স্বপ্ন তত্ত্ব
আত্মা দর্পণতুল্য এবং লওহে মাহ্ফূজও একখানা দর্পণস্বরূপ; ইহাতে বিশ্বের যাবতীয় বস্তু ও ঘটনার ছবি অঙ্কিত আছে। একটি স্বচ্ছ আয়নাকে চিত্রিত আয়নার সম্মুখে ধরিলে স্বচ্ছ আয়নাতে যেমন চিত্রিত আয়নার ছবি প্রতিফলিত হয়, তদ্রূপ নির্মল আত্মা লওহে মাহফুজের সম্মুখীন হইলে ইহাকে অঙ্কিত সমস্ত বস্তু ও ঘটনার ছবি নির্মল আত্মার মধ্যে পরিষ্কাররূপে দেখা যায়। তবে লওহে মাহফুজের ছবি আত্মায় প্রতিফলিত হওয়ার উপযোগী করিতে হইলে ইহাকে পাপের মলিনতা হইতে সম্পূর্ণরূপে নির্মল রাখিতে হয় এবং জড়জগতের সহিত ইহার সকল সম্বন্ধ ছিন্ন করত ইহাকে লওহে মাহফুজের সম্মুখীন করিতে হয়। আত্মা যতক্ষণ আত্মা ও লওহে মাহফুজের মধ্যে এক আবরণ বিদ্যামান থাকে। নিদ্রার সময়ে আত্মার সহিত জড়জগতের সম্বন্ধ একেবারে বিচ্ছিন্ন হয় বলিয়া আপনা আপনিই আধ্যাত্মিক জগত নয়নগোচর হয়। কিন্তু নিদ্রিতাবস্থায় ইন্দ্রিয়সমূহের কার্য স্থগিত থাকিলেও খেয়াল বাকি থাকে। এই জন্যই আধ্যাত্মিক জগতের বিষয়সমূহ পরিষ্কাররূপে দেখা না গিয়া সাদৃশ্যে উপমাস্বরূপ দৃষ্টিগোচর হইয়া থাকে। মানুষ মরিয়া গেলে খেয়াল বা ইন্দ্রিয় কোনটাই থাকে না; তখন সকল আবরণ বিদূরিত হয় এবং বিশ্বজগতের সকল বিষয় পরিষ্কাররূপে আত্মার দৃষ্টিগোচর হইতে থাকে ৷ সেই সময় আত্মাকে লক্ষ্য করিয়া বলা হয় : “অনন্তর তোমা হইতে তোমার পর্দা তুলিয়া লইয়াছি, অতঃপর তোমার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হইল৷” উত্তরে আত্মা বলিবে : “হে আমাদের রব, আমরা দেখিলাম ও শুনিলাম; আমাদিগকে পুনরায় পাঠাও; আমরা সৎকাজ করিব। নিশ্চয়ই আমরা বিশ্বাসী আছি।”
এই দুনিয়াতে এমন কোন লোক নাই যাহার হৃদয়ে ইলহামের মধ্যস্থতায় অন্তর্দৃষ্টি ও শুভ প্রেরণা জাগরিত না হয়। এই সকল ইন্দ্রিয়পথে আসে না, বরং হৃদয়েই উৎপন্ন হয়। উহা কোথা হইতে আসে লোকে জানে না। ইহাতে বুঝা গেল যে, সকল জ্ঞান শুধু বাহ্যজগত হইতে হয় না এবং আত্মা এই জড়জগতের নহে, বরং আধ্যাত্মিক জগত দর্শনে উহারা স্বভাবতই বাধা সৃষ্টি করিয়া থাকে। অতএব, মানুষ যতদিন জড়জগতের সকল সম্বন্ধ ছিন্ন না করিবে ততদিন আধ্যাত্মিক জগতের দিকে পথ পাইবে না ।
জাগ্রতাবস্থায় আধ্যাত্মিক জগতের জ্ঞান লাভের উপায়

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন