মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫

বিবাহ (১৩) বিবাহ বন্ধনের আদব



বিবাহ (পর্ব – ১৩) 
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

বিবাহ বন্ধনের আদব 

(১) প্রথমতঃ পাত্রীর অভিভবকের সাথে পূর্বাহ্ণে যোগাযোগ স্থাপন করবে, কিন্তু পাত্রী ইদ্দতে থাকলে পয়গাম দেবে না। ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পর পয়গাম দেবে। অনুরূপভাবে যদিঅন্য কেউ বিবাহের পয়গাম দিয়ে থাকে, তবে তার মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত পয়গাম দেবে না।হাদীসে এ সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা আছে। 

(২) দ্বিতীয়তঃ পূর্বে খোতবা হবে এবং ইজাব কবুলের সাথে হামদ ও নাত থাকবে!

উদাহরণতঃ ওলী বলবে- আলহামদু লিল্লাহ ওয়াস্সালাতু আলা রসূলিল্লাহ্, আমি নিজের অমুক কন্যাকে তোমার বিবাহে দিলাম। 

বর বলবে- আলহামদু লিল্লাহ ওয়াস সালাতু আলা রসূলিল্লাহ্, আমি এই মোহরানার বিনিময়ে তার বিবাহ কবুল করলাম। মোহরানা নির্দিষ্ট ও কম হওয়া বাঞ্ছনীয়। হামদ ও নাত খোতবার পূর্বেও মোস্তাহাব। 

(৩) তৃতীয়তঃ কনে কুমারী হলে বরের হাল অবস্থা কনের শ্রুতিগোচর করা উচিত। কেননা, এটাপারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভালবাসার জন্যে উপযুক্ত। এ কারণেই বিবাহের পূর্বে কনে দেখেনেয়াও মোস্তাহাব। 

(৪) চতুর্থত: দুজন সাক্ষী ছাড়া আরও কিছু সৎলোকের বিবাহ মজলিসে উপস্থিত থাকা উচিত। 

(৫) পঞ্চমতঃ বিবাহে সুন্নত পালন, দৃষ্টি নত রাখা, সন্তান লাভ করা এবং এর বর্ণিত উপকারিতা সমূহের নিয়ত করবে- কেবল মনের কামনা চরিতার্থ করা লক্ষ্য না হওয়া কর্তব্য।অন্যথায় এই বিবাহ দুনিয়ার কাজে গণ্য হবে। মনের কামনা থাকা উপরোক্ত তিনটি নিয়তের পরিপন্থী নয়। অধিকাংশ এবাদতকর্ম মনের খাহেশের অনুকূল হয়ে যায়। 

মোস্তাহাব হল বিবাহ মসজিদে ও শওয়াল মাসে করা। হযরত আয়েশা (রা.) বলেনঃ রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে আমার বিবাহও শওয়াল মাসে হয় এবং আমরা প্রথম শওয়াল মাসেই মিলিত হই। 


পরবর্তী পর্ব —

কনের অবস্থা 



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...