বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৪

নফল নামায (পর্ব - ১৫) গ্রহণের নামায



নফল নামায - (পর্ব - ১৫)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

গ্রহণের নামায 
রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন- “নিশ্চয় সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহ তাআলার দু'টি নিদর্শন। কারও মৃত্যু ও জন্মের কারণে এগুলোর গ্রহণ হয় না। যখন এই গ্রহণ দেখ, তখন দ্রুত যিকির ও নামাযের দিকে ধাবিত হও।” 
তিনি একথা তখন বলেছিলেন, যখন তাঁর পুত্র ইবরাহীম (আঃ) এর ইন্তেকাল হয়েছিল এবং সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। এতে লোকেরা বলাবলি করছিল, ইবরাহীমের মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ হয়েছে।
এ নামায পড়ার নিয়ম এই- যখন সূর্যগ্রহণ হয় তখন মাকরূহ সময়ে হলেও মানুষকে নামাযের জন্যে 'নামাজের জন্য একত্রিত হও) বলে আহ্বান করবে। এর পর ইমাম তাদেরকে নিয়ে মসজিদে দু'রাকআত নামায পড়বে। 
প্রত্যেক রাকআতে দু'টি রুকু করবে। প্রথম রুকু বড় হবে এবং দ্বিতীয় রুকু ছোট। কেরাআত সরবে পড়বে না। প্রথম রাকআতে আলহামদু ও সূরা বাকারা পাঠ করবে। প্রথম রুকুর পরে দ্বিতীয় কেয়ামে আলহামুদ ও আলে এমরান পাঠ করবে। দ্বিতীয় রাকআতে কেয়ামে আলহামদু ও সূরা নেসা এবং প্রথম রুকুর পর দ্বিতীয় কেয়ামে আলহামদু ও সূরা মায়েদা পড়বে, 
আথবা কোরআনের যেখান থেকে ইচ্ছা পড়বে। যদি প্রত্যেক কেয়ামে কেবল আলহামদুই পাঠ করে তবুও যথেষ্ট হবে। ছোট ছোট সূরা পড়লেও কোন দোষ নেই। নামায দীর্ঘ করার উদ্দেশ্য গ্রহণ শেষ হয়ে যাওয়া। প্রথম রুকুতে একশ ' আয়াত পরিমাণে, দ্বিতীয় রুকুতে আশি আয়াত পরিমাণে, তৃতীয় রুকুতে সত্তর আয়াত পরিমাণে এবং চতুর্থ রুকুতে পঞ্চাশ আয়াত পরিমাণে তসবীহ্ পাঠ করবে। সেজদা ও রুকুর অনুরূপ হওয়া উচিত। এর পর নামায শেষে দু'টি খোতবা পাঠ করবে। মাঝখানে বসবে। উভয় খোতবার মানুষকে সদকা দেয়ার ও তওবা করার আদেশ দেবে। 
চন্দ্রগ্রহণেও তাই করবে। কিন্তু তাতে কোরআন সরবে পাঠ করবে না। কেননা , এ নামায রাতের বেলায় হবে। যতক্ষণ সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ অব্যাহত থাকে ততক্ষণ এই নামায পড়ার সময় নামাযের মধ্যেই গ্রহণ শেষ হয়ে গেলে নামায সংক্ষিপ্ত আকারে পূর্ণ করে নেবে। 

পরবর্তী পর্ব-


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...