মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৫

আত্মদর্শন (৪৩) আত্মপরিচয় ও আত্ম-উন্নতিতে পরিশ্রম আবশ্যক



আত্মদর্শন পর্ব - ৪৩
📚কিমিয়ায়ে সাদাত ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

আত্মপরিচয় ও আত্ম-উন্নতিতে পরিশ্রম আবশ্যক 
এতক্ষণ যাহা বলা হইল তাহাতে আত্মার শ্রেষ্ঠত্ব বুঝিতে পারিয়াছ। এখন বুঝিয়া লও যে, আল্লাহ্ তোমাকে এই অতি উত্তম পদার্থ দান করিয়াছেন এবং ইহাকে তোমা হইতে গোপনে রাখিয়াছেন। তুমি যদি ইহার পর্যবেক্ষণে অনুসন্ধান না কর, ইহাকে ধ্বংস করিয়া দাও এবং ইহা হইতে গাফিল থাক তবে বড়ই ক্ষতিগ্রস্ত হইবে। সুতরাং পরিশ্রমের সহিত আত্মার অনুসন্ধান কর এবং দুনিয়া হইতে একেবারে নির্লিপ্ত করিয়া ইহাকে গৌরবের উচ্চতম সিংহাসনে আরোহণ করাও। তাহা হইলে পরকালে তোমার অনন্ত সৌভাগ্য ও অসীম সন্ধান প্রকাশিত হইবে, অর্থাৎ তখন তুমি অবিমিশ্র সুখ, অবিনশ্বর জীবন, অপ্রতিহত ক্ষমতা, সন্দেহশূন্য মারিফাত লাভ ও নির্মল সৌন্দর্য দর্শনের সৌভাগ্য অর্জন করিবে। আত্মা যদি পরকালে প্রকৃত সম্মান ও গৌরব লাভের উপযোগী হয় তবে ইহকালেও ইহার শ্রেষ্ঠত্ব থাকে। অন্যথায় মানবের ন্যায় অসহায় ও অসম্পূর্ণ আর কেহই নেই। কারণ, মানুষ এ সংসারে শীত-গ্রীষ্ম, ক্ষুধা-তৃষ্ণা, রোগ-শোক, দুঃখ-বেদনা ও যাতনায় বিজড়িত হইয়া রহিয়াছে। আবার যাহাতে তাহার তৃপ্তি ও আনন্দ তাহাই তাহার ক্ষতি ও অনিষ্টের কারণ এবং যাহা তাহার জন্য উপকারী তাহা দুঃখ ও তিক্ততাশূন্য নহে। জ্ঞান, ক্ষমতা, সংকল্প, ধৈর্য অথবা সৌন্দর্যের কারণেই মানুষ শ্রেষ্ঠ ও সম্মানী হইয়া থাকে। কিন্তু জ্ঞানের দিকে বিবেচনা করিয়া দেখিলে বুঝা যাইবে  মানুষ অপেক্ষা মূর্খ জগতে আর নাই। কেননা, তাহার মস্তিষ্কের একটি মাত্র রগ বক্র হইয়া পড়িলে সে উন্মাদ বা একেবারে ধ্বংস হইতে পারে। অথচ সে ইহার কারণও বুঝিতে পারে না এবং উপশমের উপায়ও সে জানে না। এমনও হয় যে, ঔষধ তাহার সম্মুখে বিরাজমান থাকে, অথচ সে তাহা চিনিতে পারে না। আবার ক্ষমতা সম্বন্ধে বিরাজমান থাকে , অথচ সে তাহা চিনিতে পারে না। আবার ক্ষমতা সম্বন্ধে বিবেচনা করিয়া দেখিলে বুঝা যায় যে, মানুষের ন্যায় দুর্বল আর কোন প্রাণীই নহ । একটি মাছিকেও সে পরাস্ত করিতে পারে না। আল্লাহ্ একটি মশাকে মানুষের বিপক্ষে নিযুক্ত করিলে ইহার নিকট সে পরাজিত হয়। একটি মৌমাছির ডাক শুনিয়া মানুষ ভীত ও অস্থির হয়। তৎপর ধৈর্যের দিক দিয়া বিচার করিলে দেখা যাইবে যে, মানুষ কণামাত্র কমতি সহ্য করিতে পারে না ; সামান্যতম ক্ষতি হইলেও দুঃখ-ভারাক্রান্ত ও পেরেশান হইয়া উঠে। ক্ষুধার সময় এক গ্রাস খাদ্য না পাইলে নিতান্ত অধৈর্য হইয়া পড়ে। মানুষ অপেক্ষা সংকীর্ণমনা আর কে আছে? পরিশেষে মানুষের সৌন্দর্য ও আকৃতির দিকে মনোনিবেশ করিলে বুঝা যায় যে, স্তূপীকৃত অপবিত্রতাকে চর্ম দ্বারা আবৃত করিয়া রাখা হইয়াছে। মানুষ যদি দুই দিন নিজ শরীর ধৌত না করে তবে তাহার শরীর হইতে নিঃসৃত ময়লার দুর্গন্ধে সে নিজেই অতিষ্ট হইয়া পড়িবে ; তখন তাহার সমস্ত শরীর হইতে দুর্গন্ধ বাহির হয় এবং সকলেই তাহাকে ঘৃণা করে।
মানব দেহ অপেক্ষা অধিক ময়লাযুক্ত আর কিছুই নাই। কারণ , ইহার ভিতরে সর্বদাই অপবিত্র মল-মূত্রাদি থাকে, আর এইগুলি বহন করিয়াই মানুষ চলে এবং প্রত্যহ নিজ হস্তে এই মলমূত্র ধৌত করে " 

পরবর্তী পর্ব-
একটি কাহিনী 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...