✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার সৃষ্টি রহস্য-
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ্ তা'আলা সর্বপ্রথম 'শাজ্বরাতুল্ ইয়াকীন' নামে চারি কান্ড বিশিষ্ট একটি বৃক্ষ সৃষ্টি করেন। তারপর নুরে মুহম্মদীকে ময়ুর আকৃতিতে শুভ্র মুক্তার আবরনের মধ্যে সৃষ্টি করিয়া উক্ত বৃক্ষের উপর রাখিয়া দেন। সত্তর হাজার বৎসর তিনি এরুপ অবস্থায় আল্লাহ্ তা'আলার তাসবীহ পাঠে নিবিষ্ট থাকেন।
অতঃপর আল্লাহ তা'আলা লজ্জার আয়না তৈরী করিয়া তাঁহার সন্মুখে রাখেন। তিনি যখন স্বীয় সুন্দর লাবণ্যময় জাঁকজমকপূর্ণ ছবি আয়নার মধ্যে দেখতে পান, তখন লজ্জিত হইয়া আল্লাহ্ তা'আ'লাকে অবনত মস্তকে পাঁচবার সিজদাহ করেন। এই কারণেই হযরত মুহম্মদ মুস্তফা (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার উম্মতের উপর দৈনিক নির্দিষ্ট সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরয হইয়াছে। আল্লাহ তা'আলা পুনরায় যখন উক্ত নুরের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন, তখন উহা আল্লাহ'র ভয়ে লজ্জিত ও ঘর্মাক্ত হইয়া যায়। আল্লাহ তা'আলা তাঁহার মাথার ঘর্ম হইতে ফেরেশতাদিগকে এবং মুখমন্ডলের ঘর্ম হইতে আরশ-কুরসি, লৌহ-মাহফুজ, কলম, চন্দ্র, সূর্য, পর্দা সমুহ, তারকারজি এবং আকাশস্থিত যাবতীয় বস্তু পয়দা করেন। আর কর্ণদ্বয়ের ঘর্ম হইতে ঈহুদী, নাসারা, অগ্নি উপাসক এবং অন্যেন্য অনুরূপ জাতীসমূহের আত্মা সৃষ্টি করেন। তাহার পদদ্বয়ের ঘর্ম হইতে ভূমন্ডলস্থিত সমুদয় বস্তু সামগ্রী সৃষ্টি করেন।
তারপর আল্লাহ্ তা'আলা নূরে মুহম্মদী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) -কে সম্মুখের দিকে তাকাইতে আদেশ করেন। তিনি সম্মুখ পানে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিলে তাঁহার সম্মুখে, পশ্চাতে, উত্তরে, দক্ষিণে যতাক্রমে হযরত আবুবকর (রঃ) হযরত ওমর (রঃ), হযরত ওসমান (রঃ) এবং হযরত আলী (রঃ) এর নূর দেখিতে পান। অতঃপর নূরে মুহম্মদী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) সত্তর হাজার বৎসর পর্যন্ত আল্লাহ'র তসবীহ পাঠ করেন। লাল লোহিত আকীক পাথরে একটি লন্ঠন বা ফানুস তৈরি করিয়া হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) -কে নামাজের সুরতে উহাতে বসাইয়া রাখেন। অতঃপর উল্লিখিত আত্মাসমূহ নুরে মুহাম্মদী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) -কে এক লক্ষ বৎসর পর্যন্ত তাওয়াফ করেন এবং তাসবীহ তাহলীল পাঠ করিয়া কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন