রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৫

হজ্জ (৭) হজ্জ করিবার নিয়ম



হজ্জ (পর্ব – ৭)
📚সৌভাগ্যের পরশমনি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী(রহ.)

হজ্জ করিবার নিয়ম 

হজ্জের কর্তব্য-কার্যসমূহ প্রথম হইতে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে জানিয়া লওয়া নিতান্ত আবশ্যক। সুন্নত তরীকা অনুযায়ী ইবাদতের ফরযসুন্নত  আদব-কায়দা পরস্পর জড়িত ভাবে জানিয়া লওয়া আবশ্যক। কারণঅভ্যাস দ্বারা যে ব্যক্তি ইবাদত কার্য সহজ  স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করিবার ক্ষমতাঅর্জন করিয়াছে তাহার নিকট সম্পাদনের হিসাবে সমস্ত ফরযসুন্নত  মুস্তাহাব একরূপই হইয়া দাঁড়ায় এবং সুন্নত  নফল কার্য দ্বারাই লোকে আল্লাহর মহব্বতের উন্নত মর্যাদা লাভে সমর্থ হয়যেমন রাসূলে মাকবুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ঘোষণা করেন যেআল্লাহ্ তা'আলা বলেন, “ফরয কার্য সম্পন্ন করিয়া বান্দা আমার অতি নৈকট্য লাভ করে। কিন্তু আমার প্রিয় বান্দাগণ কেবল আমার নৈকট্য লাভ করিয়াই সন্তুষ্ট থাকে নাবরং সুন্নত  নফল কার্য সম্পন্ন করিয়া তাহারা এমন মরতবায় উপনীত হয় যেতাহাদের শ্রবণেন্দ্রিয়দর্শনেন্দ্রিয়  হস্ত পদ আমি হইয়া যাই। তখন তাহারা আমার মাধ্যমেই শ্রবণ করেআমার মাধ্যমেই দর্শন করেআমার মাধ্যমেই গ্রহণ করেআমার মাধ্যমেই কথা বলে।অতএব ইবাদতের সুন্যত  নফল সমুহও প্রতিপালন করা আবশ‍্যক।  প্রত্যেক ইবাদতেরই শরীয়ত নির্দেশিত রীতি-নীতির প্রতি লক্ষ্য রাখা কর্তব্য।


পরবর্তী পর্ব —
সফরের সামান  পথে পালনীয় নিয়ম

হজ্জ (৬) হজ্জের সময় হারাম কার্যসমূহ ও উহার কাফ্ফারা



হজ্জ (পর্ব – ৬)
📚সৌভাগ্যের পরশমনি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী(রহ.)

হজ্জের সময় হারাম কার্যসমূহ  উহার কাফ্ফারা —

হজ্জের সময় ছয়টি কার্য হারামযথা

(সেলাই করা পোশাকী বস্ত্র পরিধান করা। কারণইহারামের অবস্থায় পিরহানইযার  পাগড়ী পরিধান করা নিষেধ। বরং সেলাইবিহীন তহবন্দচাদর  পাদুকা ব্যবহার করিতে হইবে। পাদুকা না থাকিলে নগ্নপদে থাকাও দুরস্ত আছে। তহবন্দ না পাইলে ইযারও পরিধান করা যাইতে পারে। ইহরামের অবস্থায় সপ্ত অঙ্গ আবৃত রাখা আবশ্যক। কিন্তু মাথা খোলা রাখিতে হইবে। স্ত্রীলোক আপন অভ্যাসমত কাপড় পরিধান করিবেকিন্তু তাহাদের মুখমণ্ডল খোলা রাখিতে হইবে। উটের পিঠের হাওদায় বা চাঁদোয়ার মধ্যে থাকা দুরস্ত আছে। 

(সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করা। সুগন্ধি দ্রব্য এবং সেলাই করা পোশাকী বস্ত্র ইহরাম অবস্থায় ব্যবহার করিলে ইহার কাফফারাস্বরূপ একটি ছাগল কুরবানী করা ওয়াজিব হইবে। 

(চুল নখ কর্তন করা।-  ইহরাম অবস্থায় চুল-নখ কাটিলে একটি ছাগল কুরবানী করা ওয়াজিব। হাম্মামে গোসল করাদূষিত রক্ত বাহির করা এবং সিঙ্গা লাগাইবার অনুমতি আছে। চুল উঠিয়া নাযায়এরূপভাবে চিরুনী করা দুরস্ত আছে। 

(স্ত্রী-সহবাস করা।- সহবাস করিলে ইহার কাফফারাস্বরূপ একটি উট বা একটি গরু কিংবা সাতটি ছাগ কুরবানী করা ওয়াজিব হইবে এবং হজ্জ নষ্ট হইয়া যাইবে  পুনরায় হজ্জ করিয়া ইহার কাযা আদায় করা ওয়াজিব হইবে। প্রথম ইহরাম ভঙ্গের পর সহবাস করিলে একটি উট কুরবানী করা ওয়াজিব হইবে এবং হজ্জ নষ্ট হইবে না। 

(ইহরাম অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর আলিঙ্গনচুম্বনরসালাপ প্রভৃতি করাও নাজায়েয। এরূপ কার্যে মযি বা মণি নির্গত হইয়া অপবিত্র হইলে একটি ছাগল কুরবানী করা ওয়াজিব হইবে। ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করাও দুরস্ত নহে। করিলে এই বিবাহ শুদ্ধ হইবে না। এইজন্য ইহাতে ছাগ ইত্যাদি কুরবানী করাও ওয়াজিব নহে। 

(ইহরাম অবস্থায় শিকার করাও দুরুস্ত নহে। কিন্তু সামুদ্রিক শিকার দুরস্ত আছে। স্থলজন্তু শিকার করিলেউটগরু  ছাগলএই তিন প্রকারের যে জন্তুর সহিত শিকার করা জন্তুর মিল আছে তাহা কুরবানী করা ওয়াজিব হইবে।


পরবর্তী পর্ব —

হজ্জ করিবার নিয়ম 

হজ্জ (৫) হজ্জ করিবার প্রণালী



হজ্জ (পর্ব – ৫)
📚সৌভাগ্যের পরশমনি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী(রহ.)

হজ্জ করিবার প্রণালী 

তিন প্রণালীতে হজ্জ করা যায়যথা- (ইফরাদ (কিরান  (তামাত্তো।


(১) ইফরাদ হজ্জ : ইহা সর্বোৎকৃষ্ট হজ্জ। ইহাতে প্রথমে শুধু হজ্জ করিতে হয়। হজ্জ সম্পন্ন করার পর কা'বা শরীফের বাহিরে যাইয়া ওমরাহ করিবার জন্য ইহরাম বাঁধিতে হয় এবং ওমরাহ্ সমাধা করিতে হয়। জি'রানায় ওমরাহের ইহরাম বাঁধা তান্‌ঈমে বাঁধা অপেক্ষা উৎকৃষ্টআবার তানঈমে বাঁধা হুদাইবিয়াতে বাঁধা অপেক্ষা উৎকৃষ্টএই তিন স্থান হইতে ওমরাহের জন্য ইহরাম বাঁধা সুন্নত।


(২) কিরান হজ্জহজ্জ  ওমরাহের ইহরাম একসঙ্গে মিলাইয়া বাঁধিলে ইহাকে কিরান হজ্জ বলে।কিরানের নিয়ত এইরূপ -"আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা বিহিজ্জাতি ওয়া ওমরাহ্" (اللهُمَّ لَبَّيْكَ بِحِجَةٍ وَ عُمْرَةٍ -)

অর্থাৎ “হে আল্লাহ্আমি হজ্জ  ওমরাহের জন্য আপনার দরবারে উপস্থিত হইয়াছি।” ইহাতে উভয়কার্যের ইহরামই একত্রে হওয়া যায়। এইরূপ নিয়ত করিয়া হজ্জের আবশ্যক কর্মসমূহ সম্পন্ন করিলে তৎসঙ্গে ওমরাহও সম্পন্ন হইয়া যাইবেযেমন যথারীতি গোসল করিলে ওযূও সম্পন্ন হইয়া যায়। যে ব্যক্তি হজ্জ  ওমরাহের নিয়ত এক সঙ্গে করত কিরান হজ্জ সমাধা করিবে তাহার প্রতি একটি ছাগল কুরবানী করা ওয়াজিব হইবে। কিন্তু মক্কা শরীফের অধিবাসিগণের উপর ওয়াজিব হইবে না। কারণদূরবর্তী মীকাতে ইহরাম বাঁধা তাঁহাদের উপর ওয়াজিব নহেমক্কা শরীফও তাঁহাদের ইহরাম বাঁধার স্থান। 

কিরান হজ্জের অভিলাষী ব্যক্তি আরাফার ময়দানে অবস্থানের পূর্বে কা'বা শরীফ তওয়াফ  সাঈ করিলে তৎসমুদয় কার্য হজ্জ  ওমরাহ উভয়ের মধ্যেই গণ্য হইবে। কিন্তু আরাফার ময়দানে অবস্থানের পর পুনরায় তওয়াফ করা আবশ্যক। কারণতওয়াফ আরাফার ময়দানে অবস্থানের পর করিতে হয়।


(৩) তামাত্তো হজ্জ : ইহার নিয়ম এই যেপ্রথমে ওমরাহের নিয়তে মীকাতে ইহরাম বাঁধিয়া মক্কা শরীফে গমনপূর্বক তওয়াফ প্রভৃতি সম্পন্ন করত ইহরাম ভঙ্গ করিবে। তৎপর হজ্জের সময়ে মক্কা শরীফে ইহরাম বাঁধিয়া যথানিয়মে হজ্জ সমাধা করিবে। তামাত্তো হজ্জকারীর উপর একটি ছাগল কুরবানী করা ওয়াজিব হইবে। কুরবানী করিতে অক্ষম হইলে ঈদুল আযহার পূর্বে উপর্যুপরি অথবা পৃথকপৃথকভাবে তিনটি রোযা করিবে এবং নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তনের পর আরও সাতটি রোযা করিবে। কিরান হজ্জকারীও কুরবানী করিতে অক্ষম হইলে এই নিয়মে দশটি রোযা করিবে। তামাত্তো হজ্জকারী যদি শাওয়ালযিলকদ বা যিলহজ্বের প্রথম দশ তারিখের মধ্যে কেবল ওমরাহের নিয়তে ইহরাম বাঁধে কিংবা অন্য কোন প্রকারে হজ্জের মর্যাদা লাঘব করে  হজ্জের ইহরাম নিজের নির্দিষ্ট মীকাতে নাবাঁধিয়া থাকেতবেই তাহার প্রতি কুরবানী ওয়াজিব হইবে। কিন্তু মক্কা শরীফের অধিবাসী বা মুসাফির হজ্জের সময় মীকাতে বা ইহার সমদূরবর্তী স্থানে গমন করত ইহরাম বাঁধিয়া আসিলে তাঁহার উপর ছাগ-কুরবানী ওয়াজিব হইবে না।


পরবর্তী পর্ব —

হজ্জের সময় হারাম কার্যসমূহ  উহার কাফ্ফারা


বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...