মখলূক— (পর্ব – ৫)
📚মিনহাজুল আবেদীন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
নির্জনতা ও নিঃসংগতা জীবন অবলম্বন নির্দেশ—২
দ্বিতীয় শ্রেণীর লোক—
যে ব্যক্তি জ্ঞানের ব্যাপারে মানুষের নিকট প্রত্যাশী অথবা তার নিকটই মানুষ জ্ঞান লাভেচ্ছ কিংবা ধর্মীয় ব্যাপারে তাঁর নিকট মানুষের প্রয়োজন রয়েছে— যেমন, কোন ব্যক্তি জনসমাজে থাকলে তিনি হয়তো কোন একটি সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন বা কোন বিদ'আত দূর করতে সক্ষম কিংবা কথায় বা কাজে মানুষকে নেক কাজের দিকে আহবান করতে পারেন এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখার ক্ষমতাও রাখেন — এমতাবস্থায় এ শ্রেণীর লোকের পক্ষে মানুষের সঙ্গ ত্যাগ ও নির্জনতা অবলম্বন কোনক্রমেই সঙ্গত নয়। বরং মানুষের মধ্যেই তার অবস্থান করা উচিত। কারণ তাতে আল্লাহ্ তা'আলার মকলুকের নসীহতের কার্য হবে, আল্লাহর দীনের হেফাজত হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দ্বারা আহকাম-আরকানও বর্ণিত হবে। কেননা, রসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন :
“যখন বিদ'আত আত্মপ্রকাশ করে এবং আলিম নীরবতা অবলম্বন করে তেমন আলিমের উপর আল্লাহ্ তা'আলার অভিশাপ নাযিল হোক”।
যখন কোন আলিম বিদ'আতপূর্ণ সমাজে অবস্থান করে নীরবতা অবলম্বন করবেন, তখন তাঁর বেলায়ই উপরিউক্ত হাদীস প্রযোজ্য হবে। এমতাবস্থায় তিনি সেখান থেকে দূরে চলে গিয়ে নির্জনতা ও নীরবতা অবলম্বন করতে চাইলেও তা জায়েয হবে না।
ওস্তাদ আবি বকর বিন ফুরক সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি স্থির করলেন যে, আল্লাহর ইবাদতের জন্য মখলুক থেকে আলাদা অবস্থান করবেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি একটি পাহাড়ে উঠছিলেন। এমন সময় তাঁকে সম্বোধন করে আওয়াজ এলোঃ 'আয় আবূ বকর' যখন তুমি আল্লাহ্ তা'আলার মখলুকের মধ্যে তাঁর নিদর্শনসমূহের অন্যতম নিদর্শনের পর্যায়ে উপনীত হয়েছ, তখনই তুমি আল্লাহর বান্দাদের পরিত্যাগ করে চলেছ। এ আহবান শুনে তিনি প্রত্যাবর্তন করলেন এবং এ কারণেই ওস্তাদ আবি বকর বিন ফুরক তাঁর অবশিষ্ট জীবন মানুষের সাহচর্যেই কাটিয়েছেন।
মামুন বিন আহমদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ওস্তাদ আবি-ইসহাক কোন এক ইবাদত গোযার ব্যক্তিকে বলেছিলেন :
তুমি তো মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতদের বিদ'আতের হাতেই সমর্পণ করেছ, আর নিজে এখানে এসে বনের ঘাস চিবিয়ে দিন গোযরান করছ।
ইবাদত-গোযার ব্যক্তি এ কথার জবাবে বললেনঃ মানুষের সাথে অবস্থানের শক্তি ও ক্ষমতা আমার নেই। আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে বরং সেই ক্ষমতা ও শক্তি দান করেছেন।
অতঃপর আবি ইসহাক মানুষের মধ্যে অবস্থানকেই স্বীকার করে নেন এবং শরীয়তের একটি মূল্যবান গ্রন্থ প্রণয়ন করেন।
এ বুযুর্গদের মধ্যে ইলমের যেমন পরিপূর্ণতা ঘটেছিল তেমনি আমলের ব্যাপারেও তাঁরা নজীর স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাছাড়া, আখিরাতের খাটি পথ অবলম্বনের ব্যাপারে তাঁদের সূক্ষ্ম দৃষ্টিক্ষমতা ছিল। আল্লাহ্ এ সকল বুযুর্গ ব্যক্তির প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন