মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ১৩
বৈশিষ্ট্য অর্জনে মানবের বিভিন্ন পদ্ধতি
জেনে রেখো, বৈশিষ্ট্য দু’ভাবে অর্জিত হয়। একটি পদ্ধতি হল, জৈব শক্তিকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলা। সে জন্যে এমন সব উপায়-উপকরণ ব্যবহার করা হয়, যাতে ইন্দ্রিয়গুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। সে সবের তৎপরতা শেষ হয়ে যায়, সেগুলোর জ্ঞান ও দহন উধাও হয়ে যায়। সার্বক্ষণিকভাবে দেহ ও মন সর্বশক্তিমানের দিকে নিবিষ্ট হয়। আত্মা সেই সব জ্ঞানই গ্রহন করে যা স্থান ও কালের সাথে কোনই সম্পর্ক রাখে না। যে সব বস্তুতে কোনই স্বাদ নেই তার ভেতরে সেই সব বস্তুর আকাঙ্ক্ষা জাগে। এমনকি সে লোকজনের সাথে মেলামেশা ছেড়ে দেয়। তাদের আকর্ষণের বস্তুগলো তার ভেতর বিকর্ষণ সৃষ্টি করে। তাদের ভয় পাবার জিনিসগুলোকে সে আদৌ ভয়ের চোখে দেখে না। জনমানব থেকে সে বিচ্চিন্নতা অবলম্বন করে। বিজ্ঞ, আলোকপ্রাপ্ত ও সুফী দরবেশগণ এই স্তরে পৌঁছার জন্য সচেষ্ট থাকেন। তবে তার ভেতরে খুব কম লোকই এ স্তরে পৌঁছতে পারেন। অন্যান্য সবাই সেটার আকাঙ্ক্ষা থাকে ও সর্বক্ষণ সেদিকে দৃষ্টি নিবন্ধ রাখে। তারপর কৃত্রিমভাবে সেরূপ হাবভাব প্রদর্শন করে।
দ্বিতীয় পদ্ধতিতে জৈবিক শক্তিকে বিচ্ছিন্ন না করে তাকে পরিশুদ্ধ করা হয়। তার বক্রতা দূর করা হয়। কিন্তু তার মূল শক্তি বহাল থাকে। তখন অবস্থাটা এই দাঁড়ায় যে, কোন এক বোবা লোক যেভাবে বাকসম্পন্ন লোকদের বলার ভংগীকে নকল করে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করে, ঠিক সেভাবেই জৈবিক শক্তিটি আত্মিক শক্তির কথা ও কাজকে অনুকরণ করে থাকে। যেমন, কোন চিত্রকর কোন ব্যক্তির মনের অবস্থা যেমন ভীতি, লজ্জা ইত্যাদি এমন ভাবে চিত্রিত করেন যা দেখামাত্র বুঝা যায়, এও ঠিক তেমনি ব্যাপার। যেমন, কোন সন্তানহারা জননী তার সন্তানের শোকে ইনিয়ে-বিনিয়ে দুর্বোধ্য ভাষায় যা কিছুই প্রকাশ করে তাতেই মানুষের ভেতর জননীর শোকটি রেখাপাত করে। এও ঠিক তেমনি ব্যাপার।
যখন আল্লাহ পাকের ব্যবস্থাপনা এ সিদ্ধান্ত নেয় যে, দুনিয়ার ব্যবস্থাপনার সব চাইতে প্রিয় ও সবচাইতে সহজ পদ্ধতিকে কাজে লাগানো হবে, গোটা মানব জাতির সংস্কার ও তাদের সকল ব্যাপার পরিশুদ্ধির ব্যবস্থা করা হবে এবং তাদের ইহ ও পরকালের সামগ্রিক কল্যাণ দান করা হবে, তাহলে পয়লা তিনি উপরোক্ত দ্বিতীয় পদ্ধটিটি কায়েমের ব্যবস্থা নেন। তখন সেদিকে মানুষকে ডাকার ও উদ্ধুদ্ধ করার জন্য দুনিয়ায় নবী-রাসূলদের পাঠান। তারপর পয়লা পদ্ধতিটির দিকে শুধুমাত্র প্রাসংগিক ইংগিত-ইশারা করে ছেড়ে দেন! পরিপূর্ণ দলীল-প্রমাণ শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত।
খোলাসা কথা এই যে, পয়লা পদ্ধতিটি শুধু তাদের জন্যে যাদের ভেতরে ‘লাহুতী” আকর্ষণ সর্বাধিক! এ ধরনের লোকের সংখ্যা খুবই নগণ্য। এ পদ্ধতিটি পথ দেখান তারাই যারা সংসার জীবন ত্যাগ করে এবং দুনিয়ায় তাদের দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার দায়িত্ব থাকে না! অবশ্য এ পদ্ধতির পরিপূর্ণতা কখনও দ্বিতীয় পদ্ধীতর সামগ্রিক ব্যাপারটি সামনে না রেখে অর্জিত হয় না। তাছঅড়া এ পদ্ধতিতে কোন না কোন মানবিক গুণ ও বৈশিষ্ট্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়। হয় তাব থেকে দুনিয়ার কোন সংস্কার সাধিত হবেনা, হয়তো পরকলের জন্যে তার আত্মিক পরিশুদ্ধি ঘটবে না। যদি সবাই সে পথ ধরে তাহলে পৃথিবী বিরান হয়ে যাবে। যদি তা করার জন্যে লোকদের নির্দেশ দেয়া হয়, তাহলে অসাধ্য সাধনের নির্দেশ দেয়া হয়। কারণ, কল্যাণকর ব্যবস্থাপনা মানবের স্বভাবজাত ব্যাপার বই নয়। তাই সমঝদার ও সংস্কারবাদী লোক দ্বিতীয় পদ্ধতি অনুসরণ করেন। তারাই দ্বীন দুনিয়ার নেতৃত্ব লাভ করেন। তাদের পদ্ধীতই কবুল হয় আর তাদের পদ্ধতিই অনুসৃত হয়। তাদেরই পদ্ধতির মাধ্যমে পূর্বসূরী পুণ্যাত্মাবৃন্দ ডান হাতে আমলনামা প্রাপকগণের সাফল্য অর্জন হয়েছে। এ শ্রেণীর লোকই দুনিয়ায় সর্বাধিক। এ পদ্ধতি মেধাবী, নির্বোধ, ব্যস্ত ও অবকাশ প্রাপ্ত সবারই অনুসরণযোগ্য। এতে কোন অসাধ্যতা ও কষ্ট নেই। আখেরাতের মুক্তির জন্যে নিজেকে যতখানি পরিশুদ্ধ ও সজ্জিত করা প্রয়োজন তা এতে রয়েছে। কারণ, এতে যে সব পুণ্য কাজে নির্ধারিত রয়েছে পারলৌকিক শান্তির জন্যে তা যথেষ্ট। এখন থাকে নিঃসঙ্গ থাকার বিধান। তা করবে, গেলে পাওয়া যাবে, যদিও স্বভাবতই সে সময়টি কারো জানা নেই। তাই কবি বলেন-
সে দিন তোমার আসছে ধেয়ে
যে দিনটিকে জানতে না
প্রস্তুতি যার রাখতেনা।।
মোটকথা মানবিক কল্যাণ ও সৌভাগ্যের সব পদ্ধতি পূর্ণভাবে আয়ত্ত করা অধিকাংশ লোকের পক্ষে প্রায় সাধ্যাতীত ব্যাপার! তাই সে সব ব্যাপারে অজ্ঞতায় ক্ষতির কিছু নেই।
জেনে রেখো, বৈশিষ্ট্য দু’ভাবে অর্জিত হয়। একটি পদ্ধতি হল, জৈব শক্তিকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলা। সে জন্যে এমন সব উপায়-উপকরণ ব্যবহার করা হয়, যাতে ইন্দ্রিয়গুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। সে সবের তৎপরতা শেষ হয়ে যায়, সেগুলোর জ্ঞান ও দহন উধাও হয়ে যায়। সার্বক্ষণিকভাবে দেহ ও মন সর্বশক্তিমানের দিকে নিবিষ্ট হয়। আত্মা সেই সব জ্ঞানই গ্রহন করে যা স্থান ও কালের সাথে কোনই সম্পর্ক রাখে না। যে সব বস্তুতে কোনই স্বাদ নেই তার ভেতরে সেই সব বস্তুর আকাঙ্ক্ষা জাগে। এমনকি সে লোকজনের সাথে মেলামেশা ছেড়ে দেয়। তাদের আকর্ষণের বস্তুগলো তার ভেতর বিকর্ষণ সৃষ্টি করে। তাদের ভয় পাবার জিনিসগুলোকে সে আদৌ ভয়ের চোখে দেখে না। জনমানব থেকে সে বিচ্চিন্নতা অবলম্বন করে। বিজ্ঞ, আলোকপ্রাপ্ত ও সুফী দরবেশগণ এই স্তরে পৌঁছার জন্য সচেষ্ট থাকেন। তবে তার ভেতরে খুব কম লোকই এ স্তরে পৌঁছতে পারেন। অন্যান্য সবাই সেটার আকাঙ্ক্ষা থাকে ও সর্বক্ষণ সেদিকে দৃষ্টি নিবন্ধ রাখে। তারপর কৃত্রিমভাবে সেরূপ হাবভাব প্রদর্শন করে।
দ্বিতীয় পদ্ধতিতে জৈবিক শক্তিকে বিচ্ছিন্ন না করে তাকে পরিশুদ্ধ করা হয়। তার বক্রতা দূর করা হয়। কিন্তু তার মূল শক্তি বহাল থাকে। তখন অবস্থাটা এই দাঁড়ায় যে, কোন এক বোবা লোক যেভাবে বাকসম্পন্ন লোকদের বলার ভংগীকে নকল করে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করে, ঠিক সেভাবেই জৈবিক শক্তিটি আত্মিক শক্তির কথা ও কাজকে অনুকরণ করে থাকে। যেমন, কোন চিত্রকর কোন ব্যক্তির মনের অবস্থা যেমন ভীতি, লজ্জা ইত্যাদি এমন ভাবে চিত্রিত করেন যা দেখামাত্র বুঝা যায়, এও ঠিক তেমনি ব্যাপার। যেমন, কোন সন্তানহারা জননী তার সন্তানের শোকে ইনিয়ে-বিনিয়ে দুর্বোধ্য ভাষায় যা কিছুই প্রকাশ করে তাতেই মানুষের ভেতর জননীর শোকটি রেখাপাত করে। এও ঠিক তেমনি ব্যাপার।
যখন আল্লাহ পাকের ব্যবস্থাপনা এ সিদ্ধান্ত নেয় যে, দুনিয়ার ব্যবস্থাপনার সব চাইতে প্রিয় ও সবচাইতে সহজ পদ্ধতিকে কাজে লাগানো হবে, গোটা মানব জাতির সংস্কার ও তাদের সকল ব্যাপার পরিশুদ্ধির ব্যবস্থা করা হবে এবং তাদের ইহ ও পরকালের সামগ্রিক কল্যাণ দান করা হবে, তাহলে পয়লা তিনি উপরোক্ত দ্বিতীয় পদ্ধটিটি কায়েমের ব্যবস্থা নেন। তখন সেদিকে মানুষকে ডাকার ও উদ্ধুদ্ধ করার জন্য দুনিয়ায় নবী-রাসূলদের পাঠান। তারপর পয়লা পদ্ধতিটির দিকে শুধুমাত্র প্রাসংগিক ইংগিত-ইশারা করে ছেড়ে দেন! পরিপূর্ণ দলীল-প্রমাণ শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত।
খোলাসা কথা এই যে, পয়লা পদ্ধতিটি শুধু তাদের জন্যে যাদের ভেতরে ‘লাহুতী” আকর্ষণ সর্বাধিক! এ ধরনের লোকের সংখ্যা খুবই নগণ্য। এ পদ্ধতিটি পথ দেখান তারাই যারা সংসার জীবন ত্যাগ করে এবং দুনিয়ায় তাদের দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার দায়িত্ব থাকে না! অবশ্য এ পদ্ধতির পরিপূর্ণতা কখনও দ্বিতীয় পদ্ধীতর সামগ্রিক ব্যাপারটি সামনে না রেখে অর্জিত হয় না। তাছঅড়া এ পদ্ধতিতে কোন না কোন মানবিক গুণ ও বৈশিষ্ট্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়। হয় তাব থেকে দুনিয়ার কোন সংস্কার সাধিত হবেনা, হয়তো পরকলের জন্যে তার আত্মিক পরিশুদ্ধি ঘটবে না। যদি সবাই সে পথ ধরে তাহলে পৃথিবী বিরান হয়ে যাবে। যদি তা করার জন্যে লোকদের নির্দেশ দেয়া হয়, তাহলে অসাধ্য সাধনের নির্দেশ দেয়া হয়। কারণ, কল্যাণকর ব্যবস্থাপনা মানবের স্বভাবজাত ব্যাপার বই নয়। তাই সমঝদার ও সংস্কারবাদী লোক দ্বিতীয় পদ্ধতি অনুসরণ করেন। তারাই দ্বীন দুনিয়ার নেতৃত্ব লাভ করেন। তাদের পদ্ধীতই কবুল হয় আর তাদের পদ্ধতিই অনুসৃত হয়। তাদেরই পদ্ধতির মাধ্যমে পূর্বসূরী পুণ্যাত্মাবৃন্দ ডান হাতে আমলনামা প্রাপকগণের সাফল্য অর্জন হয়েছে। এ শ্রেণীর লোকই দুনিয়ায় সর্বাধিক। এ পদ্ধতি মেধাবী, নির্বোধ, ব্যস্ত ও অবকাশ প্রাপ্ত সবারই অনুসরণযোগ্য। এতে কোন অসাধ্যতা ও কষ্ট নেই। আখেরাতের মুক্তির জন্যে নিজেকে যতখানি পরিশুদ্ধ ও সজ্জিত করা প্রয়োজন তা এতে রয়েছে। কারণ, এতে যে সব পুণ্য কাজে নির্ধারিত রয়েছে পারলৌকিক শান্তির জন্যে তা যথেষ্ট। এখন থাকে নিঃসঙ্গ থাকার বিধান। তা করবে, গেলে পাওয়া যাবে, যদিও স্বভাবতই সে সময়টি কারো জানা নেই। তাই কবি বলেন-
সে দিন তোমার আসছে ধেয়ে
যে দিনটিকে জানতে না
প্রস্তুতি যার রাখতেনা।।
মোটকথা মানবিক কল্যাণ ও সৌভাগ্যের সব পদ্ধতি পূর্ণভাবে আয়ত্ত করা অধিকাংশ লোকের পক্ষে প্রায় সাধ্যাতীত ব্যাপার! তাই সে সব ব্যাপারে অজ্ঞতায় ক্ষতির কিছু নেই।
পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন