মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫

বিবাহ (৬) বিবাহের প্রথম উপকারিতা সন্তান হওয়া





বিবাহ (পর্ব – ৬) 
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

বিবাহের উপকারিতা —
বিবাহের উপকারিতা হলো - সন্তান হওয়া, কামপ্রবৃত্তি নিবারণ করা, ঘরকন্নার ব্যবস্থা করা, দল বৃদ্ধি করা, মহিলাদের সাথে থাকার ব্যাপারে আত্মিক সাধনা করা- সংক্ষেপে এই পাঁচটি বিষয় হচ্ছে বিবাহের উপকারিতা। এখন প্রত্যেকটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানা দরকার।

 বিবাহের প্রথম উপকারিতা সন্তান হওয়া 
সবগুলোর মধ্যে এটাই মূল। মানব বংশ অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্যেই বিবাহ প্রবর্তিত হয়েছে, যাতে জগৎ মানবশূন্য হয়ে না যায়। নর ও নারীর মধ্যে নিহিত কাম-বাসনা সন্তান হওয়ার একটি সূক্ষ্ম ব্যবস্থা। যেমন জন্তুকে জালে আবদ্ধ করার জন্যে দানা ছড়িয়ে দেয়া হয়, তেমনি নর নারীর সহবাসস্পৃহা সন্তান লাভের একটি উপায়। খোদায়ী শক্তি এসব ঝামেলা ছাড়াই মানব সৃষ্টি করতে সক্ষম ছিল; কিন্তু খোদায়ী প্রজ্ঞা এটাই চেয়েছে যে, ঘটনাবলী কারণাদির মধ্যেই সীমিত থাকুক। যদিও এর প্রয়োজন ছিল না; কিন্তু আপন কুদরত জাহির করা, বিস্ময়কর কারিগরি সম্পন্ন করা এবং স্বীয় পূর্ব ইচ্ছা, নির্দেশ ও কলমের লিখন অনুযায়ী অস্তিত্ব দান করার জন্যে এ ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়েছে। কামপ্রবৃত্তি থেকে মুক্ত অবস্থায় সন্তান লাভের উপায় হিসেবে বিবাহ করলে তা চারি প্রকারে সওয়াবের কারণ হয়, যা বিবাহের ফযীলতের মূল কথা। এমনকি এগুলোর কারণেই বুযুর্গগণ অবিবাহিত অবস্থায় আল্লাহ তাআলার সামনে যাওয়া পছন্দ করেননি। 
— প্রথম সন্তান লাভের চেষ্টা করা আল্লাহ তাআলার মর্জির অনুকূল। কেননা, এতে মানব জাতির অস্তিত্ব অবশিষ্ট থাকে। 
— দ্বিতীয় : এতে রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-ঊনার প্রতি মহব্বত পাওয়া যায়। কেননা, যে সংখ্যাধিক্য নিয়ে তিনি গর্ব করতেন, এ চেষ্টা তারই অন্তর্ভুক্ত। 
— তৃতীয়, মৃত্যুর পর সৎকর্মপরায়ণ সন্তানের দোয়া আশা করা যায়। 
— চতুর্থ, কচি বয়সে সন্তান মারা গেলে সে সুপারিশকারী হবে বলে আশা করা যায়। 
এই প্রকার চতুষ্টয়ের মধ্যে প্রথম প্রকারটি সর্বাধিক সূক্ষ্ম এবং জনাসাধারণের বোধগম্যতার ঊর্ধ্বে। অথচ আল্লাহ তাআলার অভূতপূর্ব কারিগরি ও বিধানাবলী সম্পর্কে যারা সম্যক জ্ঞাত, তাদের মতে এটাই সর্বাধিক শক্তিশালী ও সঠিক প্রকার। এর প্রমাণ, যদি কোন মনিব তার গোলামকে বীজ, কৃষিক্ষেত্র সরবরাহ করে এবং গোলামও সে কাজ করতে সক্ষম হয়, তবে গোলাম অলস‍্যতা করে কৃষিকাজের সাজসরঞ্জাম বেকার ফেলে রাখলে এবং বীজ নষ্ট করে দিলে অবশ্যই মনিবের ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির পাত্র হবে। এখন দেখা দরকার, আল্লাহ তাআলা মানুষকে কি সরবরাহ করেছেন। তিনি মানুষকে যুগল সৃষ্টি করেছেন, নরকে প্রজননযন্ত্র ও অণ্ডকোষ দিয়েছেন এবং কটিদেশে বীর্য সৃষ্টি করে তা শিরা উপশিরায় প্রবাহিত হওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। অপর দিকে নারীর গর্ভাশয়কে বীর্য ধারণের পাত্র করেছেন। এর পর নর নারী উভয়ের উপর কামপ্রবৃত্তি ও যৌনবাসনা চাপিয়ে দিয়েছেন। এসব আয়োজন স্পষ্ট ভাষায় স্রষ্টার উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে। যদি আল্লাহ তাআলা রসূলের (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) মুখে আপন উদ্দেশ্য বর্ণনা নাও করতেন, তবুও বুদ্ধিমানদের জন্যে এসব আয়োজন ও সাজসরঞ্জামের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য বুঝে নেয়া কঠিন ছিল না, কিন্তু আল্লাহ তাআলা স্বীয় রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুখে এ উদ্দেশ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি এরশাদ করেনঃ 
“তোমরা পরস্পরে বিবাহ কর এবং বংশ বিস্তার কর”। এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি বিবাহ থেকে বিরত থাকবে সে কৃষিকাজে বিমুখ, বীজ ধ্বংসকারী এবং আল্লাহ তাআলার আয়োজন ব্যর্থকারী হিসেবে গণ্য হবে। সে প্রকৃতির সেই উদ্দেশ্য ও রহস্যের খেলাফ করবে, যা সৃষ্টি অবলোকন করে হৃদয়ঙ্গম করা যায় !
এ কারণেই শরীয়ত সন্তান হত্যা করতে এবং জীবিত কবরস্থ করতে কঠোর ভাষায় নিষেধ করেছে। কেননা, এটাও অস্তিত্ব পূর্ণ হওয়ার পরিপন্থী। সার কথা, যে বিবাহ করে, সে এমন একটি বিষয় পূর্ণ করতে সচেষ্ট হয়, যা পূর্ণ করা আল্লাহ তাআলার পছন্দনীয়। পক্ষান্তরে যে বিবাহ থেকে বিরত থাকে, সে এমন বস্তুকে বিনষ্ট ও বেকার করে দেয়, যা বিনষ্ট করা আল্লাহ তাআলার কাছে অপছন্দনীয়। এছাড়া সে সেই বংশের গতি স্তব্ধ করে দেয়, যা আল্লাহ তাআলা হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে তার অস্তিত্ব পর্যন্ত অব্যাহত রেখেছিলেন এবং সে নিজেই কৌশল করে, যাতে তার মৃত্যুর পর সন্তান-সন্ততি তার স্থলাভিষিক্ত না হয়। যদি বিবাহের কারণ যৌন প্রবৃত্তি চরিতার্থ করাই হত, তবে হযরত মুয়ায মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে বলতেন না যে, আমাকে বিবাহ করাও, যাতে আল্লাহ তাআলার কাছে অবিবাহিত অবস্থায় না যাই। এখানে প্রশ্ন হয়, তখন তাঁর সন্তানের আশা ছিল না, তবুও বিবাহের বাসনা করার কারণ কি ছিল? এর জওয়াব, সন্তান সহবাসের ফলে হয়। সহবাসের কারণ যৌনস্পৃহা। এটা বান্দার ইচ্ছাধীন নয়। যৌনস্পৃহায় গতিবেগ সঞ্চার করে, কেবল এমন বিষয় মওজুদ করাই বান্দার ইচ্ছাধীন। এটা সর্বাবস্থায় হতে পারে! সুতরাং যে বিবাহ করে সে তার দায়িত্ব পূর্ণ করে। অবশিষ্ট বিষয়গুলো তার আয়ত্তের বাইরে। এ কারণেই পুরুষত্বহীন ব্যক্তির জন্যেও বিবাহ করা মোস্তাহাব। 
বিবাহ সন্তান লাভের উপায়, এর দ্বিতীয় কারণ —রসূলল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর মহব্বত ও সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হওয়া। যে বস্তু দ্বারা তিনি গর্ব করবেন, তার প্রাচুর্য বিবাহ দ্বারাই হয়। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) একথা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং হযরত ওমর (র.)-এর কার্য থেকেও তা বুঝা যায়। বর্ণিত আছে, তিনি একাধিক বিবাহ করেছেন। তিনি বলতেন : আমি সন্তানের জন্যে বিবাহ করি। হাদীসে বর্ণিত বন্ধ্যা নারীর নিন্দা থেকেও একথা বুঝা যায়।
রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ 
“গৃহের কোণের মাদুর বন্ধ্যা নারীর তুলনায় উত্তম"। তিনি আরও বলেন– 
“যে নারী সন্তান প্রসব করে এবং ভালবাসে, সে তোমাদের উত্তম স্ত্রী”
 আরও বলা হয়েছে- “কৃষ্ণাঙ্গ সন্তান প্রসবকারিণী নারী সুন্দরী বন্ধ্যা নারী অপেক্ষা উত্তম”। 
এসব রেওয়ায়েত থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়, বিবাহের ফযীলতে সন্তান চাওয়ারও দখল আছে। কেননা, সুন্দরী স্ত্রী পুরুষের পবিত্রতা কায়েম রাখা, দৃষ্টি নত রাখা এবং কাম-বাসনা চরিতার্থ করার জন্যে অধিক শোভনীয়। এতদসত্ত্বেও সন্তানের দিকে লক্ষ্য করে কৃষ্ণাঙ্গী মহিলাকে তার উপর অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
— তৃতীয় কারণ- মৃত্যুর পর সৎ সন্তান থাকা, যে পিতার জন্যে দোয়া করবে। হাদীসে আছে,
“সস্তানের দোয়া পিতার সামনে নূরের খাজ্ঞায় রেখে পেশ করা হয়।” 
কোন কোন লোক বলে, মাঝে মাঝে সন্তান সৎ হয় না। এটা বাজে কথা। কেননা, ধর্মপরায়ণ মুসলমানের সন্তান প্রায়শঃ সৎ-ই হবে; বিশেষতঃ যখন তাকে উত্তমরূপে লালন-পালন করা হয় এবং ভাল কাজে নিয়োজিত রাখা হয়। সারকথা, সৎ হোক কিংবা অসৎ, সর্বাবস্থায় ঈমানদারের দোয়া পিতা-মাতার জন্যে উপকারী হয়ে থাকে। সন্তান সংকাজ করে দোয়া করলে পিতা তার সওয়াব পাৰে। কেননা, সন্তান তার উপার্জন, কিন্তু অসৎ কাজ করলে পিতাকে তজ্জন্যে জওয়াবদিহি করতে হবে না। কেননা, কোরআনে বলা হয়েছে।
“একজনের পাপের বোঝা অন্য জনে বহন করবে না”।
উপরোক্ত বিষয়টিই আল্লাহ তা'আলা এভাবে বর্ণনা করেছেন : “আমি মিলিয়ে দেব তাদের সাথে তাদের সন্তানদেরকে এবং তাদের কোন আমল হ্রাস করব না”। 
অর্থাৎ, তাদের আমল হ্রাস না করে অতিরিক্ত অনুগ্রহস্বরূপ তাদের সন্তানকে তাদের সাথে সংযুক্ত করে দেব।
—চতুর্থ কারণ- অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান পূর্বে মারা গেলে পিতামাতার জন্যে সুপারিশকারী হবে। রসূলে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন : সন্তান তার পিতামাতাকে জান্নাতের দিকে টেনে নেবে। কোন কোন হাদীসে বলা হয়েছে- সস্তান পিতামাতার কাপড় ধরবে, যেমন আমি তোমার কাপড় ধরছি। আরও বলা হয়েছে- সন্তানকে জান্নাতে প্রবেশ করতে বলা হবে। সে জান্নাতের দরজায় পৌঁছে থেমে যাবে এবং রাগ করে বলবে : আমার পিতামাতা সঙ্গে থাকলে আমি জান্নাতে যাব। তখন আদেশ হবে তার পিতামাতাকে তার সাথে জান্নাতে দাখিল কর। অন্য হাদীসে আছে, 
“কেয়ামতের ময়দানে হিসাব-নিকাশের জন্যে সন্তানরা সমবেত হলে ফেরেশতাদেরকে আদেশ করা হবে : তাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাও। সন্তানরা জান্নাতের দরজায় আসবে। তাদেরকে বলা হবে মুসলমানের সন্তানরা, তোমরা ভিতরে এস। তোমাদের কোন হিসাব-কিতাব নেই। সন্তানরা বলবে : আমাদের পিতামাতা কোথায়? ফেরেশতারা বলবে : তারা তোমাদের মত নয়। তাদের পাপকর্ম আছে। তাদের হিসাব-নিকাশ আছে। একথা শুনে সন্তানরা হঠাৎ গোঁ ধরবে এবং জান্নাতের দরজায় ফরিয়াদ করতে থাকবে। আল্লাহ তা'আলা তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্ত্বেও জিজ্ঞেস করবেন : এই ফরিয়াদ কিসের? ফেরেশতারা বলবে : ইলাহী ! এরা মুসলমানদের সন্তান। এরা বলেঃ আমরা পিতামাতাকে সঙ্গে না নিয়ে জান্নাতে যাব না। আল্লাহ তা'আলা আদেশ করবেন- এই দলের মধ্যে যাও এবং তাদের পিতামাতার হাত ধরে জান্নাতে দাখিল কর।” 
এক হাদীসে বলা হয়েছে : “যার দু'সন্তান মারা যায়, তার মধ্যে ও জাহান্নামের অগ্নির মধ্যে একটি প্রাচীর অন্তরায় হয়ে যাবে”। 
আরও আছে, “যার তিনটি সন্তান বালেগ হওয়ার পূর্বে মারা যায়, আল্লাহ তা'আলা তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন সপ্তানদের প্রতি অতিরিক্ত রহমতস্বরূপ। কেউ প্রশ্ন করল : ইয়া রসূলাল্লাহ! দু'জন মারা গেলে? তিনি বললেনঃ দু'জন মারা গেলেও তাই হবে।
জনৈক বুযুর্গকে লোকেরা বিবাহ করতে বলত, কিন্তু তিনি কিছুদিন পর্যস্ত অস্বীকার করতে থাকেন। একদিন ঘুম থেকে উঠে বলতে লাগলেনঃ আমাকে বিবাহ করিয়ে দাও। লোকেরা তাঁকে বিয়ে করিয়ে দিল এবং বিয়ে করার খাহেশ হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করল। বুযুর্গ বললেন : আল্লাহ তা'আলা হয়তো আমাকে ছেলে দেবেন এবং শৈশবে তার মৃত্যু হবে। ফলে পরকালে সে আমার উপকারে আসবে। এর পর বললেনঃ আমি স্বপ্নে দেখেছি যেন কেয়ামত কারেম হয়েছে। সকলের সাথে আমিও কেয়ামতের ময়দানে দণ্ডায়মান। পিপাসায় আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত। অন্য সবই পিপাসায় তেমনি কাভর। এর পর দেখি, কিছু সংখ্যক শিশু কাতার ডিঙ্গিয়ে চলে আসছে। তাদের মাথায় নূরের রুমাল এবং হাতে রূপার পাত্র ও স্বর্ণের গ্লাস। তারা এক একজনকে পানি পান করিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়ছে এবং অনেককে ছেড়েও চলেছে। আমি এক শিশুর দিকে হাত বাড়িয়ে বললাম : পিপাসায় আমার শোচনীয় অবস্থা। আমাকে পানি পান করাও। সে বলল : আমরা মুসলমানদের সন্তান- শৈশবে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিলাম।
কোরআনে বলা হয়েছে অগ্রে প্রেরণ কর। তোমরা নিজেদের জন্যে এর এক অর্থ এরূপও করা হয়েছে, এখানে উদ্দেশ্য শিশুদেরকে অগ্রে প্রেরণ করা। মোট কথা, উপরোক্ত চারটি কারণ থেকেই জানা গেল, বিবাহের ফযীলত বেশীর ভাগ এ কারণেই যে, এটা সন্তান লাভ করার উপায় !


বিবাহের দ্বিতীয় উপকারিতা 


   

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...