আত্মার শ্রেষ্ঠত্বের কারণ
আত্মা জগতের আশ্চর্যসমূহের শেষ নাই। সৃষ্টজগতে আত্মা সর্বাপেক্ষা অধিক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ, এইজন্যই ইহার শ্রেষ্ঠত্ব। কিন্তু বহু লোকে ইহা জানে না। আত্মার শ্রেষ্ঠত্বের দুইটি কারণ আছে, যথা- (১) জ্ঞান ও (২) শক্তি। আত্মার জ্ঞানজনিত শ্রেষ্ঠত্ব আবার দুই প্রকার। ইহার একটি সকলেই বুঝিতে পারে এবং অপরটি নিতান্ত গুপ্ত এবং অতি উত্তম। শেষোক্তটি অতি দুর্লভ। আত্মার জ্ঞানজনিত প্রকাশ্য শ্রেষ্ঠত্ব হইল সকল বিদ্যা ও যাবতীয় শিল্পকৌশল জানিবার ক্ষমতা। এই ক্ষমতাবলে আত্মা সকল শিল্পকৌশল শিক্ষা করিতে পারে এবং ইহার বলেই মানুষ লিখিত বিষয় পাঠ করিতে পারে ও শিখিতে পারে। অংকশাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যা, জ্যোতিষ ও ধর্মনীতি এই ক্ষমতাবলেই আয়ত্ত হয়। এই ক্ষমতার প্রভাবেই আত্মা এমন পদার্থ যে, ইহা বিভক্ত হইতে পারে না, অথচ ইহাতে সমস্ত জ্ঞানবিজ্ঞানের সমাবেশ হইতে পারে। এমনকি, মরুভূমির মধ্যে সামান্য বালুকণা যেমন লুকাইয়া যায় তদ্রূপ সমস্ত জগতের জ্ঞান-বিজ্ঞানও আত্মার মধ্যে লুকাইয়া থাকে। চিন্তাবলে আত্মা এক মুহূর্তে পৃথিবী হইতে আকাশে এবং বিশ্বের এক প্রান্ত হইতে অপর প্রান্তে বিচরণ করিতে পার। ভূতলে থাকিলেও ইহা আকাশমণ্ডল জরিপ করিতে পারে, এক গ্রহ হইতে অপর গ্রহের দূরত্ব নির্ণয় করিতে পারে; সাগরতল হইতে মৎস্যকে কৌশলে উত্তোলন করিতে পারে; আকাশ বিহারী পক্ষীকে কৌশলে ভূতলে নামাইতে পারে এবং উট, হাতী, ঘোড়া প্রভৃতি অতি শক্তিশালী প্রাণীকে বশীভূত করিতে পারে। বিশ্বের আশ্চর্য আশ্চর্য জ্ঞান ইহার ব্যবসায় পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে আত্মা এই জ্ঞান আহরণ করে। ইহাতে বুঝা যায় যে, আত্মার দিকে সকল ইন্দ্রিয়ের এক একটি পথ খোলা রহিয়াছে।
বড়ই বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, জড়-জগতের দিকে পঞ্চ ইন্দ্রিয় যেমন হৃদয়ের পাঁচটি দ্বার, তদ্রূপ আধ্যাত্মিক জগতের দিকেও হৃদয়ের একটি প্রশস্ত দ্বার খোলা আছে। অধিকাংশ লোকেই কেবল জড়জগতকেই অনুভূতির বিষয় এবং বাহ্য ইন্দ্রিয়সমূহকেই জ্ঞানের দ্বার বলিয়া মনে করে। কিন্তু এই ধারণা সঙ্কীর্ণতা প্রসূত ও অমূলক। জ্ঞানের দিকে হৃদয়ের যে বহু দ্বার খোলা রহিয়াছে ইহার দুইটি প্রমাণ আছে।
প্রথম, স্বপ্ন – নিদ্রিত অবস্থায় প্রকাশ্য ইন্দ্রিয়ের কার্য বন্ধ হইয়া যায়, কিন্তু হৃদয়ের আভ্যন্তরিক জ্ঞানদ্বার খুলিয়া পড়ে। তখন আলমে আরওয়াহ্ ও লওহে মাহফুজের অজ্ঞাত বিষয়সমূহ দৃষ্টিগোচর হইতে থাকে, ভবিষ্যতে যাহা ঘটিবে তাহা কখনও পরিষ্কারভাবে স্পষ্টত দেখা যায়, আবার কখনো সাদৃশ্যে উপমাস্বরূপ দৃষ্টিগোচর হয়। যখন সাদৃশ্যে দেখা যায় তখন স্বপ্নের অর্থ করিয়া বুঝিতে হয়। লোকে মনে করে জাগরিত ব্যক্তি অধিক পরিমাণে জ্ঞান লাভে সমর্থ অথচ জাগ্রত অবস্থায় গায়েবের কোন বিষয়ই নয়নগোচর হয় না। স্বপ্নতত্ত্বের বিস্তারিত বিবরণ এ গ্রন্থে সমাবেশ হইবে না। তথাপি সংক্ষেপে কিছু বলা হইতেছে।
স্বপ্ন তত্ত্ব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন