✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
আদম (আঃ) এর দেহের রহস্য
হযরত ইবনে আব্বাস রদিয়াল্লাহু আরো বর্ণনা করিয়াছেন যে, "আল্লাহ্ তা'আলা হযরত আদম আলাইহিস্সালামের মাথা বাইতুল কোকাদ্দেসের মাটি হইতে, এবং চেহেরা মুবারক বেহেশতের মাটি হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন। আর দন্তরাজি হাউজে কাউসারের মাটি হইতে দক্ষিন হস্ত কাবা শরীফের মাটি হইতে, বাম হস্ত পারস্যের মাটি হইতে, হাড়সমূহ পাহাড়ের মাটি হইতে, লজ্জাস্থান বাবেল দেশের মাটি হইতে, পার্শদেশ ইরাকের মাটি হইতে, হৃদয় ফেরদাউসের মাটি হইতে, নয়ন যুগল হাউজে কাউসারের মাটি হইতে জিহ্বা তায়েফেরে মাটি হইতে পয়দা করিয়েছেন।"
তাঁহার মস্তক বাইতুল মোকাদ্দেসের মাটি হইতে সৃষ্টি করা হইয়াছে বলিয়া উহা জ্ঞান-বিজ্ঞান, বিদ্যা-বুদ্ধি ও আলাপ-আলোচনার স্থান হইয়াছে। বেহেস্তের মাটি হইতে তাহার মুখমন্ডল তৈরী হইয়াছেন বলিয়া উহা সুন্দর, মনোহর ও লাবণ্যময় হইয়াছে। তাঁহার দন্তরাজি কাউসারের মাটি হইতে সৃষ্টি করা হইয়াছে বলিয়া উহারা স্বাধের ও আস্বাধনের স্থান হইয়াছে। তাঁহার দক্ষিন হস্থ কাবা শরীফের মাটি হইতে তৈরি হইয়াছে বলিয়া উহা সাহায্যের স্থান হইয়াছে। তাঁহার পিট মুবারক ইরাকের মাটি হইতে তৈরি হইয়াছে বলিয়া উহা শক্তি ও সামর্থের স্থান হইয়াছে। তাঁহার লজ্জাস্থাম বাবেল দেশের মাটি হইতে তৈরী হইয়াছে বলিয়া উহা কাম-স্থান হইয়াছে। তাহার হাড্ডি পাহাড় হইতে সৃষ্টি করা হইয়াছে বলিয়া উহা শক্ত ও সুদৃঢ় হইয়াছে। তাহার অন্তর ফেরদাউসের মাটি হইতে সৃষ্টি করা হইয়াছে বলিয়া উহা ঈমান ও বিশ্বাসের স্থান হইয়াছে। আর তাঁহার জিহ্বা তায়েফের মাটি হইতে তৈরী হইয়াছে বলিয়া উহা সাক্ষ্য দানের স্থান হইয়াছে।
পরম কৌশলী আল্লাহ তা'আলা হযরত আদম (আঃ) এর দেহে সর্বমোট নয়টি দরজা রাখিয়াছেন। তন্মধ্যে সাতটি হইল মস্তকে, যেমন- (১) দুই চক্ষু, (২) দুই কর্ণ, (৩) দুই নাসিকার ছিদ্র এবং (৪) মুখগহ্বর। অবশিষ্ট দুইটি কোমরের নীচে- বাহ্যনালী ও প্রস্রাব-নালী শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে সন্নিবেশিত হইয়াছে।
আর আল্লাহ তা'আলা চক্ষুদ্বয়ে দর্শন শক্তি, কর্ণদ্বয়ে শ্রবণ শক্তি, নাসিকায় ঘ্রাণশক্তি, জিহ্বায় আস্বাদন শক্তি, হাতদ্বয়ে স্পর্শ শক্তি এবং পদদ্বয়ে চলন শক্তি প্রদান করিয়াছেন। বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তা'আলা যখন হযরত আদম (আঃ) কে রূহদান করিতে ইচ্ছা করিলেন, তখন রূহ্কে আল্লাহ তাঁহার মুখে বা মস্তকে প্রবেশ করিতে নির্দেশ দিলেন। উহা মস্তকে প্রবেশ করতঃ দুইশত বৎসর পর্যন্ত হযরত আদম (আঃ) এর মস্তকে বিচরণ করিয়া চক্ষুদ্বয়ে অবতরণ করে। তখন হযরত আদম (আঃ) স্বীয় দেহ-কাঠামোর প্রতি নজর করিয়া সমস্ত শরীর অবলোকন করিলেন। আর যখন রূহ কর্ণে প্রবেশ করিল তখন তিনি ফেরেশতাগণের তাসবীহ্ পাঠ শ্রবণ করিলেন। অতঃপর রূহ্ নাসিকায় প্রবেশ করিয়া হাঁচি ছাড়িতে না ছাড়িতে পুনরায় মুখ ও কর্ণদ্বয়ে প্রবেশ করিল। তখন আল্লাহ পাক তাঁহাকে 'আলহামদুলিল্লাহ্' অর্থাৎ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য বলিতে শিখাইলেন৷ আর হযরত আদম (আঃ) এর হামদ শ্রবণ করিয়া আল্লাহ তাআলা তাঁহাকে ‘ইয়ারহামু কাল্লাহ' অর্থাৎ আল্লাহ তোমাকে রহম করিবেন বলিয়া আশীর্বাদ জ্ঞাপন করিলেন। তারঃপর রূহ্ বক্ষস্থলে প্রবেশ করিলে হযরত আদম (আঃ) তাড়াতাড়ি দণ্ডায়মান হইতে সচেষ্ট হইলেন, কিন্তু কিছুতেই দণ্ডায়মান হইতে পারিলেন না। এই জন্যই আল্লাহ তা'আলা বলিয়াছেন "ওয়া কানাল্ ইনছানু আজুলা" অর্থাৎ “মানুষ অত্যন্ত চপলমতি ও জলদিবাজ”।
[এ পর্বে শিক্ষনীয় যে হাঁচি দেয়ার পর 'আলহামদুলিল্লাহ্' ও শ্রবনকারী 'ইয়ারহামুকাল্লাহ্' বলিবে]
পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন