মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০২৪

দাকায়েকুল আখবার- (৭) মানুষের শরীরের চামড়ার রহস্য


📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ৭)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

মানুষের শরীরের চামড়ার রহস্য-
রূহ্ যখন আদম (আঃ)-এর উদরে প্রবেশ করিল, তখন তিনি খাদ্য ভক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিলেন। অতঃপর রূহ দেহে প্রবেশ করিলে দেহ রক্ত, মাংস, শিরা-উপশিরায় পরিণত হইল। আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম (আঃ) এর শরীরকে নখের আবরণ দ্বারা ঢাকিয়া দিলেন। তাই তাঁহার দেহের সৌন্দর্য ও লাবণ্য দিন দিন অধিকতর বর্ধিত হইতে থাকে; কিন্তু ভুল পথে পদক্ষেপের ফলে আল্লাহ তা'আলা শাস্তি স্বরূপ তাঁহার সেই নখের আবরণকে চামড়ার আবরণে পরিবর্তিত করিয়া দেন, আর পূর্বাবস্থার চিহ্নস্বরূপ হস্ত-পদের অঙ্গুলির অগ্রভাগে সামান্য একটু নখ রাখিয়া দেন।
দয়াময় আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম (আঃ) এর সৃষ্টি সমাপ্ত করিয়া তাঁহাকে রূহদান করিলেন এবং তাঁহাকে বেহেশতের পোশাকে সুসজ্জিত করিলেন। তখন নূরে মোহাম্মদী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তাঁহার মুখমণ্ডলে ও পেশানিতে পূর্ণিমার উজ্জ্বল চন্দ্রের ন্যায় চমকাইতে থাকে৷ তারপর যখন তিনি আশ্চর্যান্বিত হইয়া মস্তক উত্তোলন করিলেন, তখন ফেরেশতাগণ তাঁহাকে স্কন্ধে উঠাইয়া লইল। আর আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদিগকে নির্দেশ করিলেন, “হে ফেরেশতাগণ!  তোমরা হযরত আদম (আঃ) কে আকাশের অত্যাশ্চর্য বস্তুসমূহের দর্শক হিসাবে আকাশমণ্ডলে বিচরণ করাও। তাহা হইলে তাঁহার ঈমান আরও সুদৃঢ় হইবে।” 
ফেরেশতাগণ আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ অনুযায়ী হযরত আদম (আঃ) কে স্কন্ধে স্থাপন করিয়া প্রায় দুইশত বৎসর পর্যন্ত সমুদয় নভোমণ্ডল পর্যটনে অতিবাহিত করিলেন।
তারপর আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম (আঃ) এর সওয়ারী বা বাহনের নিমিত্ত ‘মাইমুনা’ নামক একটি ঘোটকী তীব্র সুগন্ধবিশিষ্ট মেশক দ্বারা সৃষ্টি করেন। উহার দুই পাখা মণিমুক্তা দ্বারা তৈরী করিয়া তিনি তাঁহাকে উহাতে উপবেশন করিতে বলিলেন। হযরত জিব্রাইল (আঃ) উহার লাগাম ধরিয়া আর হযরত মিকাইল (আঃ) উহার ডাহিনে এবং হযরত ইস্রাফিল (আঃ) উহার বামে থাকিয়া হযরত আদম (আঃ)-কে সমস্ত আকাশে ঘুরাইতে লাগিলেন। তাঁহার সহিত ফেরেশতাদের সাক্ষাত হইতেই তিনি তাহাদিগকে (আচ্ছালামু আলাইকুম) অর্থাৎ “তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হউক” বলিয়া সন্তাষণ করিলেন আর তাঁহারাও প্রত্যুত্তরে -"ওয়া আলাইকুমুচ্ছালামু ওয়া রাহমাতুল্লাহ্" অর্থাৎ তোমাদের উপরও শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হউক বলিয়া তাঁহাকে সম্ভাষণ জানাইলেন। তখন আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করিলেন, “ হে আদম! এইরূপ সালামই আমি তোমাকে এবং তোমার বিশ্বাসী বংশধরগণের নিমিত্ত উপঢৌকনস্বরূপ দান করিলাম। তোমরা উহাদ্বারা একে অপরকে কিয়ামত পর্যন্ত সম্ভাষণ করিবে।”

[বিঃ দ্রঃ হাদীস শরীফে আছে মুসলমানের সহিত কথা বলিবার পূর্বে প্রথমে সালাম প্রদান করিবে। অর্থাৎ এক মুসলমান অপর মুসলমানের সহিত কথা বলিবার পূর্বে প্রথমে সালাম প্রদান করিবে]

পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...