মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫

বিবাহ (৭) বিবাহের দ্বিতীয় উপকারিতা



বিবাহ (পর্ব – ৭) 
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

বিবাহের দ্বিতীয় উপকারিতা 
বিবাহের দ্বিতীয় উপকারিতা হচ্ছে, শয়তানের চক্রান্ত থেকে হেফাযতে থাকা, কামস্পৃহা দমিত রাখা এবং দৃষ্টি নত রাখা। এতে করে লজ্জাস্থান সংরক্ষিত হয়ে যায়। হাদীসে এদিকেই ইঙ্গিত রয়েছে। বলা হয়েছে যে বিবাহ করে সে তার অর্ধেক ধর্ম বাঁচিয়ে নেয়। অতঃপর বাকী অর্ধেকের জন্যে আল্লাহকে ভয় করা উচিত। এ উপকারিতা প্রথম উপকারিতার তুলনায় কম। কেননা, কামস্পৃহার বিপদাপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে বিবাহ যথেষ্ট; কিন্তু যে ব্যক্তি সন্তান লাভ তথা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যে বিবাহ করে, সে মর্তবায় সেই ব্যক্তির উপরে, যে কেবল কামস্পৃহার বিপদাপদ থেকে আত্মরক্ষার জন্যে বিবাহ করে। তবে কামস্পৃহা সন্তান লাভে সহায়ক হয়ে থাকে। এতে আর একটি রহস্য বিদ্যমান যে, কামস্পৃহা চরিতার্থ করার মধ্যে এমন আনন্দ রয়েছে, যা চিরস্থায়ী হলে তার সমতূলা কোন আনন্দ নেই। এ আনন্দ জান্নাতে প্রতিশ্রুত আনন্দের সন্ধান দেয়। এটা উদ্রেক করার কারণ, যে আনন্দের স্বাদ জানা থাকে না, তার প্রতি উৎসাহিত করা অনর্থক হয়ে থাকে। উদাহরণতঃ পুরুষত্বহীন ব্যক্তিকে নারী সম্ভোগের উৎসাহ দেয়া মোটেই উপকারী নয়। সুতরাং স্বাদ জানার জন্যেই মানুষের মধ্যে কামস্পৃহা সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে সে জান্নাতে একে চিরস্থায়ী করতে আগ্রহী হয়, যা আল্লাহ্ তা'আলার এবাদতের উপর নির্ভরশীল। এখন আল্লাহ্ তাআলার প্রজ্ঞা ও রহমত চিন্তা করা দরকার যে, এক কামস্পৃহার মধ্যে তিনি বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ দু'প্রকার জীবন নিহিত রেখেছেন। বাহ্যিক জীবন এভাবে যে, কামস্পৃহার মাধ্যমে মানুষের বংশ বিস্তার অব্যাহত থাকে। এটাও মানব জাতির জন্যে এক প্রকার স্থায়িত্ব। আর আভ্যন্তরীণ জীবন হচ্ছে পারলৌকিক জীবন, যার কারণ কামস্পৃহাই হয়ে থাকে। অর্থাৎ, কামস্পৃহার দ্রুত অবসান দেখে মানুষ চিরস্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ আনন্দ লাভের ফিকির করে এবং সেটা অর্জন করার জন্যে এবাদতে উদ্বুদ্ধ হয়। অতএব কামস্পৃহার কারণেই যেন জান্নাতের নেয়ামত হাসিলের সাধনা করা সহজ হয়ে যায়। সারকথা, কামোদ্দীপনা দমন হেতু বিবাহ করা শরীয়তে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেই ব্যক্তির জন্যে, যে অক্ষম ও পুরুষত্বহীন নয়। অধিকাংশ মানুষই এরূপ। এটা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ, কামস্পৃহা প্রবল হলে এবং তা দমন করার মত তাকওয়ার শক্তি না থাকলে মানুষ কুকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এ আয়াতে এদিকেই ইঙ্গিত রয়েছে
“এমনটি না করলে পৃথিবীতে অনর্থ ও মহাগোলযোগ হবে”।
কামস্পৃহা প্রবল হওয়ার সময় তাকওয়ার বাধা থাকলেও এর পরিণতি হবে, মানুষ কেবল বাহ্যিক অঙ্গকে বিরত রাখবে অর্থাৎ, দৃষ্টি নত ও লজ্জাস্থান সংরক্ষিত রাখবে; কিন্তু অন্তরকে কুমন্ত্রণা ও কুচিন্তা থেকে বাঁচানো তার ক্ষমতার বাইরে থাকবে। তার মনে এ ব্যাপারে দ্বন্দ্ব থাকবে এবং সহবাসের চিন্তাভাবনা হবে। মাঝে মাঝে এটা নামাযের ভেতরে উপস্থিত হতে পারে এবং নামাযের মধ্যে এমন কল্পনা আসতে পারে যা মানুষের কাছে বলা লজ্জার কারণে সম্ভবপর নয়। আল্লাহ তাআলা মনের অবস্থা জানেন। মনই মুরীদের জন্যে আখেরাতের পথে চলার একমাত্র পুঁজি। কাজেই মনে কুচিন্তা থাকা খুবই খারাপ। সদা-সর্বদা রোযা রাখলেও কুমন্ত্রণার মূল উৎপাটিত হয় না। হাঁ, রোযা রাখতে রাখতে দেহ দুর্বল এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেলে কুমন্ত্রণা দূর হওয়া সম্ভবপর। এসব কারণেই হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন : আবেদের এবাদত বিবাহ দ্বারাই পূর্ণতা লাভ করে। কামস্পৃহার প্রাধান্য একটি ব্যাপক মসিৰত। কম মানুষই এ থেকে মুক্ত থাকে। “আমাদেরকে এমন বোঝা বহন করতে দিয়ো না, যার শক্তি আমাদের নেই”। -এ আয়াতের তফসীরে হযরত কাতাদা (র.) বলেন : এখানে কামোদ্দীপনা বুঝানো হয়েছে : “মানুষ দুর্বল সৃঞ্জিত হয়েছে” –এ আয়াতের তফসীরে হযরত মুজাহিদ বলেন : এখানে দুর্বল অর্থ যে নারী সম্ভোগের ব্যাপারে সবর করে না। হযরত কাইয়াস বলেন: যখন মানুষের পুরুষাঙ্গ উত্তেজিত হয়, তখন তার দুই তৃতীয়াংশ বুদ্ধি লোপ পায়। কেউ বলেন : তার তৃতীয়াংশ দ্বীনদারী বরবাদ হয়ে যায়। নাওয়াদেরুত্তাফসীরে বর্ণিত আছে, “অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি যখন তা ঘনীভূত হয়” –এ আয়াতের তফসীরে হযরত ইবনে আব্বাস (র.) বলেন, এখানে উদ্দেশ্য পুরুষাঙ্গ উত্তেজিত হওয়া। মোট কথা, এটা এমন এক বিপদ, যা উত্তেজিত হলে তার মোকাবিলা জ্ঞানবুদ্ধি এবং দ্বীনদারীও করতে পারে না। এদিকেই ইশারা করা হয়েছে এই হাদীসে নারীদেরকে সম্বোধন করে বলা হয়েছে- “আমি এমন কোন স্বল্প বুদ্ধি ও স্বল্প দ্বীনওয়ালা দেখিনি, যে বুদ্ধিমানদের উপর তোমাদের চেয়ে অধিক প্রবল হয়ে যায়।
রসূলে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) দোয়ায় বলতেন : “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার কানের, আমার চোখের, আমার অন্তরের এবং আমার বীর্যের অনিষ্ট থেকে”। এখন বুঝা উচিত, যে বিষয় থেকে রসূলে পাক (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন, অন্য ব্যক্তি সে বিষয়ে অবহেলা কিরূপে করতে পারে?

পরবর্তী পর্ব —
বিবাহের তৃতীয় উপকারিতা



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...