📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ২৮)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
মাখলুকাতের লয়প্রাপ্তি-
জীবকুলের নিধন কার্য শেষ হইলে আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম বিশাল পানিরাশি ধ্বংস করিবার জন্য আজরাইল (আঃ)-কে নির্দেশ দিবেন। যেমন ঘোষণা করিয়াছেন-“তাঁহার পবিত্র সত্তা ব্যতীত সমস্ত কিছুই বিলয় হইবে।” আজরাইল (আঃ) পানিকে বলিবেন, "হে পানিরাশি! তোমাদের মেয়াদ শেষ হইয়া গিয়াছে। অতএব তোমরা ধ্বংস হইয়া যাও!” পানি আর্তনাদ করিবার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করিবে। অনুমতি লাভ করিয়া পরস্পর চীৎকার করিয়া বলিবে, “হে তরঙ্গরাজি ও আশ্চর্য বস্তুসমূহ! তোমরা কই! আল্লাহ তা'আলা তোমাদের ধ্বংসের নির্দেশ জারী করিয়াছেন। তোমরা লয়প্রাপ্ত হও।” তারপর আজরাইল (আঃ) উচ্চৈঃস্বরে নির্দেশ করিবেন এবং পানিরাশি নিশ্চিহ্ন হইয়া যাইবে, যেন দুনিয়াতে কখনও পানি ছিল না। তারপর পর্বতসমূহের নিকট আজরাইল (আঃ) উপস্থিত হইয়া বলিবেন, “হে পর্বতমালা! তোমাদের মেয়াদ ফুরাইয়া গিয়াছে। অতএব তোমরা ধ্বংস হইয়া যাও।” পর্বতমালা চীৎকার করিয়া বলিবে, “কোথায় আমার বিশাল শৃঙ্গ ও শক্তি বল। অবশ্যই আল্লাহর নিকট হইতে ধ্বংসের সংবাদ আসিয়াছে।” তারপর আজরাইল (আঃ) পর্বত শীর্ষে ভীষণ গর্জন করিবেন। ফলে সমস্ত পর্বতমালা আগুনের তাপে বিগলিত সীসার ন্যায় গলিয়া যাইবে। তারপর আজরাইল (আঃ) পৃথিবীকে বলিবেন, “হে পৃথিবী! তোমার মেয়াদ ফুরইয়া গিয়াছে; সুতরাং তুমি আল্লাহ তা'আলার নির্দেশে ধ্বংসপ্রাপ্ত হও।” পৃথিবী ক্রন্দন করিবার আরজ করিয়া অনুমতি লাভ করতঃ বলিবে, “হে আমার গচ্ছিত ধনরাশি, বৃক্ষ-লতা, নদী-সাগর ও লতাপাতা, তোমরা কই?” তারপর আজরাইল (আঃ) ভূমিতলে প্রচণ্ড গর্জন করিলে এই পৃথিবী ধ্বংসপ্রাপ্ত হইয়া যাইবে। সুউচ্চ দেওয়ালগুলি ধ্বসিয়া যাইবে এবং পানিরাশি অতলগর্ভে বিলীন হইবে। পরিশেষে আজরাইল (আঃ) আকাশে আরোহণ করতঃ ভীষণ নাদে গর্জন করিলে চন্দ্র-সূর্যে পূর্ণ গ্রহণের সূচনা হইবে এবং তারকাপুঞ্জ খসিয়া পড়িতে থাকিবে। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা আজরাইল (আঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিবেন, “হে আজরাইল! সৃষ্টজগতে আর কাহারা বাকী রহিয়াছে?” প্রত্যুত্তরে আজরাইল (আঃ) বলিবেন, “হে আল্লাহ! আপনি চিরস্থায়ী, চিরঞ্জীব। আপনি ব্যতিত হযরত জিবরাইল (আঃ), হযরত মিকাইল (আঃ), হযরত ইস্রাফীল (আঃ), আরশবাহী ফেরেশতাগণ ও এই নিকৃষ্ট বান্দা অবশিষ্ট রহিয়াছে।” তখন আল্লাহ তা'আলা নির্দেশ করিবেন, “হে আজরাইল! তুমি কি আমার এই ঘোষণা শ্রবণ কর নাই যে, আমি নূতন দিন এবং তোমার আমলের সাক্ষ্যদাতা, প্রতিটি প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করিবে। তুমি আমারই সৃষ্ট পদার্থ; সুতরাং তোমাকেও মরিতে হইবে।” তারপর আজরাইল (আঃ) হযরত জিব্রাইল (আঃ) ও অন্যান্যদের জান কবজ করিবার পর স্বয়ং নিজের রূহ কবজ করিয়া মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করিবেন।
অপর এক হাদীসে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তা'আলা হযরত আজরাইল (আঃ)-কে নির্দেশ দিবেন, “হে আজরাইল! উঠ এবং হেহেশত ও দোযখের মাঝখানে মৃত্যুমুখে পতিত হও।' সেই সময় আল্লাহ্ তা\আলা ছাড়া অন্য কেহই জীবিত থাকিবে না! তারপর আল্লাহ্ তা'আলার রেজামন্দি অনুসারে দীর্ঘকাল পর্যন্ত জীবজগৎ ও বস্তুজগৎ বিলুপ্ত হইয়া থাকিবে। মোট কথা, আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকিবে না।
পরবর্তী পর্ব
সৃষ্ট জগতের পুনরুত্থান

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন