রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪

দাকায়েকুল আখবার- (২৩) কিরামান কাতেবীনের বিবরণ



📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ২৩)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

কিরামান কাতেবীনের বিবরণ-
হাদীস শরীফে বর্ণিত রহিয়াছে যে, প্রত্যেক মানুষের ডাইনে এবং বামে দুইজন ফেরেশতা রহিয়াছেন। তাহাদের মধ্যে দক্ষিণ পার্শ্বের ফেরেশতা তাঁহার সহকর্মীর অনুমতি ছাড়াই বান্দার নেক আমলগুলি লিপিবদ্ধ করেন; কিন্তু বামপার্শ্বের ফেরেশতা তাহার সহকর্মীর অনুমতি ছাড়া বান্দার পাপ কর্মগুলি লিপিবদ্ধ করিতে পারেন না। আল্লাহ তা'আলার বান্দা যখন উপবেশন করে তখন তাঁহারা তাহার ডাইনে এবং বামে উপবেশন করেন। আর মানুষ যখন চলাফেরা করে তখন একজন তাহার সামনে এবং অন্যজন তাহার পিছনে ও নিদ্রিত অবস্থায় মস্তক পার্শ্বে ও পদ-প্রান্তে থাকিয়া বান্দার তত্ত্বাবধান করেন।

অন্য এক হাদীসে আছে যে, বান্দার তত্ত্বাবধান করিবার জন্য পাঁচজন ফেরেশতা রহিয়াছেন। তন্মধ্যে দুইজন রাত্রিতে, দুইজন দিবাভাগে ও একজন সদাসর্বদা তাহার সহিত অবস্থান করেন। দিবাভাগের ফেরেশ্তাদ্বয় বান্দাকে দিবাভাগে মানব-দানব, শত্রু ও শয়তানের অনিষ্টকারিতা হইতে রক্ষা করেন। 
অন্য এক রেওয়ায়েতে আছে যে, বান্দার উভয় কাঁধে দুইজন ফেরেশতা  অবস্থান করেন। তাঁহারা তর্জনী অঙ্গুলিকে কলমরূপে, মুখগহ্বরকে দোয়াতরূপে, মুখের থুথুকে কালিরূপে এবং অন্তরকে কাগজরূপে ব্যবহার করিয়া বান্দার সারা জীবনের কাজকর্ম লিপিবদ্ধ করিয়া থাকেন। 
হযরত নবী করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করিয়াছেন যে, দক্ষিণ পার্শ্বের ফেরেশতা নেতা হিসাবে কাজ করেন। বান্দার পাপকাজ করিবার সাথে সাথে বামপার্শ্বের ফেরেশতা উহা লিখিতে মনস্থ করেন। আর তখনই নেতা ফেরেশতা তাহাকে বলেন, “হে প্রিয় বন্ধু! অন্ততঃ সাত ঘন্টার জন্য তোমার লিখা বন্ধ রাখ।” ইতিমধ্যে বান্দা তাওবাহ করিলে কিংবা মৃত্যুবরণ করিলে উহা আর লিপিবদ্ধ করা হয় না। অন্যথায় কেবলমাত্র একটি পাপ লিপিবদ্ধ করা হয়। আর মৃত্যুর পর বান্দাকে কবরের মধ্যে রাখা হইলে উভয় ফেরেশতা আল্লাহ তা'আলার নিকট ফরিয়াদ করেন, “হে আল্লাহ ! আপনি আমাদিগকে আপনার বান্দার নেক-বদ লিপিবদ্ধ করিবার কাজে নিয়োজিত করিয়াছিলেন, কিন্তু এখন আপনি তাহার রূহ কবজ করিয়া লইয়াছেন। অতএব আমাদিগকে আকাশে আরোহণ করিবার অনুমতি প্রদান করুন।” উত্তরে আল্লাহ তা'আলা বলেন, “হে ফেরেশতাগণ! তোমরা অবগত আছ যে গগনমণ্ডল অজস্র স্বর্গীয় ফেরেশ্তায় ভরপুর। তাহারা সদা-সর্বদা আমার তাসবীহ, তাহলীল পাঠে মশগুল রহিয়াছে। তোমরাই বল, আমি তোমাদের দ্বারা কি করিব?” ফেরেশ্তাগণ পুনরায় আরজ করেন, “হে বারে এলাহী! তবে আমাদিগকে দুনিয়াতেই বাস করিবার অনুমতি প্রদান করুন।' তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন, “পৃথিবীও আমার অজস্র সৃষ্ট জীবে ভরপুর। আমি পৃথিবীতে তোমাদের দ্বারা কি করাইব?” পরিশেষে আল্লাহতায়ালা তাহাদিগকে নির্দেশ দেন, “ওহে ফেরেশ্তাগণ! তোমরা ঐ বান্দার কবরে বসিয়া রোজ কিয়ামত পর্যন্ত তাসবীহ তাহলীল পাঠ কর এবং তাহার আমলনামায় ঐগুলি যোগ করিয়া দাও।” যেমন পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করিয়াছেন-
উচ্চারণ : “ওয়া ইন্না আলাইকুম লাহাফিজি-না কিরা-মান্ কাতিবী না ইয়ালামু-না   মা তাফ্ আলুন্।"
অর্থাৎ “নিশ্চয়ই তোমাদের তত্ত্বাবধানের নিমিত্ত কিরামান কাতিবীন নামক দুইজন ফেরেশতা রহিয়াছেন, যাহারা তোমাদের আমলনামা সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত আছেন।” আর তাহাদিগকে কিরামান কাতেবীন নামে আখ্যায়িত করার কারণ হইল এই যে তাহারা বান্দার কৃত নেককাজে আনন্দে উৎফুল্ল হইয়া আকাশমণ্ডলে আরোহণ করতঃ আল্লাহ তা'আলার দরবারে প্রার্থনা করে, “হে আল্লাহ! আপনার ঐ বান্দা আপনার রেজামন্দির উদ্দেশ্যে এইরূপ নেক আমল করিয়াছে এবং আমরা ইহার সত্যতার সাক্ষ্য দিতেছি।” তবে বান্দা যখন কোন পাপ করে তখন ফেরেশতাদ্বয় বিমর্ষ, চিন্তান্বিত ও সলজ্জ অবস্থায় গগনমণ্ডলে আরোহণ করিয়া থাকে। তারপর আল্লাহ তা'আলা তাহাদিগকে প্রশ্ন করেন,- “হে কিরামান কাতেবীন! আমার বান্দা কিরূপ আমল করিয়াছে?” তখন তাহারা নিরুত্তর থাকে। অনুরূপভাবে তৃতীয়বার তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করা হইলে তাহারা বলে, “হে আল্লাহ! আপনি সর্ব পরিজ্ঞাত, গোপনকারী এবং বান্দাদের দোষ গোপনের নির্দেশদাতা । হে আল্লাহ! আপনার বান্দা প্রতিদিন আপনার পবিত্র কালাম পাঠ করিয়াছে এবং আপনার স্তুতিগান করিয়াছে।” তারপর তাহারা আবার আরজ করে, “হে পরম দয়াময় আল্লাহ! আপনি তাহাদের আয়েব-ত্রুটি গোপন করুন।" এইজন্যই তাহাদিগকে কিরামান কাতেবীন অর্থাৎ 'মর্যাদাশীল লেখক' নামে অভিহিত করা হইয়াছে।

পরবর্তী পর্ব-
জামাতে নামায আদায়ের ফজীলত-

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...