মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৫

আত্মদর্শন (২২) জাগ্রতাবস্থায় আধ্যাত্মিক জগতের জ্ঞান লাভের উপায়



আত্মদর্শন পর্ব - ২২
📚কিমিয়ায়ে সাদাত ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

জাগ্রতাবস্থায় আধ্যাত্মিক জগতের জ্ঞান লাভের উপায় —
প্রিয় পাঠক, মনে করিও না যে, স্বপ্ন ও মৃত্যু ব্যতীত আধ্যাত্মিক জগতের দিকে আত্মার দ্বার খোলে না। কোন ব্যক্তি যদি প্রকৃত রিয়াযত মুজাহাদা ও সাধনা করে ক্রোধ-লোভাদি রিপুসমূহ হইতে নিজেকে বাঁচাইয়া রাখে, মন্দ স্বভাব হইতে আপনাকে পবিত্র রাখে, নির্জনে চক্ষু বন্ধ করত উপবেশনপূর্বক জড়জগত হইতে ইন্দ্রিয়সমূহের সকল সম্বন্ধ ছিন্ন করে এবং অপর দিকে আধ্যাত্মিক জগতের সহিত আত্মার সংযোগ স্থাপন করত রসনা দ্বারা নহে বরং হৃদয় হইতে ‘আল্লাহ্' 'আল্লাহ্' যিকির করিতে থাকে, এমনকি নিজকে ও সমস্ত বিশ্বজগত ভুলিয়া যায়- এক আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন কিছুরই তাহার খবর থাকে না, তবে জাগ্রত অবস্থায়ও তাহার অন্তর্দ্বার খোলা থাকিবে। লোকে স্বপ্নে যাহা দেখিতে পায় এরূপ অবস্থাপ্রাপ্ত ব্যক্তি জাগ্রত অবস্থাতেই তাহা দেখিতে পাইবে, ফেরেশতাগণ মনোহর মূর্তিতে তাহার নিকট প্রকাশিত হইবে আর সে ব্যক্তি পয়গম্বরগণকে দেখিতে পাইবে এবং তাঁহাদের নিকট হইতে সাহায্য পাইবে, আসমান-যমীনের সমস্ত রাজ্য তাহার নয়নগোচর হইবে যাহার প্রতি এই পথ খোলা হইয়াছে, তিনি বিশ্বজগতের আশ্চর্য আশ্চর্য তামাশা দেখিতে পান এবং এমন এমন ব্যাপার তাঁহার সম্মুখে উদ্ঘাটিত হয় যাহা বর্ণনাতীত। এই অবস্থা সম্বন্ধেই রাসূলে মাকবূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন : “আমাকে সমস্ত জগত দেখানো হইয়াছে। অনন্তর আমি বিশ্বের পূর্ব হইতে পশ্চিম পর্যন্ত সমস্ত দেখিয়াছি।” আল্লাহ্ও এই অবস্তা সম্বন্ধেই বলেনঃ “আর তদ্রূপ আমি ইব্রাহীম (আ.)-কে আসমান ও যমীনের সমস্ত রাজ্য দেখাইয়াছি।” সমস্ত পয়গম্বরের জ্ঞান এইরূপেই হাসিল হইয়াছিল; ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে বা শিক্ষার পথে অর্জিত হয় নাই। তাঁহাদের রিয়াযত মুজাহাদাই এই জ্ঞানের মূল উৎস। যেমন আল্লাহ্ বলেন : “সব সম্বন্ধ ছিন্ন করত কেবল তাঁহার (আল্লাহর) দিকে আস, সব ছাড়িয়া তাঁহাকেই স্মরণ কর। নিজকে আল্লাহর এখতিয়ারে ছাড়িয়া দাও। দুনিয়া অর্জনে লিপ্ত হইও না, তিনি সকল কার্যের বন্দোবস্ত করিয়া দিয়া থাকেন।” তিনি আরও বলেন : “তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের প্রভু, তিনি ব্যতীত আর কেহই উপাস্য নাই। অনন্তর তাঁহাকেই কার্যনির্বাহ ধর।” তুমি যখন আল্লাহকে কার্যনির্বাহক ধরিলে তখন বেপরোয়া থাক এবং দুনিয়ার সহিত আর মিলিত হইও না। আল্লাহ্ তৎপর বলেন “আর তাহারা যাহা বলিয়া থাকে তাহাতে তুমি সবর কর এবং তাহাদিগকে সদ্ভাবে ছাড়িয়া দাও।”

জ্ঞানের শ্রেনীবিভাগ

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...