শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৪

রোগ-শোক ও ধৈর্য-সহ্য


রোগ-শোক ও ধৈর্য-সহ্য
📚মুকাশাফাতুল-কুলুব ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)


আখেরাতের জীবনে আল্লাহ্ তা'আলার আযাব ও গজব হতে যে ব্যক্তি বাঁচতে চায়, আল্লাহ্ তা'আলার রহমত ও অনুগ্রহপ্রাপ্তির যে ব্যক্তি অস্তরে আশা পোষণ করে এবং যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে আগ্রহী-অনুরাগী, তার কর্তব্য হলো— দুনিয়ার লোভ-লালসা ও প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা হতে নিজেকে সংযত করতে হবে, দুঃখ-কষ্ট, রোগ-শোক ও আপদ-বিপদে ধৈর্যধারণ করতে হবে। 
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন "আল্লাহ্ তা'আলা ছবরকারীদের ভালবাসেন।"


ছবর বা ধৈর্য চার প্রকারে বিভক্ত।
(১) আল্লাহ কর্তৃক ফরযকৃত ইবাদতসমূহ সমাধা করার ব্যাপারে ছবর করা ।
(২) আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক নিষিদ্ধ কাজ হতে বিরত থাকার ব্যাপারে ছবর করা।
(৩) দুঃখ–দৈন্য ও বিপদ-আপদে ছবর করা।
(৪) কোন মুসীবতে পতিত হওয়ার অব্যবহিত পর প্রথম অন্তর্জালার মুহূর্তেই ছবর করা।


যে ব্যক্তি আল্লাহ্'র ইবাদত ও ফরয কার্য সমাধা করার ব্যাপারে ছবর করবে, ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা তাকে তিনশত গুণ মর্যাদা দান করবেন। প্রত্যেক মর্যাদার মধ্যবর্তী ব্যবধান হবে আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। অনুরূপ, যে ব্যক্তি নিষিদ্ধ কাজ হতে বিরত থাকার ব্যাপারে ধৈর্যধারণ করবে, তাকে আল্লাহ্ তা'আলা ক্বিয়ামতের দিন ছয়শত গুণ মর্যাদা দান করবেন। প্রত্যেক মর্যাদার মধ্যবর্তী ব্যবধান হবে সপ্তম আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। এমনিভাবে যে ব্যক্তি মুসীবতে ধৈর্যধারণ করবে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা তাকে সাতশত গুণ মর্যাদা দান করবেন। প্রত্যেক মর্যাদার মধ্যবর্তী দূরত্ব হবে আরশ থেকে ভূগর্ভের (যমীনের সর্বনিম্ন সপ্তম তবকের) নীচ পর্যন্ত দূরত্বের সমান।


হুযুর আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন "আল্লাহ্ পাক বলেন,- কোন বান্দা মুসীবতে পতিত হওয়ার পর যদি একমাত্র আমারই উপর ভরসা করে এবং আমার প্রতি আনুগত্য সহকারে দৃঢ় পদ থাকে, তাহলে আমার কাছে প্রার্থনা করার পূর্বেই আমি তার মনোবাঞ্ছা পুরণ করি। পক্ষান্তরে যদি সে আমাকে উপেক্ষা করে কোন মাখলুকের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে, তাহলে আমি তার জন্য আসমানের দরজা (সাহায্য) বন্ধ করে দিই।"


অতএব, সত্যিকার জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় হলো— আপদ-বিপদে, দুঃখ-দৈন্যে ধৈর্যধারণ করা; এ ব্যাপারে কোনরূপ অভিযোগ উত্থাপন না করা। তাহলেই দুনিয়া ও আখেরাতের কঠিন শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া সম্ভব হবে। প্রণিধানযোগ্য যে, আম্বিয়া কেরাম ও আউলিয়া-বুযুর্গানকে সর্বাধিক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে।


হযরত জুনাইদ বাগদাদী (রহঃ) বলেন : 'দুঃখ-দৈন্য ও আপদ-বিপদ হচ্ছে খোদা প্রেমিকের জন্য মশালস্বরূপ, ধর্মপথে বিচরণকারীর জন্য চেতনাবর্দ্ধক, মুমিনের জন্য সংশোধনকারী এবং উদাসীন ও গাফেলের জন্য ধ্বংসের উপকরণ।" 


বস্তুতঃ ঈমানের প্রকৃত স্বাদ উপলব্ধি করতে হলে আপদে-বিপদে ধৈর্যধারণ করতে হবে; আল্লাহ্ তা'আলার প্রতি সর্বান্তকরণে সন্তুষ্টির পরিচয় দিতে হবে। হুযুর আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন- "যে ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সাথে একটি রাত্র অতিবাহিত করবে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে সদ্যপ্রসুত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ করে দিবেন। সুতরাং রোগাক্রান্ত হলেই রোগমুক্তির জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে যেয়ো না।


