যশ ও রিয়া (পর্ব - ১)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দীন - ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দীন - ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
সর্বাধিক ভয়াবহ বিষয় হল রিয়া ও গোপন খাহেশ-
রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ মুবারক করেন-
>"আমার উম্মতের জন্য আমি যেসব বিষয়ের আশংকা করি তন্মধ্যে সর্বাধিক ভয়াবহ বিষয় হল রিয়া ও গোপন খাহেশ। অন্ধকার রাত্রিতে শক্ত পাথরের উপরে কাল পিপীলিকা চলাচল করলে যেমন তা কিছুতেই টের পাওয়া যায় না, তেমনি এই গোপন খায়েশও অনুভুত হয়না। এ কারণে এর বিপদ সম্পর্কে বড় বড় আলেমগণও জানতে পারেন না। সাধারণ আবেদ মুত্তাকীদের তো কথাই নেই। এটা নফসের বিনাশকারী শক্তি ও গোপন প্রতারণা। যে সকল আলেম ও আবেদ আখেরাতের পথ অতিক্রম করতে চায় এবং তজ্জন্য খুব তৎপর হয়, তাদেরকে রিয়ায় লিপ্ত করা হয়। অর্থাৎ তারা নিজের নফসকে মুজাহাদা ও সাধনার মাধ্যমে পরাভুত করে কামনা বাসনা থেকে আলাদা করে নেয় এবং সন্দেহযুক্ত বিষয়াদি থেকে বাঁচিয়ে নেয়। এর পর নফসকে বলপুর্বক বিভিন্ন প্রকার এবাদতে মশগুল করে। ফলে তাদের নফস বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা কোন বাহ্যিক গুনাহ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। নফস যখন মুজাহাদার পরিশ্রম থেকেমুক্তি পাওয়ার কোন উপায় দেখেনা, তখন এই পরিশ্রমের বিনিময়ে শান্তি, সস্তি ও আরামের অভিলাষী হয়।দুনিয়ার মানুষ যখন তাদেরকে মানতে এবং তাদের প্রতি সন্মান প্রদর্শন করতে শুরু করে, তখন নফস এক প্রকার আনন্দ অনুভব করে। এর পর তারা এলম, আমল ও এবাদত প্রকাশ করতে উৎসাহিত হয়ে যায়। আল্লাহ্ তা'আলা ভাল বলবেন কেবল এতেই তারা সবর করতে পারেনা। তারা দেখে মানুষের মধ্যে খ্যাত হয়ে গেছে- অমুক ব্যাক্তি কামনা বাসনা বর্জনকারী, সন্দেহযুক্ত বিষয়াদি থেকে আত্মরক্ষাকারী এবং কঠোর এবাদতে শ্রম স্বীকারকারী।
তারা আরো দেখে, অনেক মানুষ তাদের তারিফ ও প্রশংসা করে, তাদেরকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে, তাদের সাক্ষাতকে বরকত মনে করে, তাদের থেকে দোয়া নিতে আগ্রহী হয়, দেখামাত্রই প্রথমে সালাম করে, মজলিসের কেন্দ্রস্থলে আসন দেয়, সন্মুখে বিনীত ও নম্র হয়ে থাকে এবং খেদমত ও অন্যকোন মতলবের কথা বললে তা করতে তৎপর হয়ে যায়। এই সব দেখে-শুনে তাদের নফস এমন আনন্দ পায়, যার উপরে কোন আনন্দ নেই। এ আনন্দের অতিশয্যে গুনাহ বর্জন করা তেমন কঠিন হয় না এবং অব্যাহতভাবে এবাদত করা খুব সহজ হয়ে যায়। তারাতো মনে করে, তাদের জীবন আল্লাহর জন্য এবং তার ইচ্ছানুযায়ী এবাদতের জন্য। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের জীবন সে সব কামনা বাসনা ও আনন্দের প্রত্যাশী হয়ে থাকে, যা সুস্থ বিবেক ছারা কেউ জানে না। মানুষের সন্মান প্রদর্শনের কারণে যে আনন্দ তাদের অর্জিত হয়, তার দরুন আমলও এবাদতের সওয়াব সব বরবাদ হয়ে যায়। তারাতো নিজেদেরকে আল্লাহর নৈকট্যশীল মনে করে; কিন্তু বাস্তবে তাদের নাম মুনাফিকদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়। সুতরাং এটা নফসের এমন এক প্রতারনা, যা থেকে সিদ্দিক ও নৈকট্যশীলগণ ছারা কেউ বাঁচতে পারেনা । রিয়া যখন এমন একটি অভ্যন্তরীন ব্যাধি এবং শয়তানের বড়ফাঁদ, তখন এর স্বরুপ স্থর, প্রকার ভেদ এবং চিকিৎসা পদ্ধতি অবগত হওয়া একান্ত জরুরী।
রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ মুবারক করেন-
>"আমার উম্মতের জন্য আমি যেসব বিষয়ের আশংকা করি তন্মধ্যে সর্বাধিক ভয়াবহ বিষয় হল রিয়া ও গোপন খাহেশ। অন্ধকার রাত্রিতে শক্ত পাথরের উপরে কাল পিপীলিকা চলাচল করলে যেমন তা কিছুতেই টের পাওয়া যায় না, তেমনি এই গোপন খায়েশও অনুভুত হয়না। এ কারণে এর বিপদ সম্পর্কে বড় বড় আলেমগণও জানতে পারেন না। সাধারণ আবেদ মুত্তাকীদের তো কথাই নেই। এটা নফসের বিনাশকারী শক্তি ও গোপন প্রতারণা। যে সকল আলেম ও আবেদ আখেরাতের পথ অতিক্রম করতে চায় এবং তজ্জন্য খুব তৎপর হয়, তাদেরকে রিয়ায় লিপ্ত করা হয়। অর্থাৎ তারা নিজের নফসকে মুজাহাদা ও সাধনার মাধ্যমে পরাভুত করে কামনা বাসনা থেকে আলাদা করে নেয় এবং সন্দেহযুক্ত বিষয়াদি থেকে বাঁচিয়ে নেয়। এর পর নফসকে বলপুর্বক বিভিন্ন প্রকার এবাদতে মশগুল করে। ফলে তাদের নফস বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা কোন বাহ্যিক গুনাহ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। নফস যখন মুজাহাদার পরিশ্রম থেকেমুক্তি পাওয়ার কোন উপায় দেখেনা, তখন এই পরিশ্রমের বিনিময়ে শান্তি, সস্তি ও আরামের অভিলাষী হয়।দুনিয়ার মানুষ যখন তাদেরকে মানতে এবং তাদের প্রতি সন্মান প্রদর্শন করতে শুরু করে, তখন নফস এক প্রকার আনন্দ অনুভব করে। এর পর তারা এলম, আমল ও এবাদত প্রকাশ করতে উৎসাহিত হয়ে যায়। আল্লাহ্ তা'আলা ভাল বলবেন কেবল এতেই তারা সবর করতে পারেনা। তারা দেখে মানুষের মধ্যে খ্যাত হয়ে গেছে- অমুক ব্যাক্তি কামনা বাসনা বর্জনকারী, সন্দেহযুক্ত বিষয়াদি থেকে আত্মরক্ষাকারী এবং কঠোর এবাদতে শ্রম স্বীকারকারী।
তারা আরো দেখে, অনেক মানুষ তাদের তারিফ ও প্রশংসা করে, তাদেরকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে, তাদের সাক্ষাতকে বরকত মনে করে, তাদের থেকে দোয়া নিতে আগ্রহী হয়, দেখামাত্রই প্রথমে সালাম করে, মজলিসের কেন্দ্রস্থলে আসন দেয়, সন্মুখে বিনীত ও নম্র হয়ে থাকে এবং খেদমত ও অন্যকোন মতলবের কথা বললে তা করতে তৎপর হয়ে যায়। এই সব দেখে-শুনে তাদের নফস এমন আনন্দ পায়, যার উপরে কোন আনন্দ নেই। এ আনন্দের অতিশয্যে গুনাহ বর্জন করা তেমন কঠিন হয় না এবং অব্যাহতভাবে এবাদত করা খুব সহজ হয়ে যায়। তারাতো মনে করে, তাদের জীবন আল্লাহর জন্য এবং তার ইচ্ছানুযায়ী এবাদতের জন্য। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের জীবন সে সব কামনা বাসনা ও আনন্দের প্রত্যাশী হয়ে থাকে, যা সুস্থ বিবেক ছারা কেউ জানে না। মানুষের সন্মান প্রদর্শনের কারণে যে আনন্দ তাদের অর্জিত হয়, তার দরুন আমলও এবাদতের সওয়াব সব বরবাদ হয়ে যায়। তারাতো নিজেদেরকে আল্লাহর নৈকট্যশীল মনে করে; কিন্তু বাস্তবে তাদের নাম মুনাফিকদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়। সুতরাং এটা নফসের এমন এক প্রতারনা, যা থেকে সিদ্দিক ও নৈকট্যশীলগণ ছারা কেউ বাঁচতে পারেনা । রিয়া যখন এমন একটি অভ্যন্তরীন ব্যাধি এবং শয়তানের বড়ফাঁদ, তখন এর স্বরুপ স্থর, প্রকার ভেদ এবং চিকিৎসা পদ্ধতি অবগত হওয়া একান্ত জরুরী।
পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন