বিবাহের চতুর্থ উপকারিতা —
বিবাহের চতুর্থ উপকারিতা হচ্ছে, ঘরকন্নার ব্যবস্থাপনা তথা রান্নাবান্না করা, ঝাড় দেয়া, বিছানা করা ও থালাবাসন মাজা। কেননা, গৃহে পুরুষ একা থাকলে এসব কাজ করা তার জন্যে কঠিন হবে। এতে তার অনেক সময় নষ্ট হবে। ফলে এলেম ও আমলের জন্যে অবসর পাবে না। এদিক দিয়ে সাধ্বী নারী ঘরকন্নার ব্যবস্থাপনা করে তার স্বামীর ধর্মকর্মে সহায়তা করে। এ কারণেই আবু সোলায়মান দারানী বলেন : সাধ্বী সুনিপুণা স্ত্রী নিয়ে সংসার করা দুনিয়াদারীর মধ্যে গণ্য হয় না। কেননা, তার মাধ্যমে পুরুষ আখেরাতের কাজ করার সময় পায়। অর্থাৎ, “পরওয়ারদেগার, আমাদেরকে দুনিয়াতে পুণ্য দান কর”। - এ আয়াতের তফসীরে মুহাম্মদ ইবনে কা'ব বলেন : এখানে দুনিয়ার পুণ্য বলে সুশীলা সুনিপুণা স্ত্রী বুঝানো হয়েছে। হযরত ওমর (র.) বলতেন : বান্দাকে ঈমানের পর ভাগ্যবর্তী স্ত্রীর চেয়ে উত্তম কোন কিছু দেয়া হয়নি। স্ত্রীদের মধ্যে কেউ কেউ এমন আশীর্বাদ হয়ে থাকে যে, কোন দান তাদের বিনিময় হতে পারে না। আবার কতক এমন গলার বেড়ী হয় যে, তাদের কাছ থেকে কোন মুক্তিপণের বিনিময়েও রেহাই পাওয়া যায় না। রসূলে আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেন : হযরত আদম (আ.)-এর উপর আমার শ্রেষ্ঠত্ব দু'টি বিষয়ে এক, তাঁর স্ত্রী অবাধ্যতার কাজে তাঁর মদদগার ছিল। আর আমার পত্নী আল্লাহ তাআলার আনুগত্যমূলক কাজে আমার সাহায্য করে। দ্বিতীয়, তাঁর শয়তান কাফের ছিল আর আমার শয়তান মুসলমান হয়ে গেছে। সে ভাল কাজ ছাড়া কিছু আদেশ করে না। মোট কথা, এটাও এমন এক উপকারিতা, যা সৎলোকেরা কামনা করে, কিন্তু এ উপকারিতার পূর্বশর্ত হচ্ছে, দুপত্নী থাকা চলবে না। কেননা, দু'পত্নী থাকলে প্রায়ই পারিবারিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং জীবন নিরানন্দ হয়ে যায়।
পরবর্তী পর্ব —
বিবাহের পঞ্চম উপকারিতা

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন