মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৫

আত্মদর্শন (৩৪) জাহেল ভণ্ড সূফী



আত্মদর্শন পর্ব - ৩৪
📚কিমিয়ায়ে সাদাত ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

জাহেল ভণ্ড সূফী 
অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন কোন ব্যক্তি যদি বাহ্য ইল্‌মকে প্রকৃত ইলমের পথে অন্তরাল বলেন তবে তাঁহার কথা অবিশ্বাস না করিয়া বুঝিবার চেষ্টা কর। কিন্তু আজকাল কতক লোক বাহির হইয়াছে, তাহারা অবৈধকে বৈধ বলিয়া থাকে। এই হতভাগারা রিপুর দাস। অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিগণের অবস্থা তাহারা কখনই প্রাপ্ত হয় নাই ; কেবল সূফীদের রচিত কতকগুলি রহস্যময় বাক্য মুখস্থ করিয়া রাখিয়াছে। পরহিযগারী দেখাবার জন্য বারবার শরীর ধৌত করে, সূফীদের পোশাক-পরিচ্ছদ, জায়নামায ইত্যাদি দ্বারা শরীর সজ্জিত রাখে এবং ইল্ল্ম ও আলিমগণের নিন্দা করিতে থাকে। তাহারা মানুষের মধ্যে শয়তান, আল্লাহ্ ও রাসূলের দুশমন ; তাহারা হত্যার উপযোগী। কারণ আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইল্ম ও আলিমের প্রশংসা করিয়াছেন এবং সমস্ত জগতবাসীকে ইল্ল্ম শিখিবার জন্য আহ্বান করিয়াছেন। এই হতভাগারা সূফীদের অবস্থা প্রাপ্ত হয় নাই এবং ইল্ল্মও শিখে নাই। এমতাবস্থায় ইল্ম ও আলিমের নিন্দা করা তাহাদের পক্ষে কিরূপে বৈধ হইতে পারে? এই সকল হতভাগা এমন ব্যক্তির ন্যায় যে লোকমুখে শুনিয়াছে পরশমণি স্বর্ণ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ; কারণ, ইহার সাহায্যে অপরিমিত স্বর্ণ প্রস্তুত করা যায়। এই বিশ্বাসের বশীভূত হইয়া সে তাহার সম্মুখে স্থাপিত অপরিমিত স্বর্ণরাশি গ্রহণ না করিয়া বলিতে লাগিল- “ স্বর্ণ কি কাজে লাগে? ইহার মূল্যই বা কতটুকু? আমি পরশমণি চাই, পরশমণিই স্বর্ণের মূল।” এই বলিয়া সে স্বর্ণ গ্রহণ করিল না। অথচ সে পরশমণি কখনও দেখেও নাই এবং জানেও না যে, ইহার দর্শন কেমন পদার্থ। এই প্রকার লোক নিতান্ত হতভাগা, নিঃস্ব ও অতৃপ্ত থাকে৷  'স্বর্ণ অপেক্ষা পরশমণি শ্রেষ্ঠ' বাক্য আওড়াইয়া ইহার আনন্দে বেচারা বিভোর থাকে এবং এই প্রকার আরও বহু লম্বা লম্বা কথা বানাইতে থাকে। 

আম্বিয়া-আউলিয়া ও আলিমগণের মরতবার তুলনা 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...