মোট কথা সে সব কারণের সেরা কারণ হল আল্লাহদত্ত মানব প্রকৃতি। এর আগে এ সম্পর্কিত একটি হাদীস উদ্ধৃত হয়েছে (পাহাড় টললেও স্বভাব টলেনা হাদীস)। তার ভেতরও মানুষের প্রকৃতিগত প্রবণতার কথা রয়েছে।
খানা-পিনার মত বিভিন্ন অবস্থার প্রভাবে সেগুলোর অবস্থার পরিবর্তন ঘটে থাকে। তাই দেখি, ক্ষুধার্ত খেতে চায়, তৃষ্ণার্ত পানি চায়, কামাতুর নারী চায় ইত্যাদি। কখনও মানুষ এমন বস্তু খায় যা তার কাম প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে সে নারী ঘেঁষা হয়ে যায়। তাই তার গোটা ভাবনা-চিন্তা নারী কেন্দ্রিক হয়ে যায়। এ থেকেই সে অনেক অঘটন ঘটিয়ে থাকে। কখনও এমন রূঢ় বস্তু খায় যা তার অন্তরে রূঢ়তা সৃষ্টি করে। ফলে সে মানুষকে হত্যা করার মত কঠিন কাজ করতেও দ্বিধান্বিত হয় না। এ স্বভাবের কারণে সে এমন সব সাধারণ ব্যাপারেও ক্ষেপে যায় যাতে অন্য সবাই ক্ষিপ্ত হবার চিন্তাও করে না।
এ দু’ধরনের লোক যখন নামায-রোযার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির চেষ্টা চালায় কিংবা বেশ বৃদ্ধ হয়ে যায়, অথবা কঠিন পীড়াগ্রস্ত হয়, তখন তার আগের অবস্থা অনেকটা বদলে যায়। তার অন্তর নম্র এবং প্রকৃতি সরল হয়ে যায়। এ কারণেই যুবক ও বৃদ্ধের অবস্থার তারতম্য সুপ্রকট হয়ে থাকে। এ পার্থক্যের কারণেই মহানবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) রোজা থাকা অবস্থায় বৃদ্ধদের স্ত্রীকে চুমু খাওয়া বৈধ করেছেন, অথচ তরুণদের বেলায় তা নিষিদ্ধ রেখেছেন।
মোট কথা কারো কোন কিছুর অভ্যেস হওয়ার বা কিছু ভাল লাগার পেছনে কারণ হল, সে সেটা বেশী করে করার ফলে মনের পাতায় তা বিচিত্র হয়ে যায়। ফলে অধিকাংশ সময়ই সেটার ভাবনা তাকে পেয়ে বসে।
কখনও মানবিক প্রবৃত্তি পশু প্রকৃতির খপ্পর থেকে বেরিয়ে গিয়ে উচ্চ পরিষদ থেকৈ সাধ্যানুসারে দ্যুতিময় হয়ে থাকে। তার ফলে ভাল কাজের প্রেরণা ও প্রীতি এবং মানসিক শান্তি ও স্বস্তি দেখা দেয়। এ থেকেও কখনও কোন উন্নত মানের ভাল কাজ করার দৃঢ় সংকল্প দেখা দেয়।
কখনও জৈবিক প্রবৃত্তি শয়তানের সাহচর্যে পড়ে তারই রঙে রঞ্জিত হয়। তখন মন মগজে যে সব খেয়ালের উদ্ভব হয় তা থেকে মানুষের খারাপ কাজগুলো দেখা দেয়।
স্মরণ রাখা প্রয়োজন, স্বপ্নও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মন-মগজের খেয়াল থেকে জন্ম নেয়। পার্থক্য শুধু এই, স্বপ্নের জন্য মন পরিস্কার ও নির্ভেজাল থাকা চাই।তা হলেই তা তে স্বপ্নের কথাগুলো বিচিত্র ও রূপায়িত হতে পারে। (জাগরণে খেয়ালগুলো শতধা বিক্ষিপ্ত থাকে ও স্বপ্নে সেগুলো সুবিন্যস্ত হয়।) বিশেষত ইবনে সিরীনবলেন, স্বপ্ন তিন ধরনের। এক, অন্তরের স্বগতোক্তি। দুই, শয়তান ভীতি। তিন, আল্লাহর সুসংবাদ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন