মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০২৪

মখলূক – ৪



মখলূক— (পর্ব – ৪)

📚মিনহাজুল আবেদীন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)


নির্জনতা ও নিঃসংগতা জীবন অবলম্বন নির্দেশ—১

এখন প্রশ্ন হলো আমাদের সামনে মখলুক অর্থাৎ সৃষ্ট-জগতের বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। কোন্ পর্যায়ে কিভাবে আমাদের নির্জনতা ও নিঃসঙ্গ জীবন অবলম্বন করা উচিত, সে সম্পর্কে আলোচনা করা দরকার।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মানুষকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। 

প্রথম, এমন অনেকেই আছেন, যাদের মখলুক থেকে জ্ঞান অথবা অন্য কোন কিছু গ্রহণের প্রয়োজনই নেই এবং তাদের কাছেও মানুষের কোন প্রয়োজন নেই। এই শ্রেণীর মানুষের পক্ষে মানুষ থেকে নিঃসঙ্গতা অর্জনই উত্তম। জুম'আ, জামা'আত, ঈদ, হজ্জ ও ইলমের মজলিস-এ সব ব্যতীত আর কখনো মানুষের সাহচর্যে তার না যাওয়াই উত্তম। তবে সাংসারিক বিষয়ের মধ্যে যদি এমন কোন জরুরী ব্যাপার দেখা দেয়, যা না হলেই চলে না – তাহলে সে ব্যাপার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে দেখা করতে পারেন। সব সময় নিজেকে আত্মগোপন রাখার এবং যে বিষয়ে জ্ঞান নেই অথবা যে সম্পর্কে জ্ঞানার্জন সম্ভব নয়, তার প্রকৃত রূপটিকেই দৃঢ়বদ্ধভাবে আঁকড়িয়ে থাকাই তার কর্তব্য।

এ শ্রেণীর ব্যক্তি যদি সম্পূর্ণ নির্জনতা ও নিঃসঙ্গ জীবন অবলম্বন করতে চান এবং মখলুক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেন, তবে কোন অবস্থাতেই কোনক্রমেই কারো সাথে যেন সাক্ষাৎ না করেন-- এমনকি, জুম'আ জামা'আতেও নয় । অবশ্য যদি মানুষ সাক্ষাৎ পরিত্যাগ ও সম্পূর্ণ নির্জনতা অবলম্বন লাভজনক বিবেচিত হয়।


এ ব্যবস্থাটি (অর্থাৎ সম্পূর্ণ নির্জনতা ও নিঃসঙ্গ জীবন যাপনের জন্য জামা'আত, জুমা পরিত্যাগ করা) দুইভাবে কার্যকরী করা যেতে পারে। প্রথমত, এমন কোন জায়গায় চলে যেতে হবে, যেখানে উক্ত আহকামগুলো আদৌ ফরয হবে না। যেমন, কোন নির্জন পাহাড়ের চূড়া-- যেখানে কোন জনবসতি নেই। ইবাদত গোয়ার ব্যক্তিগণ মানুষ ও অন্যান্য মলূক থেকে দূরে থাকার জন্য এ উপায়টিই বেশি অবলম্বন করে থাকেন-- এটা অধিক কার্যকরী ও হয়।


দ্বিতীয়ত, যদি সত্যিকারভাবে জানতে পারা যায় যে, উক্ত আহকামগুলো আদায় করতে গিয়ে মানুষের সাথে মেলামেশার ফলে যে ক্ষতি সাধিত হবে, তা আহকামগুলো পরিত্যাগ করার চাইতে মারাত্মক– তাহলে তাঁর পক্ষে আহকামগুলো পরিত্যাগ করার একটি কৈফিয়ত পাওয়া যেতে পারে।


আমি স্বয়ং মক্কায় কতিপয় এমন ব্যক্তিকে দেখেছি যারা বায়তুল্লাহর নিকট অবস্থান করা সত্ত্বেও এবং সুস্থ শরীরে থাকা অবস্থায়ও জামা'আতে হাযির হতেন না। এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে আমার মনে সন্দেহের উদয় হলে আমি একদিন তাদের একজনের নিকট বিষয়টি প্রকাশ করলাম। তখন তিনি সে ওজরই জানালেন, যা আমি এই মাত্র বলে এসেছি (অর্থাৎ যদি সত্যিকারভাবে কেউ উপলব্ধি করতে পারেন যে, জামা'আত পরিত্যাগ করার চাইতে তাতে যোগদানের ফলে মানুষের সাথে মেলামেশায় অধিক ক্ষতি হবে।)


একথার পরিষ্কার অর্থ এই যে, যদি সত্যিকারভাবে বুঝতে পারা যায় যে, মসজিদে জামা'আতে হাযির হওয়ার অর্জিত সওয়াবের দ্বারা মসজিদে যেতে ও মানুষের সাথে মেলামেশার ফলে যে গুনাহ্ হবে তার ক্ষতিপূরণ হবে না।


আমি বলছি, এসব ব্যাপারে অপারগের জন্য কোন বাধ্যবাধকতা নেই। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা মানুষের অপারগতা সম্পর্কে খুবই ওয়াকিফহাল। তিনি মানুষের অন্তঃকরণের খবর সবচাইতে বেশী জানেন। মোটকথা, জুম'আ ও জামা'আতে মানুষের সাথে মেলামেশা করবে। তবে নির্জনতা অবলম্বনের সুষ্ঠু উপায় হল মানুষ ও মকলুকাত থেকে দূরে কোথাও গিয়ে অবস্থান করা- যাতে - কোন প্রকারেই এ সবের ঝঞ্ঝাটে পড়তে না হয়। যেখানে গেলে জুম'আ· জামা'আত - এ সব দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনই না হয়, তেমন জায়গায়ই চলে যাওয়া উচিত।

কেননা কোন শহরে বা জনসমাজে অবস্থান এবং সকলের মধ্য থেকে কোন ওজরের ভিত্তিতে জুম'আ ও জামা'আতে হাযির না হওয়ার যে (অধিকতর ক্ষতির আশঙ্কায়) অবস্থাটি বর্ণিত হলো, তা উপলব্ধি করা কঠিন কাজ। কারণ এ বিষয়টি উপলব্ধি করার জন্য সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টিক্ষমতা ও অন্য ধরনের উপলব্ধি শক্তির প্রয়োজন। তা না হলে তার উপর থেকে উক্ত আহকামের বাধ্যবাধকতা দূর হলো কিনা, তা সঠিকভাবে বুঝতেই পারবে না। তাছাড়া, এ ক্ষেত্রে ভ্রান্তি ও কু-ধারণা সৃষ্টির আশঙ্কাও বিদ্যমান। প্রথম দু'টি পন্থাই বরং নিরাপদ ও সহজ।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...