আম্বিয়া-আউলিয়া ও আলিমগণের মরতবার তুলনা
আম্বিয়া ও আউলিয়াগণের কাশ্ফ (অন্তর্দৃষ্টি) পরশমণিতুল্য এবং আলিমগণের ইল্ম স্বর্ণসদৃশ। আর স্বর্ণের মালিক অপেক্ষা পরশমণির মালিকের শ্রেষ্ঠত্ব সর্ববিষয়ে অধিক। কিন্তু এ স্থলে একটি সূক্ষ্ম বিষয়ও আছে। মনে কর, এক ব্যক্তির নিকট এতটুকু পরশমণি আছে যাহার সাহায্যে এক শতের অধিক স্বর্ণমুদ্রা প্রস্তুত করা যায় না ; কিন্তু অপরজনের নিকট সহস্র স্বর্ণমুদ্রা আছে। এমতাবস্থায় দ্বিতীয় ব্যক্তি অপেক্ষা প্রথম ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব কিছুতেই অধিক হইতে পারে না। বর্তমানকালে পরশমণি প্রস্তুত বিদ্যার বহু পুস্তক প্রকাশিত হইয়াছে, এ সম্বন্ধে অনেক কথাবার্তা সমাজে প্রচলিত হইয়াছে এবং বহু লোক ইহার অনুসন্ধানে তৎপর হইয়াছে। কিন্তু ইহার হাকীকত অতি অল্প লোকেই জানেন। বহু অনুসন্ধানকারী এ বিষয়ে প্রতারিত হইয়া থাকে। আজকালকার সূফীদের অবস্থাও ঠিক এইরূপই হইয়া দাঁড়াইয়াছে। প্রকৃত সূফীইজম তাহাদের মধ্যে নাই। কেহ কেহ ইহার সামান্য অংশ পাইয়াছেন। সুফী ইজমে পূর্ণতা লাভ করিয়াছেন এমন লোকের সংখ্যা নিতান্ত বিরল। এমতাবস্থায় যাহার মধ্যে সূফীদের অবস্থার কিঞ্চিমাত্র প্রকাশ পাইয়াছে তিনি কখনই প্রত্যেক আলিম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হইতে পারে না। কারণ, অধিকাংশ সূফীর ভাগ্যে এমন অবস্থা ঘটে যে, প্রথম প্রথম তাঁহাদের প্রতি সূফীদের ভাব সামান্য প্রকাশ পাইতে আরম্ভ হয়, কিন্তু উহা অধিক দিন স্থায়ী না হইয়া অচিরেই বন্ধ হইয়া যায় এবং তাঁহারা আর পূর্ণতা লাভ করিতে পারেন না। আবার এমন কতক সূফী আছেন যাঁহাদের উপর অলীক পাগলামী ও অসার কল্পনা প্রবল থাকে অথচ উহাকে তাঁহারা সত্য বলিয়া মনে করেন। স্বপ্নে যাহা দেখা যায় তাহার মধ্যে সত্য-মিথ্যা উভয়ই থাকে। সূফীদের অবস্থার মধ্যেও তদ্রূপ সত্য-মিথ্যার মিশ্রণ থাকে। যে সকল সূফী এমন কামিল হইয়াছেন যে, যে ইলূম অপর লোকে উস্তাদের নিকট শিক্ষা করে তাহা তাঁহারা বিনা উস্তাদে স্বয়ং আল্লাহ্ হইতে লাভ করিয়া থাকেন তাঁহারা ধর্ম-শাস্ত্রভিজ্ঞ আলিম হইতে শ্রেষ্ঠ। কিন্তু এই সূফী নিতান্ত বিরল। অতএব, সূফীগণের আসল জ্ঞানের পথে ও তাঁহাদের শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাস স্থাপন কর। একালের ভণ্ড সূফীদের আচরণ দেখিয়া প্রকৃত সূফীগণের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ করিও না। ভণ্ড সূফীদের যাহারা ইলম ও আলিমকে তিরস্কার করে তাহারা নিজেদের মূর্খতার কারণেই ইহা করিয়া থাকে।
আল্লাহর মা'রিফাতে মানবের সৌভাগ্য নিহিত

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন