এলম ও আমল পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত—
স্মরণ রাখ যে এলমের সাথে সাথে আমল করা জরুরী। এলম ব্যতীত আমল এবং আমল ব্যতীত এলম কোন উপকারেই আসে না। যে এলমের সাথে আমল না থাকে তা অজ্ঞতারই নামান্তর। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন- "আহলে কিতাবের একটি সম্প্রদায় আল্লাহর কিতাবকে এমনভাবে বর্জন করেছে যে ঐ সম্বন্ধে যেন তাদের কোন জ্ঞানই নেই।” (সূরা: আল-বাকারা : ১০১)
এতে প্রমাণিত হয় যে আমলবিহীন এলমের অধিকারী বিদ্বান হিসেবে পরিগণিত নয়। এটা দ্বারা তার কোন উপকার সাধন হয় না। আমলবিহীন শুধু এলম যদি উপকারী হতো তাহলে আল্লাহ একথা বলতেন না যে- "এমন কথা কেন বল যা কার্যকরী কর না? মনে রেখো আল্লাহকে ক্রোধান্বিত করার জন্য এটাই যথেষ্ট যে ব্যক্তি যা বলে অথচ তা সম্পাদন করে না। (সূরা: আস্-সফ- ২-৩)
স্মরণ রাখ যে এলমের সাথে সাথে আমল করা জরুরী। এলম ব্যতীত আমল এবং আমল ব্যতীত এলম কোন উপকারেই আসে না। যে এলমের সাথে আমল না থাকে তা অজ্ঞতারই নামান্তর। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন- "আহলে কিতাবের একটি সম্প্রদায় আল্লাহর কিতাবকে এমনভাবে বর্জন করেছে যে ঐ সম্বন্ধে যেন তাদের কোন জ্ঞানই নেই।” (সূরা: আল-বাকারা : ১০১)
এতে প্রমাণিত হয় যে আমলবিহীন এলমের অধিকারী বিদ্বান হিসেবে পরিগণিত নয়। এটা দ্বারা তার কোন উপকার সাধন হয় না। আমলবিহীন শুধু এলম যদি উপকারী হতো তাহলে আল্লাহ একথা বলতেন না যে- "এমন কথা কেন বল যা কার্যকরী কর না? মনে রেখো আল্লাহকে ক্রোধান্বিত করার জন্য এটাই যথেষ্ট যে ব্যক্তি যা বলে অথচ তা সম্পাদন করে না। (সূরা: আস্-সফ- ২-৩)
হাদীস শরীফে এসেছে: ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত আছে, মহানবি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন- পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত কোন ব্যক্তি কেয়ামতের দিন রেহাই পাবে না।
(১) তার আয়ুষ্কাল সম্বন্ধে যে, কোন কাজে তার সময় ব্যয় হয়েছে;
(২) যৌবন সম্বন্ধে যে, কোন কাজে সে যৌবন ব্যয় করেছে;
(৩) ধনসম্পদ সম্বন্ধে যে, কীভাবে উপার্জন করেছে এবং
(৪) উপার্জিত অর্থ কোন পথে ব্যয় করেছে।
(৫) সে তার এলম মোতাবেক আমল করেছে কি না?
অতএব জেনে রাখুন আমলবিহীন এলম কোন কাজেই আসবে না। এখনও যখন আপনার হাতে সময় রয়েছে তখন জেনে রাখুন আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আপনার জন্য কী কী ফরজ ও ওয়াজিব করেছেন। কিন্তু আপনি তার প্রতি উদাসীন। তার বিপরীত কত বিষয় এমনও রয়েছে যার ব্যাপারে আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ভীতি প্রদর্শন করেছেন এবং তাকে অপছন্দ করেছেন। তথাপি আপনি তার সাথে জড়িত এবং তাতেই নিমজ্জিত।
আমল ছাড়া এলম যেমন উপকারী নয়, তেমনি এলম ব্যতীত আমলও কোন কাজে আসে না। হুজুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন:– “না বুঝে ইবাদতকারী কুলুর বলদের ন্যায়।"
এতে প্রমাণিত হয় যে- অবুঝ ইবাদতকারী আবেদের মধ্যে পরিগণিত হতে পারে না। দেখুন কোন ব্যক্তি সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনাহারে থাকল। অথচ সে জানে না রোযা কী? আবার কেউ বেশ টাকা পয়সা সদকা করল কিন্তু সে জানে না এই দান সদকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। তাহলে কি এটা ইবাদতের মধ্যে পরিগণিত হবে? না, হবে না। এসব কাজকে ইবাদতের মধ্যে পরিগণিত করার জন্য তাকে নিশ্চয় জানতে হবে এটা আল্লাহর নির্দেশ। তথাপি এই জানার সাথে সাথে তাকে ইবাদত করার এবং আল্লাহর নির্দেশ পালন করার নিয়তও করতে হবে। শুধু এটাই নয় বরং মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী আমল না করে ততক্ষণ পর্যন্ত তার জন্য সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার পথ উন্মুক্ত হয় না। এলম মোতাবেক আমল যত বেশি করবে পথও ততটা উন্মুক্ত হবে। যখনই সে আমল করা বন্ধ করে দিবে তখনই তার চলার পথও বন্ধ হয়ে যাবে।
এতে প্রমাণিত হয় যে- অবুঝ ইবাদতকারী আবেদের মধ্যে পরিগণিত হতে পারে না। দেখুন কোন ব্যক্তি সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনাহারে থাকল। অথচ সে জানে না রোযা কী? আবার কেউ বেশ টাকা পয়সা সদকা করল কিন্তু সে জানে না এই দান সদকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। তাহলে কি এটা ইবাদতের মধ্যে পরিগণিত হবে? না, হবে না। এসব কাজকে ইবাদতের মধ্যে পরিগণিত করার জন্য তাকে নিশ্চয় জানতে হবে এটা আল্লাহর নির্দেশ। তথাপি এই জানার সাথে সাথে তাকে ইবাদত করার এবং আল্লাহর নির্দেশ পালন করার নিয়তও করতে হবে। শুধু এটাই নয় বরং মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী আমল না করে ততক্ষণ পর্যন্ত তার জন্য সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার পথ উন্মুক্ত হয় না। এলম মোতাবেক আমল যত বেশি করবে পথও ততটা উন্মুক্ত হবে। যখনই সে আমল করা বন্ধ করে দিবে তখনই তার চলার পথও বন্ধ হয়ে যাবে।
হজরত ইবরাহীম আদহাম (রহঃ) একবার পথ চলাকালীন একটি পাথরের উপর লেখা দেখতে পেলেন, আমাকে উল্টিয়ে দেখ। তিনি পাথরটি উল্টিয়ে দেখতে পেলেন তাতে লেখা রয়েছে: — “তুমি যা অবগত আছ যদি সেই অনুযায়ী কাজ না কর তবে তোমার যা জানতে ইচ্ছা আছে তা জানার উৎসাহ কোথা হতে সৃষ্টি হবে?”
অতএব এলম ও আমল পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত। একদিকে এলম দ্বারা বিশুদ্ধভাবে আমল করার পথ উন্মুক্ত হয়; জায়েয নাজায়েয এবং ভালো-মন্দ জানার জ্ঞান জন্মে। অপরদিকে জ্ঞাত বিষয়ে আমল করার অভ্যস্ত হলে এলম দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় এবং আরও অধিক জ্ঞানার্জনের পথ প্রসারিত হয়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন