আল্লাহ-পরিচয় (তত্ত্বদর্শন) পর্ব – ১৭
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
ইবাদত মানব সৌভাগ্যের অন্যতম উপাদান —
আল্লাহ্’র মারিফাতের বিবরণ এত বিস্তৃত যে, এ ক্ষুদ্র গ্রন্থে ইহার সম্যক বর্ণনা সম্ভব নহে। লোকে কিছুটা অবগত হইয়া আল্লাহর যথাসাধ্য পূর্ণ পরিচয় লাভের আগ্রহ-উদ্দীপনা তাহার মনে জন্মাইয়া দেওয়ার জন্য যাহা বলা হইল তাহাই যথেষ্ট। কারণ, আল্লাহর মা'রিফাতই মানব সৌভাগ্যের মূল। বরং সৌভাগ্যের উপায় হইল আল্লাহর মা'রিফাত ও ইবাদত-বন্দেগী। ইবাদত সৌভাগ্যের উপায় হওয়ার কারণ এই যে, মৃত্যুর পর একমাত্র আল্লাহ্’র সহিতই তাহার সম্বন্ধ থাকিবে। অর্থাৎ “সকলেই একমাত্র আল্লাহর দিকেই প্রত্যাগমন ও পুনরাগমন করে।” আর যাঁর সহিত অবস্থান করিতে হইবে তাহার সহিত পূর্ব হইতেই বন্ধুত্ব স্থাপন করিয়া লওয়াতেই সৌভাগ্য নিহিত আছে। বন্ধুত্ব যে পরিমাণে বৃদ্ধি পাইবে সৌভাগ্যও সে পরিমাণে বৃদ্ধি পাইবে। কারণ, প্রিয়জনের দর্শনে আনন্দ ও আরাম মিলে এবং মারিফাতের ও যিকিরের ফলেই মানব হৃদয়ে আল্লাহ্’র মহব্বত বৃদ্ধি পায়। যাহাকে ভালবাসা যায় তাহার কথাই অধিক মনে পড়ে। আবার যাহাকে অধিকাংশ সময় স্মরণ করা হয় সে স্বভাবতই প্রিয় হইয়া উঠে। এইজন্যই আল্লাহ্ হযরত দাউদ আলায়হিস সালামের উপর ওহী নাযিল করিয়াছেন : “একমাত্র আমি তোমার আশ্রয়স্থল এবং কেবল আমার সহিত তোমার সম্বন্ধ, অতএব আমার যিকির হইতে এক মুহূর্তও গাফিল থাকিও না।” মানুষ আল্লাহ্’র ইবাদতে সর্বদা লিপ্ত থাকিলে তাহার মনে আল্লাহর স্মরণ প্রবল হয় এবং প্রবৃত্তির সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়। সুতরাং সকল পাপ হইতে বিরত হওয়াই একাগ্রচিত্তে ইবাদতে রত হওয়ার মূল কারণ। আবার ইবাদত মনে যিকির প্রবল হওয়ার কারণে হইয়া থাকে। যিকির ও ইবাদত আবার মহব্বতের মূল কারণ এবং আল্লাহর মহব্বত সৌভাগ্যের বীজ। আর সৌভাগ্যের অর্থ হইল নাজাত লাভ করা; যেমন আল্লাহ্ বলেন : “অবশ্যই মু'মিনগণ নাজাত পাইয়াছে।” তিনি আরও বলেন : - “যে ব্যক্তি আত্ম-শুদ্ধি লাভ করিয়াছে, আপন প্রভুর নাম স্মরণ করিয়াছে এবং নামায কায়েম করিয়াছে সে নিশ্চয়ই নাজাত পাইয়াছে।”
সকল কাজ ইবাদত হইতে পারে না; কোন কোন কাজ ইবাদত, কোন কোন কাজ ইবাদত নহে এবং সর্ববিধ প্রবৃত্তি হইতে বিরত থাকা সম্ভবও নহে, আর সঙ্গতও নহে। কারণ, আহার না করিলে মানুষ মরিয়া যায় এবং স্ত্রী সহবাস না করিলে বংশ রক্ষা পায় না। কতক প্রবৃত্তি একেবারে পরিত্যাজ্য এবং কতকগুলি গ্রহণীয়। সুতরাং গ্রহণীয়গুলি হইতে পরিত্যাজ্যগুলিকে পার্থক্য করিবার জন্য একটি মাপকাঠি ও সীমারেখা থাকা আবশ্যক। এই সীমারেখা নির্ধারণের দ্বিবিধ উপায় আছে। মানুষ হয়ত নিজে বিচার-বুদ্ধি ও ইচ্ছা অনুসারে তাহা নির্ধারণ করিয়া লইবে অথবা অন্যের দ্বারা উহা করাইয়া লইবে। সাধারণত মানুষকে নিজ স্বাধীন ক্ষমতার উপর ছাড়িয়া দেওয়া যায় না। কারণ, যাহার হৃদয়ে প্রবৃত্তি প্রবল হইয়া উঠে সে কখনও সত্যের পথ পায় না এবং যাহা দ্বারা মানুষের অভিলাষ পূর্ণ হয় তাহা তাহার নিকট উত্তম বলিয়া মনে হয়। এইজন্যই কর্তব্যাকর্তব্য নির্ধারণে মানুষকে স্বাধীনতা দেওয়া উচিত নহে। বরং এ বিষয়ে অন্যের অধীনে চলা উচিত। কিন্তু সকলেই পরিচালকের উপযুক্ত হইতে পারে না। কেবল দূরদর্শী ও প্রবল বিচার শক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিগণই পরিচালক হওয়ার উপযুক্ত। নবীগণই এই প্রকার দূরদর্শী ও সূক্ষ্ম বিচারক। তাঁহারা কর্তব্যাকর্তব্যের যে সীমা নির্ধারণ করিয়া দিয়াছেন তাহাকেই শরীয়ত বলেন সুতরাং শরীয়তের অনুশাসন মানিয়া চলাই সৌভাগ্য অর্জনের উপায় এবং ইহার নামই ইবাদত।
আল্লাহ্’র মারিফাতের বিবরণ এত বিস্তৃত যে, এ ক্ষুদ্র গ্রন্থে ইহার সম্যক বর্ণনা সম্ভব নহে। লোকে কিছুটা অবগত হইয়া আল্লাহর যথাসাধ্য পূর্ণ পরিচয় লাভের আগ্রহ-উদ্দীপনা তাহার মনে জন্মাইয়া দেওয়ার জন্য যাহা বলা হইল তাহাই যথেষ্ট। কারণ, আল্লাহর মা'রিফাতই মানব সৌভাগ্যের মূল। বরং সৌভাগ্যের উপায় হইল আল্লাহর মা'রিফাত ও ইবাদত-বন্দেগী। ইবাদত সৌভাগ্যের উপায় হওয়ার কারণ এই যে, মৃত্যুর পর একমাত্র আল্লাহ্’র সহিতই তাহার সম্বন্ধ থাকিবে। অর্থাৎ “সকলেই একমাত্র আল্লাহর দিকেই প্রত্যাগমন ও পুনরাগমন করে।” আর যাঁর সহিত অবস্থান করিতে হইবে তাহার সহিত পূর্ব হইতেই বন্ধুত্ব স্থাপন করিয়া লওয়াতেই সৌভাগ্য নিহিত আছে। বন্ধুত্ব যে পরিমাণে বৃদ্ধি পাইবে সৌভাগ্যও সে পরিমাণে বৃদ্ধি পাইবে। কারণ, প্রিয়জনের দর্শনে আনন্দ ও আরাম মিলে এবং মারিফাতের ও যিকিরের ফলেই মানব হৃদয়ে আল্লাহ্’র মহব্বত বৃদ্ধি পায়। যাহাকে ভালবাসা যায় তাহার কথাই অধিক মনে পড়ে। আবার যাহাকে অধিকাংশ সময় স্মরণ করা হয় সে স্বভাবতই প্রিয় হইয়া উঠে। এইজন্যই আল্লাহ্ হযরত দাউদ আলায়হিস সালামের উপর ওহী নাযিল করিয়াছেন : “একমাত্র আমি তোমার আশ্রয়স্থল এবং কেবল আমার সহিত তোমার সম্বন্ধ, অতএব আমার যিকির হইতে এক মুহূর্তও গাফিল থাকিও না।” মানুষ আল্লাহ্’র ইবাদতে সর্বদা লিপ্ত থাকিলে তাহার মনে আল্লাহর স্মরণ প্রবল হয় এবং প্রবৃত্তির সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়। সুতরাং সকল পাপ হইতে বিরত হওয়াই একাগ্রচিত্তে ইবাদতে রত হওয়ার মূল কারণ। আবার ইবাদত মনে যিকির প্রবল হওয়ার কারণে হইয়া থাকে। যিকির ও ইবাদত আবার মহব্বতের মূল কারণ এবং আল্লাহর মহব্বত সৌভাগ্যের বীজ। আর সৌভাগ্যের অর্থ হইল নাজাত লাভ করা; যেমন আল্লাহ্ বলেন : “অবশ্যই মু'মিনগণ নাজাত পাইয়াছে।” তিনি আরও বলেন : - “যে ব্যক্তি আত্ম-শুদ্ধি লাভ করিয়াছে, আপন প্রভুর নাম স্মরণ করিয়াছে এবং নামায কায়েম করিয়াছে সে নিশ্চয়ই নাজাত পাইয়াছে।”
সকল কাজ ইবাদত হইতে পারে না; কোন কোন কাজ ইবাদত, কোন কোন কাজ ইবাদত নহে এবং সর্ববিধ প্রবৃত্তি হইতে বিরত থাকা সম্ভবও নহে, আর সঙ্গতও নহে। কারণ, আহার না করিলে মানুষ মরিয়া যায় এবং স্ত্রী সহবাস না করিলে বংশ রক্ষা পায় না। কতক প্রবৃত্তি একেবারে পরিত্যাজ্য এবং কতকগুলি গ্রহণীয়। সুতরাং গ্রহণীয়গুলি হইতে পরিত্যাজ্যগুলিকে পার্থক্য করিবার জন্য একটি মাপকাঠি ও সীমারেখা থাকা আবশ্যক। এই সীমারেখা নির্ধারণের দ্বিবিধ উপায় আছে। মানুষ হয়ত নিজে বিচার-বুদ্ধি ও ইচ্ছা অনুসারে তাহা নির্ধারণ করিয়া লইবে অথবা অন্যের দ্বারা উহা করাইয়া লইবে। সাধারণত মানুষকে নিজ স্বাধীন ক্ষমতার উপর ছাড়িয়া দেওয়া যায় না। কারণ, যাহার হৃদয়ে প্রবৃত্তি প্রবল হইয়া উঠে সে কখনও সত্যের পথ পায় না এবং যাহা দ্বারা মানুষের অভিলাষ পূর্ণ হয় তাহা তাহার নিকট উত্তম বলিয়া মনে হয়। এইজন্যই কর্তব্যাকর্তব্য নির্ধারণে মানুষকে স্বাধীনতা দেওয়া উচিত নহে। বরং এ বিষয়ে অন্যের অধীনে চলা উচিত। কিন্তু সকলেই পরিচালকের উপযুক্ত হইতে পারে না। কেবল দূরদর্শী ও প্রবল বিচার শক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিগণই পরিচালক হওয়ার উপযুক্ত। নবীগণই এই প্রকার দূরদর্শী ও সূক্ষ্ম বিচারক। তাঁহারা কর্তব্যাকর্তব্যের যে সীমা নির্ধারণ করিয়া দিয়াছেন তাহাকেই শরীয়ত বলেন সুতরাং শরীয়তের অনুশাসন মানিয়া চলাই সৌভাগ্য অর্জনের উপায় এবং ইহার নামই ইবাদত।
পরবর্তী পর্ব —
শরীয়ত অমান্যকারীদের ভ্রমের সাতটি কারণ
শরীয়ত অমান্যকারীদের ভ্রমের সাতটি কারণ

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন