হজ্জের সময় হারাম কার্যসমূহ ও উহার কাফ্ফারা —
হজ্জের সময় ছয়টি কার্য হারাম; যথা-
(১) সেলাই করা পোশাকী বস্ত্র পরিধান করা। কারণ, ইহারামের অবস্থায় পিরহান, ইযার ও পাগড়ী পরিধান করা নিষেধ। বরং সেলাইবিহীন তহবন্দ, চাদর ও পাদুকা ব্যবহার করিতে হইবে। পাদুকা না থাকিলে নগ্নপদে থাকাও দুরস্ত আছে। তহবন্দ না পাইলে ইযারও পরিধান করা যাইতে পারে। ইহরামের অবস্থায় সপ্ত অঙ্গ আবৃত রাখা আবশ্যক। কিন্তু মাথা খোলা রাখিতে হইবে। স্ত্রীলোক আপন অভ্যাসমত কাপড় পরিধান করিবে; কিন্তু তাহাদের মুখমণ্ডল খোলা রাখিতে হইবে। উটের পিঠের হাওদায় বা চাঁদোয়ার মধ্যে থাকা দুরস্ত আছে।
(২) সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করা। সুগন্ধি দ্রব্য এবং সেলাই করা পোশাকী বস্ত্র ইহরাম অবস্থায় ব্যবহার করিলে ইহার কাফফারাস্বরূপ একটি ছাগল কুরবানী করা ওয়াজিব হইবে।
(৩) চুল নখ কর্তন করা।- ইহরাম অবস্থায় চুল-নখ কাটিলে একটি ছাগল কুরবানী করা ওয়াজিব। হাম্মামে গোসল করা, দূষিত রক্ত বাহির করা এবং সিঙ্গা লাগাইবার অনুমতি আছে। চুল উঠিয়া নাযায়, এরূপভাবে চিরুনী করা দুরস্ত আছে।
(৪) স্ত্রী-সহবাস করা।- সহবাস করিলে ইহার কাফফারাস্বরূপ একটি উট বা একটি গরু কিংবা সাতটি ছাগ কুরবানী করা ওয়াজিব হইবে এবং হজ্জ নষ্ট হইয়া যাইবে ও পুনরায় হজ্জ করিয়া ইহার কাযা আদায় করা ওয়াজিব হইবে। প্রথম ইহরাম ভঙ্গের পর সহবাস করিলে একটি উট কুরবানী করা ওয়াজিব হইবে এবং হজ্জ নষ্ট হইবে না।
(৫) ইহরাম অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর আলিঙ্গন, চুম্বন, রসালাপ প্রভৃতি করাও নাজায়েয। এরূপ কার্যে মযি বা মণি নির্গত হইয়া অপবিত্র হইলে একটি ছাগল কুরবানী করা ওয়াজিব হইবে। ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করাও দুরস্ত নহে। করিলে এই বিবাহ শুদ্ধ হইবে না। এইজন্য ইহাতে ছাগ ইত্যাদি কুরবানী করাও ওয়াজিব নহে।
(৬) ইহরাম অবস্থায় শিকার করাও দুরুস্ত নহে। কিন্তু সামুদ্রিক শিকার দুরস্ত আছে। স্থলজন্তু শিকার করিলে, উট, গরু ও ছাগল, এই তিন প্রকারের যে জন্তুর সহিত শিকার করা জন্তুর মিল আছে তাহা কুরবানী করা ওয়াজিব হইবে।
পরবর্তী পর্ব —
হজ্জ করিবার নিয়ম

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন