মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০২৪

দাকায়েকুল আখবার- (৪) নূরে মুহাম্মদীর দর্শনের তারতম্যের ফজিলত


📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ৪)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

নূরে মুহাম্মদীর দর্শনের তারতম্যের ফজিলত-
আল্লাহ তা'আলা পূর্বোল্লিখিত আত্মাসমূহকে নূরে মুহম্মদী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করিতে নির্দেশ করেন। এই আত্মাসমূহের মধ্যে যাহারা নূরে মুহম্মদী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর পবিত্র মস্তক দেখিয়াছেন তাহারা পরিণামে খলিফা ও বাদশা হইয়াছেন যাহারা পবিত্র মুখমন্ডল দেখিতে পাইয়াছেন, তাহারা ন্যায় পরায়ন, আমীর ও সাধক হইয়াছেন। যাহারা কর্ণ দ্বয় দেখিতে পাইয়াছেন তাহারা সত্যের সাধক হইয়াছেন। যাহারা চক্ষুদ্বয় দেখিতে পাইয়াছেন, তাহারা পবিত্র কুরআন শরীফের তত্বাবধায়ক হইবার সৌভাগ্য লাভ করিয়াছেন। ভ্রূদ্বয়ের দর্শকগণ ভাগ্যবান হইয়াছেন। যাহারা গন্ডদ্বয় দেখিয়াছেন, তাহারা বুদ্ধিমান ও চরিত্রবান হইয়াছেন। যাহারা পবিত্র নাসিকা দেখিযাছেন তাহারা হেকিম, ডাক্তার ও সুগন্ধি বিক্রেতা হইয়াছেন। আর যাহারা ওষ্ঠ মুবারক দেখিয়াছেন, তাহারা রূপবান ও উযির হইয়াছেন। যাহারা মুখ গহবর দেখিয়াছেন , তাহারা রোযাদার হইয়াছেন। দন্তরাজির দর্শকগণ সুন্দর সুন্দর নর-নারী হইয়াছে।  রশনা মুবারকের দর্শকগণ রাজদূত হইয়াছে। হল্কুমের দর্শকগণ বক্তা, মুয়াজ্জিন ও উপদেষ্টা হইয়াছে। শ্মশ্রু মুবারকের দর্শকগণ ধর্মযোদ্ধা হইয়াছেন। বাহুদ্বয়ের দর্শকগণ তীরন্দাজ ও তরবারি যোদ্ধা হইয়াছেন।  ডান বাহুর দর্শকগণ নাপিত হইয়াছে। বামবাহুর দর্শকগণ জল্লাদ ও বীর পুরুষ হইয়াছে। ডান হস্তের দর্শকগণ সাব্বাক ও শিল্পী হইয়াছে। বাম হস্তের দর্শকগণ কয়াল হইয়াছে। উভয় হস্তের দর্শকগণ দানবীর ও বিজ্ঞ হইয়াছে। হাতের পিট দর্শকগণ কৃপণ অসৎ হইয়াছে। ডান হস্তের পিট দর্শকগণ রন্জক হইয়াছে। বাম হস্তের পিট দর্শকগণ কাঠুরিয়া হইয়াছে। অঙ্গুলি দর্শকগণ লেখক ও মুন্সি হইয়াছে। ডান হস্তের অঙ্গুলির পিট দর্শকগণ দর্জি হইয়াছে। বাম হস্তের অঙ্গুলির পিট দর্শকগণ কর্মকার হইয়াছে। বক্ষ দর্শকগণ আলেম, মুস্তাহীদ, চিন্তাবিদ ও কৃতজ্ঞ হইয়াছে। পৃষ্ঠ দর্শকগণ ধর্মানুরাগী হইয়াছে। কপাল দর্শকগণ গাজী হইয়াছে। উদর দর্শকগণ স্বল্পেতুষ্ট ও সংসার ত্যাগী হইয়াছে। হাটু দ্বয় দর্শকগণ রুকু সিজদাহ্কারী হইয়াছে। পদদ্বয় দর্শকগণ শিকারী হইয়াছে। পদতম দর্শকগণ পর্যটক হইয়াছে। ছায়া মুবারক দর্শকগণ গায়ক ও রুটি প্রস্তুতকারক হইয়াছে। যাহারা তাহাকে দেখিতে পায় নায় তাহারাই খোদায়ী দাবীদার ফেরাউন, নমরুদ ও অন্যেন্য কাফের রূপে পরিগনিত হইয়াছে। যাহারা তাহার প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করা সত্বেও দেখিতে পায় নাই তাহারা ইহুদী, নাসারা, অগ্নি-উপাসক ইত্যাদিরুপে পরিগনিত হইয়াছে। 
আল্লাহ্ তা'আলা হুজুর করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর আহমদ নামের আকৃতিতে নামাযকে সৃষ্টি করিয়াছেন। যেমন নামাযে দন্ডায়মান হওয়া  'আলিফ' অক্ষর সদৃশ। রুকুর অবস্থা 'হা'-অক্ষর সদৃশ। সিজদাহ্ করা 'মিম' অক্ষর সদৃশ এবং নামাজের বৈঠক ও উপবেশন 'দাল' অক্ষর সদৃশ।আল্লাহ্ তা'আলা মানুষকে হুজুর করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর 'মুহাম্মদ' (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) নামের আকৃতিতে পয়দা করিয়াছেন। যেমন 'মিম' অক্ষরের মত মানুষের মস্তক গোলাকার। হস্তদ্বয় 'হা' অক্ষরের মত বাকা। উদর দ্বিতীয় 'মিম' অক্ষরের মতও মোটা ও গোল এবং পদদ্বয় 'দাল' অক্ষরের ন্যায়। এই কারণে কোন কাফের মানবাকৃতিতে দোযকের অনলকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হইবেনা। বরং কাফেরকে শুকরের আকৃতিতে দোযকের মধ্যে নিক্ষিপ্ত করা হইবে।
(ওয়াল্লাহু আ'লামু বিছ্ছাওয়াব)
[আল্লাহ্ তা'আলা-ই ইহার অধিক ভাল জানেন]

পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...