রবিবার, ২৫ জুন, ২০২৩

জিহ্বার বিপদাপদ - (পর্ব - ১৪) যে যে স্থানে মিথ্যা বলা জায়েয



জিহ্বার বিপদাপদ - (পর্ব - ১৪)

📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন - ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

যে যে স্থানে মিথ্যা বলা জায়েয
প্রকাশ থাকে যে, মিথ্যা সত্তাগতভাবে হারাম নয়; বরং এদিক দিয়ে হারাম যে, এর দ্বারা অন্যের ক্ষতি সাধিত হয়। এ ক্ষতির সর্বনিম্ন স্তর হচ্ছে আসল সত্য সম্পর্কে মূর্খ থাকা। সুতরাং যদি কোথাও আসল সত্য সম্পর্কে মূর্খ থাকার মধ্যে উপকারিতা থাকে, তবে মিথ্যা বলার অনুমতি হওয়া উচিত; বরং কোন কোন ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা ওয়াজিব হওয়া দরকার। মায়মুন ইবনে মেহরান বলেন : মিথ্যা কোন কোন ক্ষেত্রে সত্যের চেয়ে উত্তম হয়ে থাকে। উদাহরণতঃ যদি কোন ব্যক্তি পলায়ন করে তোমার মাধ্যমে এক গৃহে আত্মগোপন করে এবং অন্য এক ব্যক্তি তরবারি নিয়ে তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার জন্যে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে, সে তোমাকে জিজ্ঞেস করে, অমুক ব্যক্তি কোথায়? তবে এ ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা ওয়াজিব।

সারকথা, যেখানে একটি উৎকৃষ্ট লক্ষ্য মিথ্যা ও সত্য উভয়টি দ্বারা অর্জিত হতে পারে, সেখানে মিথ্যা বলা হারাম। আর যদি কেবল মিথ্যা দ্বারাই সেই লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে, তবে লক্ষ্য বৈধ হলে মিথ্যা বলা ও বৈধ এবং লক্ষ্য ওয়াজিব হলে মিথ্যা বলাও ওয়াজিব; যেমন বর্ণিত উদাহরণ দ্বারা বুঝা যায়। যেখানে পরস্পরের মধ্যে শান্তি স্থাপন মিথ্যা ছাড়া সম্ভবপর হয় না, সেখানে মিথ্যা বলা বৈধ; কিন্তু যথাসম্ভব বৈধ মিথ্যা থেকেও বেঁচে থাকতে হবে। কেননা, মিথ্যার অভ্যাস হয়ে গেলে অনাবশ্যক মিথ্যাও মুখে উচ্চারিত হওয়ার অথবা প্রয়োজনের বেশী মিথ্যা বলে ফেলার আশংকা থাকে। এ থেকে জানা গেল, মিথ্যা আসলে হারাম,
কিন্তু প্রয়োজনে জায়েয হতে পারে। হযরত উম্মে কুলসুম (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি কখনও শুনিনি যে, রসূলে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া-আলিহী ওয়াসাল্লাম) তিনটি জায়গা ছাড়া কোথাও মিথ্যার অনুমতি দিয়েছেন। (১) দু'ব্যক্তির মধ্যে সন্ধি স্থাপনে, (২) যুদ্ধক্ষেত্রে এবং (৩) স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য দূর করার ক্ষেত্রে। রসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া-আলিহী ওয়াসাল্লাম) বলেন- “যে দু'ব্যক্তির মধ্যে সন্ধি স্থাপনে ভাল কথা বলে এবং ভাল বর্ণনা করে, সে মিথ্যাবাদী নয়”।
হযরত আবু কাহেল (রঃ) বর্ণনা করেন : দু'জন সাহাবীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হল। অবশেষে তারা খুন খারাবী করতে প্রস্তত হয়ে গেল। আমার সাথে তাদের একজনের দেখা হলে আমি তাকে বললাম : তুমি অমুক ব্যক্তির সাথে লড়তে চাও কেন? সে তো তোমার প্রশংসা করছিল। এরপর অপরজনের সাথেও সাক্ষাৎ করে এ কথাই বললাম। অবশেষে তাদের মধ্যে সন্ধি হয়ে গেল। এরপর আমি ভাবতে লাগলাম, তাদের মধ্যে সন্ধি তো হয়ে গেছে, কিন্তু মিথ্যা বলার কারণে আমার কি দশা হবে? তাই রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া-আলিহী ওয়াসাল্লাম)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে ঘটনা বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন : হে আবু কাহেল! পরস্পরের মধ্যে শান্তি স্থাপন করা দরকার, যদিও মিথ্যা বলেই হয়।
আতা ইবনে ইয়াসার বলেন : এক ব্যক্তি রসূলে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া-আলিহী ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে জিজ্ঞেস করল : আমার স্ত্রীর সাথে মিথ্যা বলব? তিনি বললেন : মিথ্যার মধ্যে কল্যাণ নেই। সে আরজ করল : আমি তার সাথে ওয়াদা করব? তিনি বললেন : এতে দোষ নেই। মিথ্যা বলার ব্যাপারে উপরোক্ত তিনটি স্থানের ব্যতিক্রম হাদীস দ্বারা জানা গেল। যদি আরও কোন স্থান এমন হয়, যেখানে বিশুদ্ধ লক্ষ্য সামনে রেখে মিথ্যা বলা হয়, তবে সেই স্থানও এতে দাখিল হবে। উদাহরণ : কোন ডাকাত ও জালেম যদি কাউকে পাকড়াও করে জিজ্ঞেস করে : বল, তোর ধনসম্পদ কোথায়? তবে ধন-সম্পদ নেই বলা তার জন্যে জায়েয।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...