মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫

বিবাহ (১৪) কনের অবস্থা

 

বিবাহ (পর্ব – ১৪) 
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

কনের অবস্থা 
কনের অবস্থা সম্পর্কে দু'প্রকার বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত। 
প্রথম, বিবাহের পরিপন্থী বিষয়াদি থেকে কনে মুক্ত কিনা তা দেখার দরকার এবং দ্বিতীয়, দেখা উচিত, তাকে বিবাহ করলে জীবন সুন্দরভাবে অতিবাহিত হবে কিনা এবং উদ্দেশ্য হাসিলহবে কিনা।
নিম্নে বিবাহের পরিপন্থী বিষয়াদি বর্ণিত হচ্ছে:
(১) অন্য কোন ব্যক্তির বিবাহিত স্ত্রী হওয়া। 
২) অন্য স্বামীর কাছে থেকে তালাকপ্রাপ্তির পর অথবা স্বামীর মৃত্যুর পর তার ইদ্দতে থাকা। 
(৩) মুখে কোন কুফরী কলেমা উচ্চারণ করার কারণে ধর্মত্যাগী হওয়া। 
(৪) অগ্নিপূজারী হওয়া। 
(৫) মূর্তিপূজারী ও যিনদীক হওয়া অর্থাৎ কোন ঐশী গ্রন্থ ও পয়গম্বরের সাথে সম্পর্কযুক্ত না হওয়া। এমন নারীও এর অন্তর্ভুক্ত, যার মাযহাব হচ্ছে হারাম বস্তুকে হালাল মনে করা অথবা এমন বিষয়ে বিশ্বাস করা, যার বিশ্বাসীকে শরীয়ত কাফের বলে। এ ধরনের কোন নারীকে বিবাহ করা দুরস্ত নয়। 
৬) যে সকল আত্মীয়কে বিবাহ করা হারাম, কনে তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া অর্থাৎ মা, নানী, দাদী, কন্যা, পৌত্রী, দৌহিত্রী, বোন, ভাতিজী, ভাগ্নেয়ী ও তাদের সকলের সন্তান, ফুফু ও খালা হওয়া। 
(৭) দুধ পান করার কারণে হারাম হওয়া। বলাবাহুল্য, আত্মীয়তার কারণে যাদেরকে বিবাহকরা হারাম, দুধ পান করার কারণেও সেসব আত্মীয় হারাম, কিন্তু পাঁচ বারের কম দুধ পানকরলে ইমাম শাফেয়ীর মতে হারাম হয় না। (ইমাম আবু হানীফার মতে একবারেও হারাম হয়েযায়।) 
(৮) জামাতা হওয়ার করণে হারাম হওয়া। উদাহরণতঃ বর ইতিপূর্বে কনের কন্যা, পৌত্রী অথবা দৌহিত্রীকে বিবাহ করে থাকলে এমতাবস্থায় এই কনেকে বিবাহ করতে পারে না।কেননা, কোন নারীকে কেবল বিবাহ করলেই তার মা, দাদী প্রমুখ হারাম হয়ে যায়। আর যদি সহবাসও করে, তবে তার সন্তানও হারাম হয়ে যায়। অথবা এমন কনে হওয়া, যাকে বরের পিতা অথবা পুত্র ইতিপূর্বে বিবাহ করেছে। এরূপ কনেও বরের জন্যে হারাম।
( ৯) কনের পঞ্চম স্ত্রী হওয়া। অর্থাৎ, বরের বর্তমানে চার স্ত্রী রয়েছে। সুতরাং পঞ্চম মহিলাকে বিবাহ করা জায়েয নয়। 
(১০) বরের বিবাহে পূর্ব থেকে কনের ভগিনী, অথবা ফুফু অথবা খালা থাকা। কেননা, এমন দু'মহিলাকে এক সাথে বিবাহে রাখা হারাম, যাদের মধ্যে এমন আত্মীয়তা বিদ্যমান যে, একজনকে পুরুষ ধরে নিলে অন্যজনের সাথে তার বিবাহ জায়েয হয় না। 
(১১) এই কনেকে পূর্বে এই বরের তিন তালাক দেয়া। এরূপ তালাকপ্রাপ্তা কনে এই বরের জন্যে হালাল নয়, যে পর্যন্ত অন্য কোন পুরুষ তাকে বিবাহ করে তার সাথে সহবাস করার পর তালাক না দেবে। 
(১২) হজ্জ অথবা ওমরার এহরাম বাঁধা। বর ও কনের মধ্য থেকে যেকোন একজন এহরাম বাঁধলে এহরাম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিবাহ জায়েয হবে না। 
(১৩) কনের পূর্ব বিবাহিতা অপ্রাপ্ত বয়স্কা হওয়া। এরূপ কনের বিবাহ প্রাপ্তবয়স্কা হওয়ার পরেই জায়েয হবে। (১৪) কনের পূর্ববিবাহিতা এতীম হওয়া। এরূপ কনের বিবাহও প্রাপ্তবয়স্কা হওয়ার পরই, জায়েয হবে।

কনের লক্ষ‍্যনীয় সদগুণাবলী  
এখন সুন্দর জীবন যাপন ও উদ্দেশ্য হাসিল হওয়ার জন্যে কনের যেসমস্ত সদগুণের প্রতি লক্ষ্যকরা উচিত, সেগুলো বর্ণনা করা হচ্ছে:

পরবর্তী পর্ব —
কনের লক্ষ‍্যনীয় প্রথম গুন
 সতী ও দ্বীনদার হওয়া

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...