মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০২৪

দাকায়েকুল আখবার- (৮) ফেরেশতাগণের সৃষ্টির বিবরণ



📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ৮)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

ফেরেশতাগণের সৃষ্টির বিবরণ-
বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টিকুল নিয়ন্ত্রণ ও সৃষ্টজীবের তত্ত্বাবধানের জন্য শ্রেষ্ঠ ফেরেশতা হযরত জিব্রাইল (আঃ), হযরত মিকাইল (আঃ), হযরত আজরাইল (আঃ) ও হযরত ইস্রাফিল (আঃ) কে সৃষ্টি করিয়াছেন। হযরত জিব্রাইল (আঃ) কে আল্লাহ্ তা'আলার বাণী বাহক ও প্রধান দূতের কার্যে নিয়োজিত করিয়াছেন। আর হযরত মিকাইল (আঃ) কে খাদ্যদ্রব্য বন্টন ও শিলা বৃষ্টির নিয়ন্ত্রণের কার্যে, হযরত আজরাইল (আঃ) কে জীবের রূহ কবজ বা মৃত্যু-দূতের কার্যে এবং ইস্রাফিল (আঃ) কে বিশ্ব প্রলয়ঙ্করী শিঙ্গা ফুকাইবার কার্যে নিযুক্ত করিয়াছেন।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, হযরত ইস্রাফিল (আঃ) আল্লাহ তা'আলার সমীপে আবেদন করিয়াছেন, “হে আল্লাহ! আমাকে সাত আকাশ, সাত যমিন, পাহাড়-পর্বত, হিংস্র জীব-জন্তু ও মানব-দানবসমূহের শক্তি প্রদান করুন।” 
দয়াময় আল্লাহ তায়ালা তাঁহার প্রার্থনা মঞ্জুর করতঃ তাঁহাকে উল্লিখিত বস্তুসমূহের শক্তি দান করেন। তাঁহার দেহে অসংখ্য পালক রহিয়াছে এবং তাঁহার মস্তক জাফরানী রং-এর পশম দ্বারা আবৃত। তাঁহার এক এক পশমে হাজার হাজার মুখমণ্ডল আছে। আর প্রত্যেক মুখে অগণিত জিহ্বা রহিয়াছে। তাঁহার মুখমণ্ডল ও জিহ্বাসমূহ সুপ্রশস্ত পাখা দ্বারা পরিবৃত। তিনি প্রত্যেক জিহ্বা দ্বারা অসংখ্য ভাষায় আল্লাহ তা'লার তাসবিহ্ পাঠ করেন। তাঁহার প্রতি শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে আল্লাহ তায়ালা একজন করিয়া ফেরেশতা পয়দা করেন। এই সকল ফেরেশতা কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার তাবীহ পাঠে নিমগ্ন থাকিবে। তাঁহারাই মর্যাদাশালী আরশ বহনকারী 'কিরামান কাতিবীন' ফেরেশতা। তাঁহারা সকলেই হযরত ইস্রাফিল (আঃ) এর আকৃতিতে গঠিত।
হযরত ইস্রাফিল (আঃ) প্রত্যহ তিনবার করিয়া জাহান্নামের প্রতি নজর করেন। উহাতে তাঁহার দেহ প্রায় বিগলিত হইয়া যায় এবং ধনুকের রশির মত সঙ্কুচিত হইয়া যায়। সদাসর্বদা তিনি কান্নাকাটি ও রোনাজারীতে সময় অতিবাহিত করেন। যদি আল্লাহ তা'আলা তাঁহাকে চোখের পানি ফেলিতে ও ক্রন্দন করিতে নিষেধ না করিতেন, তাহা হইলে সমস্ত পৃথিবী তাঁহার চোখের পানিতে ভাসিয়া যাইত এবং হযরত নূহ (আঃ) এর প্লাবনের আকার ধারণ করিত। যদি তাঁহার চক্ষুর পানি পৃথিবীর উপর নিপতিত হইত, তবে সমস্ত পৃথিবীবাসী হযরত নূহ (আঃ) এর তুফানের মত পানিতে ডুবিয়া মৃত্যবরণ করিত। তাঁহার শরীরের পরিধি এতই বিস্তৃত যে সমস্ত সাগরের পানি যদি তাঁহার মস্তকে বর্ষিত হয় তথাপি একবিন্দু পানিও ভূমিতলে পতিত হইবে না।
হযরত ইস্রাফিল (আঃ) এর সৃষ্টির পাঁচশত বৎসর পর আল্লাহ তা'আলা হযরত মিকাইল (আঃ) কে পয়দা করেন। তাঁহার আপাদমস্তক জাফরানী রংয়ের পশমে এবং পাখায় আবার পরিবৃত । প্রতিটি পশমের গায়ে অসংখ্য মুখ ও চক্ষু রহিয়াছে । প্রত্যেক মুখে অসংখ্য জিহ্বা আছে । প্রত্যেক জিহ্বার সাহায্যে তিনি অসংখ্য ভাষায় আল্লাহ তা'লার তাসবীহ পাঠ করেন। তাঁহার প্রত্যেক চোখ মুমিন মুসলমান ও পাপীদের জন্য ক্রন্দন সহকারে আল্লাহ তায়ালা সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা করে ও রহমত কামনা করে। আর প্রত্যেক চক্ষু হাজার হাজার বিন্দু অশ্রু বিসর্জন করে। উহাদ্বারা আল্লাহ তায়ালা তাহার আকৃতির সত্তর হাজার ফেরেশতা পয়দা করেন। যাহারা কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার তাসবীহ পাঠে আত্মনিয়োগ করিবে। তাহাদিগকে ‘রূহানী ফেরেশতা' বলা হয়।
হযরত আজরাইল (আঃ) কে আল্লাহ্ তা'আলা হযরত ইস্রাফিল (আঃ) এর মতই সৃষ্টি করিয়াছেন। তাঁহারও মুখ, জিহ্বা এবং পাখা রহিয়াছে।

পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...