদীপ জ্বলে উঠবে যদিও তাতে এখনও আগুন লাগানো হয়নি”। এদের লা হয় সাব্বাক!
মানব জাতির একটি স্তর হল আম্বিয়ায়ে কেরামের। যাদের ভেতর মানবিক গুণাবলীর পূর্ণতা ঘটেছে। তাদের এ পূর্ণতা যথাযথভাবে অনুসরণ কর, অনর্জিত গুণ অর্জন করা, অর্জিত গুণ বহাল রাখা ও অপূর্ণকে পূর্ণতার তালিম দেয়ার ব্যাপারে তাদের জন্য কোন পথ প্রদর্শক দরকার হয়না, এমন কি তাদের কারো কিছু বলতেও হয় না। তারা স্বভাব সুলভ ভাবে যা কিছু করেন তা অন্যদের জন্য অনুসরণযোগ্য বিধান ও পদ্ধতি হয়ে দাঁড়ায়। অন্য সব মানুষ তা স্মৃতিস্থ করে নিজেদের কর্মধারায় পরিণত করে। যখন কোন কর্মকার, ব্যবসায়ী ও তাদের মত অন্যান্য পেশাদার নিজেদের পেশা চালাতে গিয়ে পূর্বপুরুষ থেকে তা শিখে নিতে হয়, তখনসেই উচ্চাংগের নৈতিক উৎকর্ষ অর্জন কি করে উৎকৃষ্ট ও পূর্ণাঙ্গের চরিত্রের মহাপুরুষদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ ছাড়া সম্ভব হতে পারে? অথচ তা শুধু চেষ্টায়ও হয় না, আল্লাহ পাকের তওফীক অর্জন ছাড়া।
এ ব্যাপারটি এখন সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, আম্বিয়ায়ে কেরামের মুখাপেক্ষী হওয়ার একান্তই অপরিহার্য। তাঁদের অনুসরণ করা ও তাঁদের বাণী অনুশীলন করা অত্যন্ত জরুরী। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।
পরবর্তী পর্ব
মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ১২
বৈশিষ্ট্য অর্জনে মানবের বিভিন্ন পদ্ধতি
বৈশিষ্ট্য অর্জনে মানবের বিভিন্ন পদ্ধতি

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন