হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, বিশ্বনবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিয়াছেন—“আল্লাহ তা'আলা হযরত ইস্রাফিল (আঃ)-এর সিঙ্গাকে চারি শাখাবিশিষ্ট তৈরী করিয়াছেন। সিঙ্গার দুই শাখা পূর্ব-পশ্চিমে প্রলম্বিত রহিয়াছে। তৃতীয় শাখা সাত যমিনের নীচে ও চতুর্থ শাখা সাত 'আকাশের উপরে স্থাপিত। উহাতে রূহের আকারানুসারে অসংখ্য ছিদ্র রহিয়াছে; যেমন নবীগণের রূহের জন্য একটি, জ্বিনদের রুহের জন্য একটি, মানবাত্মার জন্য একটি, শয়তানের জন্য একটি ইত্যাদি। তাহা ছাড়া জীব-জন্তু, পোকা-মাকড় এমনকি মশা-মাছির জন্যও এক একটি ছিদ্র রহিয়াছে। হযরত ইস্রাফিল (আঃ)-কে আল্লাহ তা'আলা সেই কাজে নিয়োগ করিয়াছেন। অতএব তিনি সর্বদা সিঙ্গা মুখে করিয়া আল্লাহ তা'আলার নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন। আল্লাহ তা'আলার হুকুম মাত্র তিনি সজোরে সিঙ্গা ফুৎকার দিবেন। হযরত ইস্রাফিল (আঃ) তিনবার সিঙ্গায় ফুৎকার দিবেন। প্রথমবারে সমুদয় সৃষ্টজীব ভীত ও আতঙ্কগ্রস্ত হইবে। দ্বিতীয় বারে সকলেই মৃত্যুবরণ করিবে। তৃতীয়বারে সবাই পুনরুত্থিত হইবে।”
রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪
দাকায়েকুল আখবার- (২৬) সিঙ্গায় ফুৎকার, পুনরুত্থান ও হাশরের বিবরণ
📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ২৬)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
সিঙ্গায় ফুৎকার, পুনরুত্থান ও হাশরের বিবরণ-
সিঙ্গার তত্ত্বাবধানকারী হইলেন হযরত ইস্রাফীল (আঃ)। আল্লাহ তা'আলা লৌহে মাহফুজকে আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানের দূরত্বের সাতগুণ বেশী প্রশস্ত সাদা মণিমুক্তা দ্বারা তৈরী করিয়া আরশের সহিত ঝুলন্ত রাখিয়াছেন। রোজ কিয়ামত পর্যন্ত যাহা কিছু সংঘটিত হইবে, সবকিছুই ইহাতে লিখা রহিয়াছে।
হযরত ইস্রাফিল (আঃ)এর চারিটি পাখা রহিয়াছে। প্রথমটি পূর্বদিকে, দ্বিতীয়টি বিস্তৃত রহিয়াছে। আর তৃতীয়টির উপর তিনি নিজে অধিষ্ঠিত আছেন। চতুর্থটি দ্বারা তিনি আল্লাহ তা'আলার ভয়ে নিজ মুখমণ্ডল এবং মাথা আচ্ছাদিত রাখিয়াছেন। আল্লাহ তা'আলার ভয়ে তিনি এতই ভীত ও লজ্জিত যে, নিজ পাখায় মাথা ঢাকিয়া আরশে মোয়াল্লার খাম্বা বুকে রাখিয়া আনত মস্তকে পড়িয়া রহিয়াছেন আর আল্লাহ তা'আলার ভযে ক্ষুদ্র পাখীর মত সংকুচিত থাকেন। আল্লাহ তা'আলা যখন ‘লৌহে মাহফুজে' কোন আদেশ-নিষেধ জারী করেন, তখন তিনি নিজ মুখের পর্দা খুলিয়া উহার দিকে লক্ষ্য করেন। হযরত ইস্রাফিল (আঃ) অন্যান্য ফেরেশ্তাদের তুলনায় আরশের অতি নিকটে রহিয়াছেন। তবুও তাঁহার এবং আরশের মধ্যে সত্তর হাজার পর্দা রহিয়াছে। একটি হইতে অন্যটির দূরত্ব পাঁচশত বৎসরের রাস্তা। অনুরূপ হযরত ইস্রাফিল (আঃ) ও হযরত জিব্রাইল (আঃ) এর মধ্যে সত্তর হাজার পর্দা রহিয়াছে এবং দুই পর্দার দূরত্ব পাঁচশত বৎসরের রাস্তা। তিনি স্বীয় দক্ষিণ রানের উপর সিঙ্গা সংস্থাপন করতঃ উহার অগ্রভাগ মুখে দিয়া আল্লাহ তা'আলার নির্দেশের অপেক্ষায় সতর্ক রহিয়াছেন। আল্লাহর নির্দেশে তিনি উহাকে সজোরে ফুৎকার দিবেন। যখন পৃথিবীর আয়ু শেষ হইয়া আসিবে, তখন উহা তাহার কপালের সন্নিকট হইবে। তারপর তিনি আল্লাহর নির্দেশে নিজ পাখাগুলি দেহের উপর একত্রিত করতঃ খুব জোরে সিঙ্গা বাজাইবেন। এমন সময় হযরত আজরাইল (আঃ) সাত যমিনের নীচে একহাত ও আকাশের উপরে অন্যহাত রাখিয়া ইহাদের বাসিন্দাদের প্রাণ সংহার, করিবেন। পরিশেষে পৃথিবীতে ইবলিস্ মরদুদ ও আকাশে হযরত জিব্রাইল (আঃ), হযরত মিকাইল (আঃ) হযরত ইস্রাফিল (আঃ) ও হযরত আজরাইল (আঃ) এবং আল্লাহ তা'আলা যাহাদিগকে রক্ষা করিবেন, তাহাদের ব্যতীত অন্য সকলেই মৃত্যুবরণ করিবে। যেমন পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করা হইয়াছে,- (“ওয়া নুফিখা ফিছ্ছুরী ফাছাইক্বা মান্ ফিছ ছামাওয়াতি ওয়াল্ আরদ্বি ইল্লা মান্ শাআল্লাহ্”) "সিঙ্গা ফুৎকারের সাথে সাথে নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের সকলেই বেহুঁশ হইয়া পড়িবে; কিন্তু আল্লাহ তা'আলা যাহাদিগকে মর্জি করিবেন, তাহারা নিরাপদ থাকিবে"।
হযরত হোজায়ফা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করিলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)! সিঙ্গার ফুৎকারে মানুষের অবস্থা কিরূপ হইবে?" প্রত্যুত্তরে হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিলেন, “হে হোজায়ফা! আমার রূহ যাহার হাতে রহিয়াছে তাঁহার শপথ করিয়া বলিতেছি, সিঙ্গা ফুৎকার দেওয়া মাত্রই কিয়ামত সংঘটিত হইবে। এমন অবস্থা হইবে যে, মুখের নিকটে উঠানো লোকমা খাইবার অবসর মিলিবে না-ইহা হস্ত হইতে পড়িয়া যাইবে, পরিধেয় বস্ত্র সামনে থাকিবে সত্য কিন্তু পরিধান করিবার সাহস ও শক্তির অভাব হইবে। পানির পাত্র সামনে থাকিলেও উহা হইতে পানি পান করা অসম্ভব হইবে।
পরবর্তী পর্ব
সিঙ্গা ফুৎকারে প্রাণী জগতের অস্থিরতা-
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
বিবাহ (৩৫) কন্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ
বিবাহ (পর্ব – ৩৫) 📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.) কন্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...
-
অহংকার ও আত্মপ্রীতি (পর্ব- ৮) এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) অহংকারের প্রতিকার ও বিনয় অর্জনের উপায় উপরোক্ত আলোচনা থেকে জানা গেল যে,...
-
অহংকার ও আত্মপ্রীতি (পর্ব- ৫) এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) অহংকারের স্বরূপ ও তার লাভ-লোকসান— অহংকার দু'প্রকার। একটি বাহ্যিক, অপ...
-
অহংকার ও আত্মপ্রীতি (পর্ব- ৩) এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) অহংকারের নিন্দা — পবিত্র কোরআনুল কবিমে বহু স্থানে আল্লাহ তা'আলা ...

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন