হজ্জের অবশিষ্ট কার্যের নিয়ম —
আরাফার ময়দানে অবস্থানে পর মুযদালাফায় গমন করিবে। সেখানে যাইয়া গোসল করিবে; কারণ মুযদালাফা হারম শরীফের অন্তর্ভুক্ত এবং মাগরিবের নামাযে বিলম্ব করত ইশার নামাযের সহিত মিলাইয়া এক আযান ও ইকামতে উভয় নামায আদায় করিবে। সম্ভব হইলে এই রাত্রি মুযদালাফায় জাগরিত থাকিয়া ইবাদতে কাটাইবে। কারণ ইহা অতিশয় ফযীলতের রাত্রি; এই রাত্রে মুযদালাফায় অবস্থান করাই ইবাদতের মধ্যে গণ্য। মুযদালাফায় অবস্থান না করিলে একটি ছাগল কুরবানী করিতে হয়। মিনায় নিক্ষেপের জন্য এখান হইতে সত্তরটি প্রস্তরখণ্ড সঙ্গে লইবে। কারণ, এখানে প্রস্তর যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়। রাত্রির শেষভাগে মিনাবাজারে যাওয়ার আয়োজন করিবে। ফজরের নামায আওয়াল ওয়াক্তে পড়িয়া রওয়ানা হইবে। মুযদালাফার শেষপ্রান্তে 'মাশআরুল হারাম' নামক স্থানে পৌছিয়া রাত্রির অন্ধকার দূরীভূত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করিবে এবং দু'আ করিতে থাকিবে। তৎপর তথা হইতে 'ওয়াদিউল মাহশার' নামক স্থানে পৌঁছিবে। এই স্থানটি অতি দ্রুতগতিতে অতিক্রম করিবার উদ্দেশ্যে স্বীয় বাহনকে খুব দ্রুত হাঁকাইয়া নিবে এবং পদাতিকগণও অতি দ্রুতগতিতে চলিবে।কারণ, এই ময়দান অতি দ্রুতগতিতে অতিক্রম করা সুন্নত। ঈদের দিন প্রাতঃকালে কখনও আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবর পূর্ণ তকবীর বলিবে, কখনও 'লাব্বাইকা' বলিবে। এইরূপ 'জামারাত' নামক উচ্চ স্থানে আরোহণ করিবে (এবং প্রস্তর নিক্ষেপ করিবে)। তৎপর ইহা হইতে অবতরণ করত 'জামারাতুল আকাবা' নামক উচ্চ স্থানে আরোহণ করিবে (এবং প্রস্তর নিক্ষেপ করিবে) তথা হইতে কা'বাগৃহের দিকে মুখ ফিরাইলে ডান হাতের দিকে রাস্তার অপর পারে এই স্থানটি অবস্থিত। সূর্য একবল্লম পরিমাণ উপরে উঠিলে সাতটি প্রস্তর উক্ত জামরাতে নিক্ষেপ করিবে। প্রস্তর নিক্ষেপের সময় কা'বা শরীফের দিকে মুখ ফিরাইয়া রাখা উত্তম। এখানে 'লাব্বাইক' না বলিয়া ইহার পরিবর্তে 'আল্লাহু আকবর' বলিবে।
প্রত্যেকটি প্রস্তর নিক্ষেপকালে এই দু'আ পড়িবে- এই পর্যন্ত কার্য শেষ হইলে 'লাব্বাইকা' ও 'আল্লাহু আকবর' আর বলিতে হইবে না। কিন্তু আয়্যামে তাশরীকের শেষ দিবসের প্রাতঃকাল পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক বলিবে। ঈদের দিন হইতে চতুর্থ দিবস পর্যন্ত আয়্যামে তাশরীক। তৎপর (মিনাবাজারে) নিজ নিজ মঞ্জিলে প্রত্যাবর্তন করত দু'আ ও প্রার্থনায় লিপ্ত হইবে। কুরবানী করা আবশ্যক হইলে কুরবানী করিবে এবং কুরবানী শর্তগুলির দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখিবে। এ সময়ে মস্তকও মুগুন করিবে। প্রস্তর নিক্ষেপ হইতে মস্তক মুণ্ডন পর্যন্ত কার্য শেষ হইয়া গেলে এক তাহালুল হইয়া গেল। ইহার পর স্ত্রী-সহবাস ও শিকার ব্যতীত ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ অন্য সকল কাজ হালাল হইয়া যাইবে।
পরবর্তী পর্ব
তওয়াফে রুকন

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন