বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৩

যশ ও রিয়া - (২) রিয়ার উৎপত্তিস্থল ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি



যশ ও রিয়া (পর্ব - ২)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দীন - ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

রিয়ার উৎপত্তিস্থল ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি -
জানা উচিত যে, প্রকৃত পক্ষে খ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়াকে বলা হয় 'জাহ' তথা ঝাঁকজমক। এরূপ খ্যাতি শুভ নয়। বরং অখ্যাত এবং নামনিশান শুন্য থাকা ভাল। তবে আল্লাহ্ তা'য়ালা যদি তাঁর দ্বীনেকে প্রচার করার সুখ্যাতি দান করেন এবং এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চেষ্টা-চরিত্রের কোন দখল না থাকে তবে এরূপ স্বতঃস্ফুর্ত খ্যাতিতে কোন দোষ নেই। হজরত আনাস (রঃ)-এর রেওয়ায়েতে রসুলে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন : 
>"অনিষ্টের জন্য এটাই যতেষ্ট যে, মানুষ কারো দ্বীন ও দুনিয়ার ব্যাপারে তার দিকে আংগুলি দ্বারা ইশারা করবে। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা যাকে রক্ষা করেন তার কথা স্বতন্ত্র।"
হজরত হাসান (রঃ) এ হাদীসটি বর্ণনা করলে লোকেরা তাঁকে বলল : হে আবু সায়ীদ! আপনাকে দেখে মানুষ আপনার প্রতিও ইশারা করে। তিনি বললেন- এ হাদীসে এইশারা বুঝানো হয়নি;  বরং উদ্দেশ্য হল ধর্মে কোন কোন নতুনত্ব সৃষ্টি করার কারণে যদি কারোদিকে ইশারা করা হয় অথবা নতুন পাপাচার আবিষ্কার করার কারণে ইশারার পাত্র হয়ে গেলে তা অনিষ্টকর। মোট কথা হাদীসটির এমন ব্যাখ্যা দিলেন, যাতে কোন দোষ নেই।
হযরত আলী (রঃ) বলেন "ব্যয় কর খ্যাত করোনা এবং নিজের অস্তিত্বকে বাড়িয়ে উপস্থিত করোনা- যাতে মানুষ তোমাকে চিনে ফেলে এবং স্মরণ করে;  এবং নিজেকে গোপন কর এবং চুপ থাক। এতে মুক্তি নিহিত রয়েছে। ধার্মিক লোকেরা তোমার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে এবং পাপাচারীরা জ্বলে-পুড়ে মরবে।"

হযরত ইব্রাহীম ইবনে আদহাম বলেন : যে খ্যাতিকে ভাল মনে করে,  সে আল্লাহ্'কে চিনে না
হযরত আইয়ুব সখতিয়ানী (রহঃ) বলেন : যে পর্যন্ত কেউ তার বাসগৃহ মানুষের কাছে অজ্ঞাত থাকাকে পছন্দ না করবে,  সেপর্যন্ত আল্লাহ্ তায়ালার সত্যায়ন হয়না । খালেদ ইবনে মে'দানের ওয়াজের মজলিসে যখন অনেক লোক হয়ে যেত, তখন তিনি খ্যাতির ভয়ে মজলিশ থেকে উঠে চলে যেতেন ।
আবুল আলিয়ার কাছে তিন জনের বেশী হলে তিনি প্রস্থান করতেন ।
হযরত তালহা (রঃ) একবার দেখলেন,  তারসাথে দশজন লোক হেঁটে চলেছে । তিনি বললেন : এরা লালসার মাছি এবং দোযখের ফড়িং ।
হযরত সোলাইমান ইবনে হানযালা (রঃ) বর্ণনা করেন,  আমরা হযরত উবাই ইবনে কা'বের পেছনে পেছনে যাচ্ছিলাম । হঠাৎ হযরত ওমর (রঃ)-এর দৃষ্টি তাঁর উপর পতিত হল । তিনি দোররা নিয়ে তেড়ে আসলেন । হযরত কা'ব আরয করলেন : আমীরুল মুমিনীন ! আপনি কি করছেন, একটু ভেবে দেখুন ! যেরূপ সাড়ম্বরে তুমি গমন করছ,  সেটা তাবেয়ীদের জন্য ভ্রষ্টতার পথ এবং তোমার জন্য পরীক্ষা ।
হযরত হাসান (রঃ) বর্ণনা করেন,  হযরত ইবনে মসউদ একদিন গৃহ থেকে বের হলে অনেক লোক তাঁর পেছনে চলতে লাগল । তিনি তাদের দিকে মুখ করে বললেন :তোমরা আমার পেছনে আসছ কেন ?  আল্লাহ্'র কসম,  যে কারণে আমি আমার গৃহের দরজা বন্ধ রাখি,  তা যদি তোমাদের জানা হয়ে যায়,  তবে দু'টি লোকও আমার সাথে চলবেনা । 
হযরত হাসান (রঃ) একদিন বাড়ী থেকে বের হলে লোকজন তাঁর পিছনে চলতে লাগল । তিনি বললেন :আমার কাছে কোন প্রয়োজন থাকলে ভাল,  নতুবা আশ্চর্যনয় যে,  এ পিছনে চলা ইমানদারের অন্তরে কিছু অবশিষ্ট রাখবেনা । অর্থাৎ এতে আল্লাহ্'র মারেফত বিলুপ্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে । বর্ণিত আছে,  এক ব্যক্তি ইবনে মাজরিযের সাথে সফরে গেল । অতঃপর তার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আরয করল : আমাকে কিছু উপদেশ দিন । তিনি বললেন, সম্ভবপর হলে এটা কর : তুমি অপরকে চিনবে কেউ যেন তোমাকে না চিনে । পথ চলার সময় কেউ যেন তোমার সাথে না থাকে । তুমি অপরকে জিজ্ঞেস করবে,  কেউ যেন তোমাকে জিজ্ঞেস না করে ।
জনৈক বুজুর্গ বলেন,  আমি আবু কেলাবের সঙ্গে ছিলাম,  এমন সময় এক ব্যক্তি অনেক পোষাক পরিহিত হয়ে সেখানে এল । তিনি বললেন এই বাকশক্তিশীল গাধা থেকে বেঁচে থাক । অর্থাৎ খ্যাতি অন্বেষন করোনা । 
হযরত ছওরি (রহঃ) বলেন, পূর্ববর্তী বুযুর্গগণ দুটি খ্যাতি থেকে বেঁচে থাকতেন- একটি উৎকৃষ্ট পোশাক পরিচ্ছদের খ্যাতি এবং অপরটি ছিন্ন ও পুরাতন পোশাকের খ্যাতি । কেননা উভয় পোশাকের প্রতি মানুষের দৃষ্টি সমভাবে নিবদ্ধ হয় । বিশর (রহঃ) বলেন,  খ্যাতি পছন্দ করেছে এবং ধর্ম বরবাদ হয়নি এরূপ ব্যক্তি আমার জানা নেই । তিনি আরো বলেন,  যে খ্যাতি কামনা করে,  সে আখেরাতের স্বাধ পায়না ।
 
পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...