আত্মদর্শন পর্ব - ২৪
📚কিমিয়ায়ে সাদাত ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
আত্মার আদি অবস্থা
উক্ত প্রকার জ্ঞান শুধু পয়গম্বরগণের একচেটিয়া, তাঁহারা ব্যতীত আর কেহই উহা লাভ করিতে পারে না, এরূপ মনে করিও না। বরং সকল মানবাত্মাই আদিম অবস্থায় তদ্রূপ উপযুক্ত থাকে। সৃষ্টিগতভাবে এমন কোন লোকই নাই যাহা স্বচ্ছ আয়না তৈরির উপযোগী নহে, যাহাতে বিশ্বজগতের সকল পদার্থের প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত হইতে পারে। কিন্তু লৌহে মরিচা ধরিয়া ইহাকে আসলেই নষ্ট করিয়া দিলে ইহার প্রতিবিম্ব গ্রহণের ক্ষমতা আর থাকে না। আত্মার অবস্থাও ঠিক এইরূপ। সংসারের লোভ, কুপ্রবৃত্তি ও পাপ দ্বারা আত্মা আচ্ছাদিত ও কলুষিত হইলে উহা আধ্যাত্মিক জ্ঞান লাভের ক্ষমতা হারাইয়া ফেলে। এই সম্বন্ধেই হাদীসে উল্লেখ আছে “প্রত্যেক মানব সন্তানই মুসলমানরূপে জন্মগ্রহণ করে। তৎপর তাহাদের মাতাপিতা যে যেইরূপ তাহাদিগকে ইয়াহুদী খ্রিস্টান বা অগ্নি উপাসকরূপে পরিণত করে।” সকল মানবই জ্ঞান লাভে উপযুক্ত। তৎসম্বন্ধে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন : “আমি কি তোমাদের প্রভু নই? তাহারা বলিল- হাঁ।” কোন ব্যক্তি যদি অপর কাহাকেও জিজ্ঞাসা করে দুই কি এক অপেক্ষা অধিক নহে? উত্তরে সকলেই বলিবে - হ্যাঁ, নিশ্চয়ই অধিক। যদিও ইহার যথার্থ সকলে শুনে নাই, মুখেও বলে তথাপি সকলের হৃদয়েই ইহার সত্যতা বদ্ধমূল হইয়া রহিয়াছে। তদ্রূপ আল্লাহর সম্বন্ধে জ্ঞানও সৃষ্টিগতভাবে সকলের প্রকৃতির মধ্যেই নিহিত আছে। যেমন আল্লাহ্ বলেন : “আর যদি আপনি তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করেন কে তোমাদিগকে সৃষ্টি করিয়াছে? তাহারা নিশ্চয়ই বলিবে আল্লাহ্।” তিনি আরও বলেন “যে প্রকৃতির উপর মানুষ সৃষ্ট হইয়াছে, ইহাই আল্লাহর সৃষ্ট প্রকৃতি।”
যুক্তি-প্রমাণ ও অভিজ্ঞতা দ্বারাও জানা গিয়াছে যে, বিনা উস্তাদে জ্ঞান লাভ ও অদৃশ্য বস্তু দর্শন কেবল পয়গম্বরদের একচেটিয়া নহে। কারণ পয়গম্বরগণও মানুষ। আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলে মাকবূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে লক্ষ্য করিয়া বলেন : “বলুন, আমি তোমাদের ন্যায় একজন মানুষ ব্যতীত আর কিছুই নহি।”
নবী ও ওলী

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন