রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩

হকদারের হক (১) বন্ধুত্বের ফযীলত



হকদারের হক পর্ব- ১
📚সৌভাগ্যের পরশমণি   ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

বন্ধুত্বের ফযীলত
আল্লাহ যাহার হিত কামনা করেন তাহাকে উৎকৃষ্ট বন্ধু দান করেন, যেন সে আল্লাহ্‌কে ভুলিয়া গেলে বন্ধু তাহাকে স্মরণ করাইয়া দেয়; আর সে আল্লাহর স্মরণে লিপ্ত থাকিলে বন্ধু তাহার সঙ্গী ও সহায়ক থাকে। তিনি আরও বলেনঃ দুইজন মু'মিন পরস্পর মিলিত হইলে একের দ্বারা অন্যের কোন ধর্মীয় উপকার না হইয়া পারে না। তিনি অন্যত্র বলেন : কোন ব্যক্তি অপরকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে স্বীয় ভ্রাতারূপে গ্রহণ করিলে তাহাকে বেহেশতে এমন উন্নত মর্যাদা প্রদান করা হইবে যাহা অন্য কোন নেককার্য দ্বারা লাভ করা যায় না। হযরত আবূ ইদরীস খাওলানী (রঃ) হযরত মুআয (রাঃ)-কে বলিলেন : আমি আল্লাহর ওয়াস্তে তোমাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিলাম। তিনি বলিলেন : আমি তোমাকে শুভ সংবাদ প্রদান করি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-উনাকে বলিতে শুনিয়াছি-
>“কিয়ামত দিবস আরশের আশে পাশে কুরসীসমূহ স্থাপিত হইবে। কতিপয় লোক উহাতে উপবেশন করিবে। তাহাদের চেহারা পূর্ণচন্দ্রের ন্যায় দীপ্তিমান হইবে। সমস্ত লোক তো ভীত থাকিবে, অথচ এই সকল কুরসীতে সমাসীন লোক নির্ভয়ে থাকিবে; সব লোক ভীত-সন্ত্রস্ত থাকিবে; (কিন্তু) এই সকল লোক প্রশান্ত থাকিবে। কুরসীতে সমাসীন এই সমস্ত লোক আল্লাহ্ তা'আলার বন্ধু। তাহাদের কোন ভয় বা চিন্তা থাকিবে না।”
সাহাবাগণ নিবেদন করিলেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ্ ! (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তাঁহারা কারা? রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিলেনঃ
"তাহারা এইরূপ লোক যাহারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে একে অন্যের সহিত বন্ধুত্ব স্থাপন করিয়াছিল"।
রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ
>“যে দুই ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব স্থাপন করে তন্মধ্যে আল্লাহ্ সেই ব্যক্তিকে অধিক ভালবাসেন যে স্বীয় বন্ধুকে অধিক ভালবাসে।” তিনি আরও বলেন : আল্লাহ্ বলেন :
>“যাহাদের একজন অপরজনের সহিত আমার উদ্দেশ্যে সাক্ষাত করে, একজন অপরজনের সহিত আমার উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব স্থাপন করে, আমার উদ্দেশ্যে একজন অপরজনকে ক্ষমা করে এবং আমার জন্য একে অন্যকে সহায়তা করে, তাহারা আমার বন্ধু হওয়ার যোগ্য।”
রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন :
>“কিয়ামত দিবস আল্লাহ্ বলিবেন, যে সকল লোক আমার জন্য পরস্পর বন্ধুত্ব করিয়াছিল তাহারা কোথায়? আজ মানবের আশ্রয়ের জন্য কোথাও ছায়া নাই; আমি তাহাদিগকে স্বীয় (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় প্রদান করিব।”
রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ
>“কিয়ামত দিবস সাত প্রকার লোক আল্লাহর আরশের ছায়া লাভ করিবে, তাহারা ব্যতীত অপর কেহই কোন ছায়া পাইবে না। তাহারা হলো-
(১) সুবিচারক ও ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ্।
(২) যে যুবক যৌবনের প্রারম্ভ হইতে আল্লাহ্ ইবাদতে লিপ্ত রহিয়াছে।
(৩) যে ব্যক্তি মসজিদ হইতে বহির্গত হইয়া পুনরায় মসজিদে প্রবেশ করা পর্যন্ত সময়ে তাহার হৃদয় মসজিদের প্রতি আকৃষ্ট থাকে।
(৪) যে দুই ব্যক্তি কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরস্পর বন্ধুত্ব স্থাপন করে, আল্লাহর উদ্দেশ্যেই মিলিত হয় এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে সংসর্গ বর্জন করে।
(৫) যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহ তা’আলাকে স্মরণ করিয়া রোদন করে।
(৬) যে ব্যক্তিকে কোন ধনবতী ও সুন্দরী যুবতী নিজের দিকে আহ্বান করে এবং সে বলে 'আমি আল্লাহকে ভয় করি।'
(৭) সেই ব্যক্তি যেন ডান হাতে এমনভাবে দান করে যে তাহার বাম হাতও জানিতে না পারে।"
রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন :
>"যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে তাহার মুসলমান ভ্রাতার সহিত সাক্ষাত করে, এক ফেরেশতা তাহার পশ্চাতে ঘোষণা করিয়া বলে-আল্লাহর বেহেশত তোমার জন্য মুবারক হউক।" তিনি আরও বলেনঃ
>"এক ব্যক্তি তাহার কোন বন্ধুর সহিত সাক্ষাত করিতে যাইতেছিল। আল্লাহর আদেশে পথিমধ্যে এক ফেরেশতা তাহার সহিত সাক্ষাত করিল।
ফেরেশতা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল- তুমি কোথায় যাইতেছ?
সে বলিল-অমুক ভ্রাতার সহিত সাক্ষাত করিতে যাইতেছি।
ফেরেশতা জিজ্ঞাসা করিল-তাহার নিকট তোমার কোন কাজ আছে কি?
সে বলিল-কোন কাজ নাই।
ফেরেশতা আবার জিজ্ঞাসা করিল--তাহার সহিত তোমার কোন আত্মীয়তা আছে কি?
সে বলিল-কিছুই নহে।
ফেরেশতা পুনরায় জিজ্ঞাসা করিল-সে তোমার কোন উপকার করিয়ছে কি?
সে বলিল-কিছুই নহে।
ফেরেশতা জিজ্ঞাসা করিল- তবে কেন যাইতেছ?
সে বলিল-আল্লাহর উদ্দেশ্যে তাহার নিকট যাইতেছি এবং তাহাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিয়াছি।
ফেরেশতা বলিল-তোমাকে এই শুভ সংবাদ প্রদানের জন্য আল্লাহ্ আমাকে তোমার নিকট প্রেরণ করিয়াছেন যে, সেই ব্যক্তিকে তুমি ভালবাস বলিয়া আল্লাহ্ তোমাকে ভালবাসেন এবং তোমার জন্য তাঁহার উপর বেহেশত ওয়াজিব করিয়া লইয়াছেন।"
রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ
>"সেই বন্ধুত্ব এবং শত্রুতা ঈমানের দৃঢ়তম দলীল যাহা আল্লাহর ওয়াস্তে হইয়া থাকে।"
আল্লাহ্ কোন নবী (আঃ)-এর উপর ওহী প্রেরণ করিলেন,
>"তুমি যে যুহদ (অর্থাৎ সংসার বিরাগ ও পরকাল আসক্তি) অবলম্বন করিয়াছ, ইহাতে স্বীয় শান্তি লাভের জন্য তাড়াতাড়ি করিয়াছ। কারণ ইহাতে সংসার ও সাংসারিক দুঃখ-কষ্ট হইতে মুক্তি পাইয়াছ। আর তুমি যে আমার ইবাদতে মশগুল হইয়াছ ইহাতে স্বীয় মর্যাদা লাভ করিয়াছ। কিন্তু ভাবিয়া দেখ, তুমি কি কখনও আমার বন্ধুগণের সহিত বন্ধুত্ব এবং আমার শত্রুদের সহিত শত্রুতা করিয়াছ?"
আল্লাহ্ তা'আলা হযরত ঈসা (আঃ)-এর উপর ওহী প্রেরণ করিলেন :
>"হে ঈসা ! আপনি যদি পৃথিবী ও আকাশের অধিবাসীবৃন্দের সমস্ত ইবাদত একা সম্পন্ন করেন এবং এই সকল ইবাদতের মধ্যে আমার উদ্দেশ্যে অন্যের সহিত বন্ধুত্ব বা শত্রুতা না থাকে তবে এই সমস্ত ইবাদত নিষ্ফল।"
হযরত ঈসা (আঃ) বলেন:
>"পাপীদের সহিত শত্রুতা করিয়া তোমরা আল্লাহর প্রিয়পাত্র হও, তাহাদিগ হইতে দূরে থাকিয়া আল্লাহর নিকটবর্তী হও এবং তাহাদের প্রতি ক্রোধ করিয়া আল্লাহর সন্তোষ অন্বেষণ কর"।
লোকে জিজ্ঞাসা করিলঃ হে রূহুল্লাহ ! আমরা কাহার সহিত উঠাবসা করিব? তিনি বলিলেনঃ
>"এমন লোকের নিকট বস যাহাকে দর্শন করিলে আল্লাহর স্মরণ তোমাদের অন্তরে জাগ্রত হয়, যাহার কথা তোমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করে এবং যাহার কার্যাবলী তোমাদিগকে পরকালের প্রতি আকৃষ্ট করে"।
আল্লাহ্ হযরত দাউদ (আঃ)-এর উপর ওহী প্রেরণ করিলেনঃ হে দাউদ ! মানব-সমাজ পরিত্যগ করতঃ আপনি নির্জনে বসিয়াছেন কেন? তিনি নিবেদন করিলেন : ইয়া আল্লাহ্ ! আপনার মহব্বত আমার অন্তর হইতে সৃষ্টের স্মরণ বিস্মৃত করিয়া দিয়াছে এবং আমি সকলের প্রতি বিরক্ত হইয়া পড়িয়াছি। নির্দেশ হইলঃ হে দাউদ ! সাবধান হোন এবং নিজের জন্য ভাই বন্ধু বানাইয়া নেন। আর যে ব্যক্তি ধর্ম-পথে আপনার সহায়ক না হয়, তাহা হইতে দূরে থাকুন; কারণ সে ব্যক্তি আপনার হৃদয় অন্ধকার করিয়া ফেলিবে এবং আপনাকে আমা হইতে দূরে সরাইয়া রাখিবে।
রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন :
>"আল্লাহর এক ফেরেশতা আছে, তাহার দেহের অর্ধাংশ বরফ দ্বারা ও অপর অর্ধাংশ অগ্নি দ্বারা সৃষ্ট। এই ফেরেশতা বলে : "ইয়া আল্লাহ্! যেমন আপনি বরফ ও অগ্নির মধ্যে সখ্যতা স্থাপন করিয়াছেন তদ্রূপ আপনার নেক বান্দাগণের অন্তরে সখ্যতা স্থাপন করিয়া দেন।"
রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ
>"যাহারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরস্পর বন্ধুত্ব স্থাপন করে তাহাদের জন্য বেহেশতে লোহিত বর্ণ ইয়াকৃত নির্মিত একটি স্তম্ভ তৈয়ার করা হইবে। ইহার উপর সত্তর হাজার বালাখানা থাকিবে। তথা হইতে তাহারা বেহেশতবাসিগণকে ঝুঁকিয়া দেখিবে। তাহাদের মুখমণ্ডলের জ্যোতি বেহেশতবাসিগণের উপর এমনভাবে প্রতিফলিত হইবে যেমন পৃথিবীর উপর সূর্যকিরণ প্রতিফরিত হইয়া থাকে। বেহেশতবাসিগণ বলিবে-চল, আমরা তাহাদিগকে দেখিয়া আসি। তাহাদের পরিধানে সবুজ রেশমী পোশাক থাকিবে এবং তাহাদের ললাটে লিখিত থাকিবে (আল মুতাহাব্বুনা ফি আল্লাহ্) এই সকল লোক আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরস্পর বন্ধুত্ব স্থাপনকারী।"
হযরত ইব্‌ন সামাক (রঃ) মৃত্যুকালে আল্লাহর নিকট নিবেদন করিলেনঃ ইয়া আল্লাহ্ ! আপনি জানেন, আমি পাপ করিবার সময় আপনার অনুগত বান্দাগণকে ভালবাসিতাম। এই কার্যের ফলস্বরূপ আমার পাপসমূহ মাফ করিয়া দেন।
হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন : আল্লাহর উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব স্থাপনকারিগণ যখন একে অন্যকে দেখিয়া আনন্দিত হয় তখন তাহাদের নিকট হইতে গুনাহ্ এইরূপভাবে ঝরিয়া পড়ে যেমন বৃক্ষ হইতে পত্র ঝরিয়া পড়িতে থাকে।

পরবর্তী পর্ব
আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালবাসার নিদর্শন

শনিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (১৪) পার্থিব শাস্তি-পুরস্কার



📚 হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (পর্ব- ১৪)
✍🏻শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দেসী দেহলভী (রহঃ)

প্রথম পরিচ্ছেদ (১৪) 
পার্থিব শাস্তি-পুরস্কার -
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “অনন্তর যা কিছু বিপর্যয় তোমাদের ওপর নেমে আসেতা তোমাদেরই স্বহস্তে উপার্জিত বৈ নয়। এবং অনেককে রেহাইও দেয়া হয়ে থাকে (সূরা শূরাঃ আয়াতঃ ৩০) 

অন্যত্র তিনি বলেনঃ-  
যদি তারা তাওরাতইঞ্জীল কিংবা যা কিছু তাদের কাছে অবতীর্ণ হয়েছে তা বাস্তবায়িত করত তা হলে আকাশ ও পৃথিবীর সব দিক থেকে তারা অফুরন্ত নেয়ামত ভোগ করতে পেত (সূরা মায়েদাঃ ৬৬)

কৃপণ বাগানের মালিক প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা (সূরা নূহে) যে ঘটনার উল্লেখ করেছেন তা প্রণিধানযোগ্য। (বাগানের মালিক তিন ভাই প্রতি মৌসুমে ফসল কাটার সময়ে উপস্থিত ভিক্ষুকদের ভেতর কিছু অংশ বিতরণ করত। একবার রাতারাতি ফসল কেটে ভিক্ষুকদের পৌঁছার আগেই তা ঘরে তোলার অভিলাষ নিয়ে গিয়ে দেখল বাগান জ্বলে গেছে।) মহানবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) কুরআনের  
["এবং তোমরা যা খুলে বল বা গোপন রাখসব কিছুর হিসাব আল্লাহ নেবেন" (সূরা বাক্বারাঃ ২৮৪)]
[ "এবং খারাপ কাজ করবে তাকে শাস্তি পেতে হবে"] আয়াত দুটির ব্যাখ্যা প্রসংগে বলেন, ‘এ হিসাব নেয়া ও শাস্তি দেয়া আল্লাহর অসুখ-বিসুখ ও অন্যান্য বিপদাপদের দ্বারা কার্যকরী করেন। পকেটের কিছু হারিয়ে যে দুর্ভাবনা ও মনোকষ্ট দেখা দেয় তাও তার ভেতরে শামিল। এ ভাবের বিপদাপদের ভেতর দিয়ে মানুষ তার ছোট-খাট পাপগুলো কাফফারা দিয়ে দিয়ে এরূপ নিষ্পাপ হবে যেন আগুনে জ্বালিয়ে সোনা খাঁটি করা হল। 
জেনে রাখুনবিবেক রিপুর হাতে মার খেয়েও আবার মাথা তুলে দাঁড়ায়। একটি উপায় হল তার স্বাভাবিক মৃত্যু। দ্বিতীয় উপায় হল তার ইচ্ছা করে মরার মত হওয়া। স্বাভাবিক মৃত্যুতে রিপুগুলোর রুজী রুটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তার বেঁচে থাকার শক্তি এভাবে বিলুপ্ত হয় যা আর ফিরে পাবার নয়। এ অবস্থায় ক্ষুৎ-পিপাসালোভ-লালসা ও রাগ-দ্বেষ কিছুই তার থাকে না বলে তার ওপর আত্মিক জগতের প্রভাব জমতে থাকে (তাই বিবেক চাংগা হয়)। ইচ্ছা করে মৃত সাজা মানে হলআত্মিক সাধনা দিয়ে রিপুকে মেরে মেরে নিস্তেজ করা এবং আত্মিক জগতের দিকে মনোনিবেশ করে সেখানকার চিত্রগুলো অন্তরে চিত্রিত করতে থাকা। এর ফলে তার অন্তরে ফেরেশতা স্বভাব বা বিবেকের আলো দেখা দেবে। 
এটাও স্মরণ রাখতে হবে যেসব কিছুই অনুকূল অবস্থায় খুশীতে ফুলে ফেঁপে যায়। তেমনি প্রতিকূল পরিবেশে তা দুঃখে ও হতাশায় ভেংগে পড়ে। (বিবেকের দশাও তাই।) 
এও জানা প্রয়োজনপ্রতিটি দুঃখ-কষ্ট এবং আনন্দ-খুশীর নিজ নিজ বিশেষ আকৃতি-প্রকৃতি রয়েছে। তারাসেই বিশেষ রূপ ধরেই প্রকাশ পায়। যেমনরক্ত দূষিত হওয়ার প্রকাশ ঘটে দেহে খুজলী পাচড়া রূপে। তেমনি পিত্ত গরমের কষ্ট প্রকাশিত হয় দেহের অস্থিরতা ও স্বপ্নে আগুন দেখার মাধ্যমে। কফের কষ্ট সর্দীর প্রচণ্ডতায় স্বপ্নে বরফ দেখায় প্রকাশ পায়। 
তেমিন বিবেক প্রাধান্য পায় এবং মানুষ তার অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করে অর্থাৎ নিজের ভেতর পবিত্রতা ও বিনয় সৃষ্টি করেতখন স্বপ্ন কি জাগরণে আনন্দ ও প্রীতির বিশেষ বিশেষ দৃশ্য ও চিত্র দেখতে পায়। যদি তার বিপরীত কাজ করে তা হলে সে সব অসামঞ্জস্য কাজগুলো এরূপ দৃশ্য ও চিত্রের সৃষ্টি করবে যাতে লাঞ্ছনা ও ভীতির ব্যাপার থাকে। যেমন হিংস্র বাঘকে দেখবে শিকার ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে ক্রোধ প্রকাশ করতে কিংবা সাপকে দেখবে দংশন উদ্যত কিংবা দংশন করতে ইত্যাদি। 
বাহ্যিক তথা পার্থিব পুরস্কার-শাস্তির মূলনীতি হল এইকারণ সৃষ্টি হলেই কেবল সে কাজগুলো দেখা দেবে। যে ব্যক্তি কার্যকারণ রীতি বুঝে নিবে এবং কোন কারণে কোন কাজ দেখা দেয় তা খেয়ালে রাখবেতা হলে সে সুস্পষ্ট জানতে পাবেআল্লাহ পাক পার্থিব জীবনেও পাপীকে শাস্তি থেকে রেহাই দেননা। তবে সংগে সংগে দুনিয়া পরিচালনার (কার্যকারণ) রীতি বাহ্যত করে তিনি তা করেন না (বরং পরকালের জন্য মুলতবী রাখেন)।
ব্যাপারটা এই হয়পৃথিবীতে পুণ্যবানের শান্তি ও পাপীর শাস্তি লাভের বাহ্যিক কারণ-উপকরণ যদি সৃষ্টি ও সরবরাহ না হয়তখন পুণ্য কাজ করাতে (আত্মিক) শান্তি ও পাপ কাজ করাতেই (আত্মিক) শাস্তি পেয়ে থাকে। যদি কোন পুণ্যবানের শাস্তির জন্য পার্থিব কারণ সৃষ্টি হয় এবং তা বন্ধ করলে তার পুণ্য কাজের কোন ক্ষতি না হয় তাহলে তার পুণ্য সেটাকে পুরোপুরি বন্ধ করতে কিংবা শাস্তির পরিমাণ ও প্রচণ্ডতা কমাতে সহায়ক হয়। তেমনি কোন পাপীর জন্য যদি শাস্তির পার্থিব কারণ সৃষ্টি হয়তখন তার পাপ সে শাস্তির পথে অন্তরায় হয় এবং তা কার্যকর হতে দেয় না। তবে যদি তার কর্মফলের অনুকূল কারণ-উপকরণ সৃষ্টি হয়তা হলে শাস্তি ও শান্তি দুটোই যথেষ্ট পরিমাণে মিলে। তা বলে পাপ-পুণ্যের ফলাফল দ্বারা পৃথিবীর রীতিনীতি কখনও বদলানো হয় না। বাহ্যিক ফলাফল দেবার ক্ষেত্রে যেখানে পার্থিব রীতি-নীতি অন্তরায় হয়সেখানে ফলাফল মুলতবী থাকে। এ কারণেই দেখা যায়পাপ করেও মানুষ পার্থিব জীবনের স্বল্প পরিসরে বেশ সুখে-শান্তিতে কাটাচ্ছে। পক্ষান্তরে পুণ্য করেও মানুষ যথেষ্ট দুঃখ-কষ্ট ভোগ করছে। পুণ্যবানের এ বাহ্যিক দুঃখ-কষ্ট তার পশু শক্তিকে দুর্বল ও পরাভূত করে থাকে। এভাবে তাকে তার দুঃখ-কষ্ট তার পশু শক্তিকে দুর্বল ও পরাভূত করে থাকে। এভাবে তাকে তার দুঃখ-কষ্টের কল্যাণ বুঝানো হয়। তখন রোগী যে ভাবে রোগমুক্তির আশায় তিক্ত ওষুধ খেতে রাজী হয়তেমনি পুণ্যবান পার্থিব দুঃখ-কষ্ট অম্লান বদনে সহ্য করে। মহানবীর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) নিম্ন হাদীসটির মর্মও তাই।
মুমিন হল নরম ডালের মত। বাতাস কখনও এদিক হেলায়ওদিক হেলায়মাটিতে লুটায়আকাশে উঠায়এমনকি তার অন্তিম দশা ঘটায় (তবু সে টিকে যায়)। পক্ষান্তরে মুনাফিক মাথা উঁচু করা শক্ত বিটপীর মত। হাওয়া তাকে এদিক-ওদিক হেলাতে পারে না বটেকিন্তু শেষ পর্যন্ত ভেংগে বা উপড়ে ফেলে 
এ মর্মেই অপর একটি হাদীস এসেছে। তাতে পাই, "যে মুসলমানেরই অসুখ-বিসুখ কিংবা অনুরূপ কোন বিপদাপদ দেখা দেয় তার ছোট-খাট পাপগুলো ঠিক গাছের পাতার মতই ঝরে যায়" 
অনেক দেশেই শয়তানের আনুগত্য ও অর্চনা জোরে-শোরে করা হয়। সে সব এলাকার লোক আয়েশ-আরাম ও অত্যাচার-উৎপীড়নে পশু ও হিংস্র জীবের মত হয়। এ ধরনের লোকের শাস্তিও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুলতবী থাকে। নিম্ন আয়াতে তারই ইংগিত পাই-  
আমি যখন কোন শহর বা গ্রামে নবী পাঠিয়েছিতখন সেখানকার লোকদের দারিদ্য ও বালা-মসিবত দিয়ে (আল্লাহর দিকে) ফিরে আসার ব্যবস্থা করেছি। যখন তাতেও ফল হয়নিতখন তাদের দুঃখ-দুর্দশার স্থলে সুখ-সচ্ছলতা দিয়ে ধন্য করেছি তা দেখে তারা বলাবলি করতে লাগলআমাদের বাপ-দাদার জীবনেও এভাবে সুদিন-দুর্দিনের পালাবদল হয়েছে (পাপ-পুণ্যের এতে কোন দখল নেই)। তারপর হঠাৎ আমি এমনভাবে পাকড়াও করলাম যেতারা ভাববারও অবকাশ পেল না। যদি এলাকার লোকরা ঈমান আনত এবং আমার কথা মতে ভাল হয়ে চলততা হলে আকাশ ও পৃথিবীর বরকতের ভাণ্ডার তাদের জন্য খুলে দিতাম। কিন্তু তারা আমার কথাকে মিথ্যা বলে উড়াল তাই আমিও তাদের এ পাপের বিনিময়ে আপদ-বিপদের ফাঁদে ফাঁসিয়ে নিলাম (সূরা আরাফঃ আয়াতঃ ৯৪,৯৫,৯৬)
মোট কথাএ দুনিয়ার পুরস্কার ও শাস্তির ব্যাপারটা হল এইপ্রভু যেন ভৃত্যকে যখন তখন পূর্ণ বিনিময় দিতে প্রস্তুত নন। পূর্ণ অবসর নিয়ে তিনি তা করার জন্য সময় নির্ধারিত করে রেখেছেন। সেটা হল শেষ বিচারের দিন। আল্লাহ পাকের নিম্ন বানীতে তারই ইশারা রয়েছেঃ 
হে মানুষ ও জিন! আমি শীঘ্রই তোমাদের প্রতি (হিসাব-নিকাশের জন্য) মনোনিবেশ করব। (সূরা আর-রাহমানঃ আয়াতঃ ৩১)
পার্থিব শাস্তি ও পুরস্কারের কয়েকটি অবস্থা দেখা যায়। কখনও এভাবে হয় যেমানুষের আনন্দ ও স্বস্তি কিংবা দুঃখ ও অস্বস্তি দেখা দেয়। কখনও এমন হয় যেদুর্ভাবনায় শারীরিক অসুস্থতা বা রোগ-ব্যাধি দেখা দেয়। নবুয়তের আগে মহানবীর (সঃ) একবার দেহাবরণ খসে পড়ায় তিনি লাজে-ভয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। এও ঠিক সেরূপ রোগ-ব্যাধি। তেমনি কখনও পার্থিব পুরস্কার ধন-সম্পদের মাধ্যমে দেয়া হয়। কখনও মানুষপশু ও ফেরেশতাদের কাছে ইলহাম আসেঅমুকের সাথে সদ্ব্যবহার বজায় রাখ। কখনও বা মানুষ নিজেই ইলহাম পেয়ে ভাল ও মন্দ অবস্থার সম্মুখীন হয়। 
যে ব্যক্তি আমার উপরোক্ত আলোচনা ভাল ভাবে বুঝে নিবে এবং প্রতিটি কথা যথাস্থানে রেখে বিচার বিবেচনা করবে,সে অনেক জটিলতা থেকে বেঁচে যাবে। অন্যথায় সে মহানবীর (সঃ) হাদীসে পরস্পর বিরোধ দেখে মতভেদ ও দ্বিধা-দ্বন্দ্বের শিকার হবে। সে দেখতে পাবেএক হাদীসে তিনি বলছেনপুণ্য কাজে রুজী বাড়ে এবং পাপে তা কমে। পক্ষান্তরে অন্য হাদীসে বলছেনপাপীদের পার্থিব জীবনের স্বল্প পরিসরে সুখ-স্বচ্ছন্দ্য দেয়া হয় এবং পুণ্যবানদের আপদ-বিপদ ও দুঃখ-দুর্দশা দেয়া হয়। এমন কি যে যত বড় পুণ্যবান তাকে তত বেশী পার্থিব দুঃখ-কষ্ট দেয়া হয়। এ ভাবের বিভিন্ন স্তরের আরও বহু হাদীসে আপাত বিরোধ ও তা থেকে উম্মতের ভেতর মতভেদ দেখা যায়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

পরবর্তী পর্ব
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ 
মৃত্যুরহস্য 

হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (১৩) শাস্তি ও পুরস্কারের কারণ



📚 হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (পর্ব- ১৩)
✍🏻শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দেসে দেহলভী (রহঃ)

শাস্তি ও পুরস্কারের কারণ —
মনে রাখবেনশাস্তি ও পুরস্কারের কারণ অনেক। তবে তার ভেতর দুটোই মূল কারণ। 
(১) মানুষের সুপ্রবৃত্তি (বিবেক) তার কোন খারাপ কাজ বা স্বভাবের প্রতি রুষ্ট থাকে তার এ বিরূপ অনুভূতিই তাকে লজ্জিতঅনুতপ্ত ও আত্মগ্লানিতে বিদগ্ধ করে। অনেক সময় এ কারণে স্বপ্নে কি জাগরণে ভয়াবহ চিত্র তার সামনে ভেসে ওঠে এবং তাকে ভীষণ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে তোলে। কোন কোন লোক যেভাবে ইলহামে অন্যান্য জ্ঞান অর্জন করেনতেমনি তার কাজে ভাল-মন্দ সম্পর্কেও ইলহামে জ্ঞাত হবার যোগ্যতা রাখেন। সে অবস্থায় ফেরেশতাদের মাধ্যমে ঘোষিত হয়কাজের চিত্রটি তাকে দেখিয়ে ও বুঝিয়ে দাও। এ সম্পর্কেই আল্লাহ পাক বলেনঃ 
হ্যাঁযারা পাপ অর্জন করল এবং স্খলন-পতন যাদের ঘিরে ফেললতারাই জাহান্নামের সহচর এবং সেখানকার তারা স্থায়ী বাসিন্দা (সূরা বাক্বারাঃ আয়াতঃ ৮১) 
(২) সর্বোচ্চ পরিষদের ফেরেশতারা বনি আদমের দিকে নিবিষ্ট থাকেন। সর্বোচ্চ পরিষদের সামনে মানবীয় প্রবৃত্তিচরিত্র ও ভাল-মন্দ কাজের চিত্র মওজুদ থাকে। তাঁরা আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা জানান, ‘প্রভু! নেক বান্দাদের শান্তি ও বদ চরিত্রদের শাস্তি দাও। তাদের এ প্রার্থনা মঞ্জুর হয়। তখন আদম সন্তানদের ওপর ইলহাম অবতীর্ণ হওয়ার মতই শান্তি ও শাস্তি অবতীর্ণ হয়। এ থেকেই মানুষ সুখকর ও দুঃখদায়ক ঘটনার সম্মুখীন হয়। এ পথেই তাঁরা তাঁদের সন্তোষ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে থাকেন। 
কখনও সর্বোচ্চ পরিষদের অসন্তোষের প্রভাবে মানুষ অসুস্থ ও অবসন্ন হয়ে পড়ে। কখনও তাঁদের সন্তোষের প্রভাব এসে মানুষের স্বভাবের দুর্বলতা দূর করে তাতে দৃঢ়তা এনে দেয়। এভাবে তাঁদের প্রভাবে ফেরেশতাও মানুষ ভাল লোককে শান্তি দেয় ও মন্দ লোককে শাস্তি দেয়। কখনও মানুষের কৃতকর্মই অঘটন কিংবা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে তার শান্তি ও শাস্তির কারণ হয়। 
আসল সত্য হল এইযে মানুষকে আল্লাহ ভালবেসে সৃষ্টি করেছেনতাদের তিনি লাগাম ছাড়া হতে দিতে চান না। তাদের কাজের তিনি ভাল-মন্দ দেখবেন নাতা হতে পারে না। যেহেতু আল্লাহ কিভাবে এ ভাল বা মন্দ কাজের প্রতিদান দিবেন তা বুঝা কিছুটা দুষ্করতাই ফেরেশতার নেক দোয়া ও বদ দোয়ার ফলাফল রূপে তা দেখানো হল। বাদ বাকী আল্লাহই জানেন ভাল। 
আমার দ্বিতীয় যুক্তিটির দিকেই আল্লাহ পাকের ইংগিত পাই- 
নিশ্চয় যারা কাফের ও কাফের থেকেই মারা যায়তাদের ওপর আল্লাহফেরেশতা ও মানুষ সবার অভিসম্পাত বর্ষিত হয়। এ অভিসম্পাতে তারা চির কাল কাটায় এবং এ শাস্তি তাদের কমে না আদৌ ও কেউ তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে না (সূরা বাকারাঃ আয়াতঃ ১৬১)
এ দুধরনের কারণের সান্নিধ্য ও সংমিশ্রণে মানব প্রকৃতির যোগ্যতার বিভিন্নতা অনুসারে নানা ধরনের অদ্ভুত কারণ সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রথম কারণটিই মানুষের ব্যক্তিগত স্বভাব ও কাজের ক্ষেত্রে অধিক প্রভাবশালী। সেটি মানুষের স্বভাব ও কাজকে কল্যাণময় ও ধ্বংসকর দুইই করতে পারে। তাই অধিকাংশ (বিবেকবান) জ্ঞান-গুণীগণ এটাই সমর্থন করেন। এর প্রয়োজনীয়তা কেউই অস্বীকার করতে পারে না। 
দ্বিতীয় কারণটি দ্বারা এমন সব কাজ ও স্বভাব নিয়ন্ত্রিত হয় যেগুলো সামগ্রিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে থাকে। অর্থাৎ যে সব স্বভাব ও কাজ সর্বসাধারণের কল্যাণ ও শান্তির পরিপন্থী এবং মানবীয় জীবন ব্যবস্থা পরিশুদ্ধির অন্তরায় হয়। ফেরেশতা স্বভাব বা বিবেক যাদের দুর্বলযারা পাপী তাদের স্বভাব ও কাজগুলোই এ ব্যবস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
শান্তি ও পুরস্কারের এ দুটো কারণের প্রভাব সৃষ্টির পথে কিছু অন্তরায়ও রয়েছে। সেগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রভাব ঠেকিয়ে রাখে। প্রথম কারণটির অন্তরায় হল মানুষের দুর্বল বিবেক ও কুপ্রবৃত্তি। এ অবস্থা বেড়ে গিয়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছেযখন মানুষের ভেতর পশুত্ব ছাড়া আর কিছুই থাকে না। তখন তার বিবেক অনুভূতিহীন হয়। কোন কিছুই সেটাকে ব্যথিত করে না। তাই তার দংশনও থাকেনা। তারপর যখন তার স্বভাব থেকে পশুত্বের প্রভাব দূর হয় ও সেখানে বিবেক মাথা চাড়া দিতে থাকেতখন তার দুঃখ দেখা দিয়ে থাকে। 
দ্বিতীয় কারণের প্রভাব ততক্ষন মুলতবী থাকে যতক্ষণ তাদের ওপর আল্লাহর আজাবের পথে অন্তরায় মওজুদ থাকে। যখন তা দূর হয়ে নির্ধারিত সময় আসে (পুণ্যাত্মার বিলুপ্তি বা পাপাত্মার পূর্ণত্ব প্রাপ্তি ঘটে)তখন আজাবের রাস্তা উন্মুক্ত হয়। চারদিক থেকৈ তখন বন্যার প্রবাহে আজাব এসে তাদের ভাসিয়ে নেয়। আল্লাহর এ আয়াত তারই সাক্ষ্য বয়ে চলছেঃ- 
প্রত্যেক দল বা জাতির (পতনের) জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। তাদের সময় যখন এসে যাবেতখন তার এক মুহুর্ত ও আগ-পিছ হবে না। (সুরা আল্-আরাফ আয়াত ৩৪)


পরবর্তী পর্ব

বুধবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৩

হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (১২) কাজের সাথে স্বভাবের সংযোগ



📚হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
✍🏻শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দেসী দেহলভী (রহঃ)

কাজের সাথে স্বভাবের সংযোগ 
জেনে রাখুনকাজ হল মনোগত ভাবের বহিঃপ্রকাশতাদের সাধারণ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ এবং তাদের শিকারের বস্তু। সাধারণের ধারণা মতে কাজ ও মনোগত ভাবে কোন প্রভেদ নেই। তাই অধিকাংশ মানুষই কাজ বলতে মানুষের স্বভাব-চরিত্রকে বুঝে থাকে। তার কারণ এইযখন কোন আন্তরিক অভিলাষ কাউকে কোন কাজে উদ্ধুদ্ধ করে এবং প্রবৃত্তি সেটাকে পছন্দ করেতখন সে খুশীতে বাগ বাগ হয়। যদি স্বভাবের সেটা অপছন্দনীয় হয়তখন সে বিমর্ষ ও হতাশ হয়। তারপর যখন সে কাজটি করে ফেলেতখন সে অভিলাষের উৎস ফেরেশতা স্বভাব হোক কিংবা পশু স্ববাবস্বতন্ত্র ও শক্তিশালী হয়ে যায়। তখন তার বিপরীত পশু কিংবা ফেরেশতা প্রবৃত্তি অধীন ও দুর্বল হয়ে যায়। এ দিকেই ইংগিত দিয়ে মহানবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘মানুষের প্রবৃত্তি যখন কিছুর অভিলাষ করেতার অংগ-প্রত্যংগ সেটাকে বাস্তবায়িত করে কিংবা ব্যর্থ করে দেয় 

কথা থেকে যায় যেকোন কোন কাজ এমন রয়েছে যার পছন্দ যা অপছন্দের ব্যাপারটি কারো নিজস্ব মনোভাব থেকে হয় নাহয় উচ্চ পরিষদের সরাসরি প্রভাব থেকে। এ ভাবে কোন ভাল কাজ করা যেন সর্বোচ্চ পরিষদের এ ইলহাম গ্রহণ করা আমারে নৈকট্য লাভ করআমাদের মত হও এবং আমাদের আলোকে উজ্জ্বল হও। তেমনি কোন খারাপ কাজ করার ক্ষেত্রে এর বিপরীত প্রভাব আসে। 
সর্বোচ্চ পরিষদে কয়েকটি কারণে এভাবে কাজ নিয়ন্ত্রিত ও নির্ধারিত হয়। 
(১) আল্লাহ তা'আলার তরফ থেকে তাঁরা জানতে পানঅমুক অমুক কাজগুলো না করা হলে কিংবা অমুক অমুক কাজ বর্জিত না হলে মানবীয় জীবন ধারায় পরিবর্তন ও সংস্কার আসবে না। তখন সর্বোচ্চ পরিষদে সে কাজগুলোর রূপরখা অংকিত হয়। তারপর বিশেষ বিশেষ লোকের কাছে তা আল্লাহর নির্ধারিত বিধান রূপে অবতীর্ণ হয়।


পরবর্তী পর্ব
শাস্তি ও পুরস্কারের কারণ

হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (১১) সংখ্যাও সুরক্ষিত হয়



📚 হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (পর্ব- ১১)
✍🏻শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দেসী দেহলভী (রহঃ)
যার কাজ তার সাথেই থাকে-
সংখ্যাও সুরক্ষিত হয়- আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
আমি প্রত্যেক মানুষের কাজ তার গলায় ঝুলিয়ে রেখেছি। কিয়ামতের দিন সেগুলো গ্রন্থাকারে তাদের সামনে খুলে ধরব। তারপর বলবপড়ে নাও তোমার কাজের ফিরিস্তি। এটাই তোমার হিসেব-নিকেশের জন্য যথেষ্ট (সূরা বনী ইস্রাঈলঃ আয়াতঃ ১৩-১৪)
মহানবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহ তা'আলা থেকে বর্ণনা করেন, “কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা বলবেনএই হল তোমাদের আমলনামা। আমি এটা সযত্নে সুরক্ষিত রেখেছি। এরই বিনিময় তুমি পাবে। তাই সুফল যে পাবেআল্লাহর কাছে তার কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। কুফল যে পাবেতার নিজেকেই ধিক্কার দেয়া উচিত 
তিনি আরও বলেনপ্রবৃত্তির বাসনা-কামনা জাগে। অংগ-প্রত্যংগ হয় তা বাস্তবায়িত করেনয় তো মিথ্যা করে দেয়। 

জেনে রাখুনমানুষ স্বেচ্ছায় যে কাজগুলো করে সেগুলো এবং তার ভেতর দানা বেঁধে থাকা অভ্যেস ও চরিত্রগুলো তার সব কিছুর উৎস ক্ষেত্র মানবিক প্রাণ থেকে নির্গত হয়ে সেখানেই আবার ফিরে এসে সঞ্চিত ও সুরক্ষিত হয়ে থাকে। এখন প্রশ্ন থেকে যায়প্রাণ থেকে সেগুলোর সৃষ্টি হয় কি ভাবেএর কারণগুলো আমি আগেই বলে এসেছি। তা এইমানব দেহের অভ্যন্তরে ফেরেশতা প্রকৃতি ও পশু প্রকৃতির এবং এ দুয়ের সংঘাত ও সংমিশ্রণে সৃষ্ট অন্যান্য প্রকৃতির প্রত্যেকটিই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। মানুষের স্বভাবগত প্রবণতাফেরেশতা ও পশু প্রকৃতির প্রভাব এবং এ ধরনের যে সব কারণ মানুষের কাজের প্রেরণা জোগায়সবগুলোই মানব প্রকৃতি থেকে আত্মপ্রকাশ করে এবং সেখানেই নিহিত থাকে। সুতরাং বুঝা গেলমানুষের মূল প্রাণই সব কিছুর উৎসভূমি। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে তার থেকেই সবার জন্ম। 

এর জ্বলন্ত উদাহরণ নিন। শিশু যদি শুরুতেই খুব দুর্বল প্রকৃতির হয়তা হলে যে কোন মনস্তত্ত্ববিদ সহজেই বলে দেবেনযদি এ শিশু এখনকার প্রকৃতি নিয়ে যুবক হয়তা হলে অবশ্যই তার নারীসুলভ স্বভাবআচরণ ও কীর্তিকলাপ দেখা দেবে। তেমনি যে কোন দেহতাত্ত্বিক ডাক্তারও জানেঅমুক শিশু তার জন্ম লগ্নের প্রকৃতি অনুসারে যুবক হলে এবং লালন-পালনের সময়ের কোন অসুখ বিসুখ ইত্যাদি দেখা না দিলেসে চতুর ও সাহসী হবে কিংবা বোকা ও দুর্বল চিত্ত হবে। 

তখন প্রশ্ন থাকেকাজগুলো নির্গত হয়ে মূল প্রাণে আবার ফিরে আসে কেনতার কারণ এইমানুষ যখন কোন কাজ বেশী করেতখন এরূপ অভ্যস্ত হয় যেবিনা চিন্তা-ভাবনায় স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে তার থেকে সে কাজ হয়ে থাকে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়তার অন্তর উক্ত কাজের রঙে রঞ্জিত হয়ে গেছে। এ সহজাত প্রভাব সমগোত্রীয় অন্যান্য কাজকেও আকৃষ্ট করে থাকে। হোক সে প্রভাব যত সূক্ষ্ম বা হাল্কা। মহানবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিম্ন হাদীসটি এ বক্তব্যের সমর্থন জানাবেঃ 
বিভ্রান্তির চিন্তা ও প্রবণতা মানুষের অন্তরকে মাদুরের বুননীর মত ঘিরে নেয়। যে অন্তর তার প্রভাব গ্রহণ করেতার ওপর একটি কালো দাগ পড়ে যায়। পক্ষান্তরে যে অন্তর তা গ্রহণ করে নাতার ওপর একটা সাদা দাগ পড়ে। এভাবে দাগ পড়ে দুঅন্তরের অবস্থা এই দাঁড়ায়একটি সাদা মর্মরের মত ঝকঝকে ও তেলতেলে হয়ে যায়। ফলে তাতে আর কখনও কোন খারাপ প্রভাবে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। অপরটি এরূপ মসীবর্ণ ও পিচ্ছিল হয় যে তাতে খেয়াল খুশীল চরিতার্থতা ছাড়া ভালমন্দের কোন তারতম্য বোধই অবশিষ্ট থাকে না 

এখন প্রশ্ন থেকে যায়কাজ কি করে সঙ্গে জড়িয়ে থাকেতার কারণ এইমানবিক প্রবৃত্তি (অন্তর) গোড়ার দিকে সাদা ও পরিচ্ছন্ন এক পাত্র রূপে তৈরি হয়। কোনরূপ চিহ্ন বা রঙ তাতে থাকে না। তারপর শক্তি তাকে চালিত করে কাজের দিকে এবং দিন দিন সেদিকে সে এগিয়ে চলে। এ ক্ষেত্রে তার প্রতিটি পশ্চাতের অবস্থা পরবর্তী অবস্থার কারণ হয় এবং কার্য সৃষ্টি করেই কারণ লোপ পায়। এ কার্যকারণ ব্রতটি ধারাবাহিক চলতে থাকে এবং কখনও তাতে আগেরটি পেছনে ও পেছনেরটি আগে আসার জো-নেই। তাই আজ যে অন্তর বর্তমানতাতে অতীতের প্রতিটি কারণের প্রভাব বিদ্যমান। যদিও বিভিন্ন বাহ্যিক ব্যস্ততার কারণে অন্তরে তার পূর্ণ উপলব্ধি থাকে না। 

শুধু দুটো অবস্থাতেই এ প্রভাব হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এককার্য সৃষ্টির মূলে যে শক্তিটি সক্রিয় যদি সেটা বিলুপ্ত হয়। যেমন বৃদ্ধ ও রুগ্নের অবস্থার কথা আমি বলে এসেছি যেতাদের বিশেষ কর্ম প্রবণতাই বিলুপ্ত হয়। দুইযদি উপর থেকে কোন (দৈব) প্রভাব এসে কারো বিশেষ প্রবণতাটি বৃদ্ধ ও রুগ্নের মতই বিলুপ্ত করে দেয়। এ অবস্থা সম্পর্কেই আল্লাহ পাক বলেনঃ 

নিশ্চয় ভাল কাজ মন্দ কাজকে বিলুপ্ত করে (সূরা হুদঃ আয়াতঃ ১১৪)
তিনি আরও বলেনঃ 
যদি তুমি শির্ক করতোমার ভাল কাজ বরবাদ হবে। 

***[উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে যে আল্লাহ্ তালআলা সমস্ত রসূলদেরকে ওহি করেছিলেন যেন নিজ নিজ  উম্মতদেরকে যেন এই কথা বলে দেন- "যদি তুমি শির্ক কর এবং এর উপর থেকে থাক তোমার সকল ভাল কর্ম নিষ্ফল সাব্যস্থ হবে" এই আয়াতের প্রকৃত মর্ম হৃদয়ঙ্গম হওয়ার জন্য পূর্বের আয়াতও জানাটা জরুরী।]*** তারকার মধ্যস্থিত লাইন কয়টি বইয়ের অংশ নয় আমার নিজের মত প্রকাশ করলাম। 

এখন প্রশ্ন থাকেকাজগুলো কেন সুরক্ষিত রাখা হবেএর জবাব আমি (শাহ ওয়ালীউল্লাহ রহঃ) নিজে যতটুকু বুঝতে পেরেছি তা হল এইউর্ধলোকের ব্যবস্থাপনার দান অনুসারে উন্নততর স্বরূপ জগতের স্তরে প্রত্যেকটি মানুষের আসল রূপ প্রকাশ পায়। আল্লাহকে প্রভু মেনে আসার কাহিনীতে যে সত্তারা উপস্থিত ছিল এরা তারাই। তারপর যখন সে সত্তা রূপ জগতে এসে দেহ ধারণকরেতখন স্বরূপ ও রূপ যুক্ত ও একাত্ম হয়। তাই যখন কোন ব্যক্তি ভাল কাজ করেতখন স্বতঃস্ফুর্ত ভাবেই তার স্বরূপ খুশীতে উজ্জ্বল হয় কিংবা স্বরূপের সাথে কাজটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায়। মৃত্যুর পর বিচার দিবসে কখনও দেখা যাবে তার কাজগুলো যত্নে সুরক্ষিত রয়েছে। আমলনামা পাঠের তাৎপর্য এটাই। কখনও বা দেখা যাবেকাজগুলো তার অংগ-প্রত্যংগে জড়িয়ে রয়েছে। হাত-পা সাক্ষী দেবে কথাটির তাৎপর্যই তাই। 

এও একটা কথা যেকাজের আকৃতি ও প্রকৃতিই তাদের পার্থিব ও অপার্থিব ফলাফল সাফ সাফ বলে দেয়। মানে তাদের দেখেই ফলাফল বুঝা যায়। ফেরেশতারা কখনও তাদের আকৃতি ও প্রকৃতি সৃষ্টিতে দ্বিধান্বিত হয়ে বিলম্ব করে থাকে। তখন আল্লাহর ফরমানী আসেযা আছে তাই হুবহু চিত্রিত কর (তোমাদের গবেষণার প্রয়োজন নেই)। 

ইমামা গাজ্জালী (রঃ) বলেন, “সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যত সব বস্তু সৃষ্টির জন্য আল্লাহ পাক পরিমাপ নির্ধারিত করেছেনতা সবই আদি সৃষ্টিটিতে লিখে নিয়েছেন। আল্লাহর সেই আদি সৃষ্টিটিকে কখনও লওহে মাহফুজ’ কখনও কিতাবে মুবীন’ কখনও বা ইমামে মুবীন’ নামে কুরআনে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এগুলোর অর্থ যথাক্রমে সুরক্ষিত পাত’ ‘সুস্পষ্ট গ্রন্থ’ ও সুস্পষ্ট চালক। সৃষ্টি জগতে যা কিছু হয়েছে কিংবা হবেসবই লওহে মাহফুজে এরূপ ভাবে অংকিত রয়েছে যা সাধারণ চোখে দেখার সাধ্য নেই। 

আপনি মনে করবেন না যেলওহে মাহফুজ লোহার পাত কিংবা কাঠ বা হাড়ের তক্তা। কিতাবে মুবিনকেও কাগজের কোন বই ভাববেন না। বরং আপনার মনে রাখতে হবেআল্লাহর অস্তিত্ব ও গুণাবলীর যেরূপ কোন তুলনা নেইএ তক্তা ও গ্রন্থেরও তেমনি কোন তুলনা নেই।যদি আপনি তার কোন কাছাকাছি তুলনা নিয়ে বুঝতে চান তো সেটাকে হাফেজে কুরআনের অন্তর ও মেধার মতই একটা কিছু ভাবতে পারেন। কারণহাফেজের মন মগজে কুরআন এরূপ সুস্পষ্টভাবে লেখা থাকে যেযখনই সে পাঠ করেপরিস্কারভাবে লেখাগুলো দেখতে পায়। অথচ অপর কেউ সে রেখা দেখে না। তেমনি লওহে মাহফুজের সব বস্তুর আল্লাহ নির্ধারিত পরমাপের রেকর্ড এমন ভাবে লিখে রাখা হয়েছে যা লিখক ব্যতীত অন্য কেউ দেখতে পায় না 

ইমাম গাজ্জালীর (রঃ) বক্তব্য এখানেই শেষ হল। মানুষের আমল’ সুরক্ষিত রাখার সপক্ষে এও এক যুক্তি যেসে ভাল বা মন্দ যাই করুক না কেনঅধিকাংশ সময়ে তা তার স্মরণে পড়ে এবং স্বভাবতই সে ভাল কাজের পুরস্কারের আশা ও মন্দ কাজের জন্য শাস্তির আশংকা রাখে।

 

পরবর্তী পর্ব (দ্বাদশ পরিচ্ছেদ)


বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...