"হযরত যাহ্হাক (র.) বলেন : "অন্ততঃ চল্লিশ দিনে একবার আপদ বিপদ বা দুঃখ-কষ্টে পতিত না হলে কি করে তুমি আল্লাহ্'র কাছে দয়া ও রহমতের আশা করতে পার ?”
হযরত মু'আয ইবনে জাবাল (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ‘আল্লাহ্ তা'আলা যখন কোন বান্দাকে রোগাক্রান্ত করেন, তখন বাম কাঁধের ফেরেশতাদেরকে তার পাপরাশি লিপিবদ্ধ করতে নিষেধ করে দেন এবং ডান কাধের ফেরেশতাদেরকে এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করেন যে, এই অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ অবস্থায় যেসব ইবাদত ও নেক আমল করতে সক্ষম ছিল, তার আমলনামায় সেগুলোর সওয়াব লিপিবদ্ধ করতে থাক।


”হযরত নবী করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : "যখন কোন বান্দা অসুস্থ হয়, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তার নিকট দুইজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন এবং তাদেরকে এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করেন যে, আমার এই বান্দা কি আমল করে, তা তোমরা লক্ষ্য কর। অসুস্থ বান্দা যদি আল্লাহ্ তা'আলার প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাহলে ফেরেশ্তাগণ বান্দার এই গুণকীর্তন আল্লাহ্'র দরবারে পেশ করে। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন- উক্ত বান্দার আমার উপর হক ও প্রাপ্য সাব্যস্ত হয়ে গেছে; সুতরাং আমি যদি এই পীড়িতাবস্থায় তাকে মৃত্যু দান করি, তা'হলে অবশ্যই তাকে জান্নাত দিবো। আর যদি রোগ হতে মুক্তি দান করি, তাহলে তার স্বাস্থ্য, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, মাংসপেশী ও রক্ত প্রবাহ পুর্বের চাইতে আরও উন্নততর করে দিবো এবং সেইসঙ্গে তার সমুদয় গুণাহ্ মাফ করে দিবো।"
বনী ইসরাঈল গোত্রে জনৈক ভবঘুরে ও লম্পট লোক ছিল। বিভিন্ন ধরনের গর্হিত কাজে সে লিপ্ত থাকতো। নগরবাসীর বহু চেষ্টাও তার কোন প্রকার সংশোধন করতে পারে নাই। অবশেষে অতিষ্ঠ হয়ে সকলেই আল্লাহ্'র দরবারে তার কদর্যতা হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য কায়মনোবাক্যে মুনাজাত করলো। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা তাদের দো'আ কবুল করে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের নিকট ওহী পাঠালেন' "হে মুসা ! বনী ইসরাঈল গোত্রে একজন ভণ্ড যুবক আছে, তাকে শহর হতে বহিষ্কার করে দাও, যাতে শুধুমাত্র এক ব্যক্তির পাপের কারণে সমগ্র নগরবাসীর উপর আমার গযব নাযিল না হয়।" 
হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ্'র নির্দেশ অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করে দিলেন। কিন্তু সেই যুবক শহর হতে বহিষ্কৃত হয়ে পার্শ্ববর্তী অপর এক বস্তিতে আশ্রয় গ্রহণ করে। আল্লাহ্ তা'আলা হযরত মূসা আলাইহিস সালামের নিকট পুনরায় ওহী পাঠিয়ে তাকে সেখান থেকেও বহিষ্কার করার নির্দেশ দিলেন। হযরত মুসা (আ.) তাই করলেন। অবশেষে লোকটি এক নির্জন প্রান্তরে গিয়ে আশ্রয় নিলো। যেখানে মানুষ বা পশুপক্ষী এমনকি তরুলতা বলতে কিছুই ছিল না।  


পরবর্তী এক পর্যায়ে লোকটি সেখানে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এহেন অসহায় অবস্থায় তার পার্শ্বে সাহায্যকারী বলতে কেউ ছিল না। এই করুণ অবস্থায় সে ভুলুণ্ঠিত হয়ে মাটির উপর মাথা রেখে বারবার বলছিল 'হায় ! আজকে যদি আমার মা আমার কাছে থাকতেন, তাহলে তিনি আমার দুঃখে দুঃখিতা হতেন, আমার সেবা-শুশ্রুষা করতেন, মায়া-মহব্বত করতেন, আমার জন্য নয়ন সিক্ত করে রোদন করতেন। হায় ! আজকে যদি আমার পিতা কাছে থাকতেন, তাহলে তিনি আমার সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। হায় ! যদি আমার স্ত্রী পার্শ্বে থাকতো, তাহলে সে আমার দুঃখে ক্রন্দন করতো। হায় ! যদি আমার সন্তান-সন্ততি এখানে থাকতো, তাহলে তারা আমার মৃতদেহের পার্শ্বে বসে কান্নাকাটি করতো আর বলতো,


– হে আল্লাহ্ ! আমাদের প্রবাসী পিতাকে তুমি ক্ষমা করে দাও, তিনি অসহায় দুর্বল, তোমার না-ফরমান, অবাধ্য ও স্বেচ্ছাচারী; লোকেরা তাকে শহর থেকে বস্তিতে বের করে দিয়েছে, পুনরায় তাকে বস্তি থেকে বিজন প্রান্তরে বহিষ্কার করেছে; আর আজকে তিনি ইহকালের এই বিজন ভূমি থেকে পরকালের পথে চিরবিদায় গ্রহণ করছেন, সবকিছু থেকে তিনি নিরাশ ও বঞ্চিত হয়ে একমাত্র আপনার পানে রওয়ানা হচ্ছেন। আয় আল্লাহ ! আপনি আমাকে আমার পিতা-মাতা, সপ্তান-সন্ততি ও স্ত্রী থেকে সুদূর প্রান্তরে নিক্ষেপ করেছেন, জীবনের এই করুণ মুহূর্তে দয়া করে আমাকে আপনার রহমত ও করুণা থেকে চিরবঞ্চিত করবেন না। তাদের বিচ্ছেদে আপনি আমার অন্তর দগ্ধীভূত করেছেন, মেহেরবানী করে আমার পাপরাশির কারণে আমাকে দোযখের অগ্নিতে দগ্ধীভূত করবেন না।'
লোকটির এই করুণ আর্তনাদ আল্লাহ্'র দরবারে কবুল হলো। তার স্ত্রী ও মা'র আকৃতি দিয়ে দু'জন হুর, সন্তান-সন্ততির আকৃতি দিয়ে জান্নাতের কয়েকজন শিশু-কিশোর এবং পিতার আকৃতি দিয়ে একজন ফেরেশতা পাঠিয়ে দিলেন। তারা সকলেই লোকটির পার্শ্বে বসে ক্রন্দন করতে লাগলো। এভাবে সকলের উপস্থিতিতে সে আনন্দচিত্তে আল্লাহর সাথে মিলিত হয় এবং আল্লাহ্ পাক তার সমস্ত গুনাহ্ মাফ করে দেন। এভাবে সম্পূর্ণ পবিত্র হয়ে সে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়।


অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা হযরত মুসা (আ.) -এর নিকট ওহী পাঠালেন'হে মূসা ! তুমি অমুক বিজন প্রান্তরে গিয়ে দেখ, আমার এক প্রিয় বান্দার ইনতিকাল হয়েছে, তুমি তার কাফন-দাফনের ব্যবস্থা কর। আল্লাহ্'র হুকুম অনুসারে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তথায় গিয়ে সে যুবকটিকেই দেখলেন, যাকে তিনি ইতিপূর্বে আল্লাহ্'র হুকুমে শহর থেকে বস্তিতে আবার বস্তি থেকে বিজন ভূমিতে বিতাড়িত করেছিলেন। তিনি আরও দেখলেন যে, লোকটির আশেপাশে বেহেশতের হুর-পরীগণ তাকে বেষ্টন করে বসে আছে। এতদ্দর্শনে হযরত মূসা (আ.) আল্লাহ্'র নিকট আরয করলেন "হে মহান প্রভু ! এই লোকটি তো সে-ই যাকে আমি আপনার হুকুমে শহর ও বস্তি থেকে বহিষ্কার করেছি।" 


আল্লাহ্ তা'আলা বললেন, "হে মুসা ! আমি তার প্রতি দয়া ও রহমত নাযিল করেছি এবং তার যাবতীয় পাপকার্য ক্ষমা করে দিয়েছি। কারণ, সে এই বিজন প্রান্তরে স্বীয় জন্মভূমি, পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অসহায় অবস্থায় কান্নাকাটি করেছে। আমি তার মা'র দেহাবয়বে বেহেশতের হুর, তার পিতার সাদৃশ্যে বেহেশতের ফেরেশতা এবং তার স্ত্রীর আকৃতিতে অপর একজন হুর পাঠিয়ে দিয়েছি। এরা সকলেই আমার কাছে তার এই দুঃখ-যাতনায় ভরপুর মুসাফেরী অবস্থার প্রতি রহম ও করুণার জন্য প্রার্থনা করেছে। একজন আশ্রয়হীন মুসাফির যখন মারা যায়, তখন আসমান ও যমীনের সমগ্র মখলুক তার প্রতি দয়া ও রহমত বর্ষণের জন্য আল্লাহ্'র কাছে প্রার্থনা করতে থাকে; সুতরাং এ অবস্থায় আমি কি তার প্রতি দয়া ও করুণা প্রদর্শন করবো না ? অথচ আমিই একমাত্র অনস্ত মেহেরবান ও অসীম দয়ালু।"


কোন মুসাফির যখন অস্তিম সময়ে উপনীত হয়, তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলেন : "ওহে আমার ফেরেশতাগণ। লোকটি স্বদেশত্যাগী মুসাফির, স্বীয় পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি, পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজন থেকে বহুদুরে অবস্থানরত ৷ মৃত্যুর পর তার জন্য ক্রন্দনকারী অথবা শোক বা দুঃখ প্রকাশকারী কেউ নাই।" একথা বলে আল্লাহ্ তা'আলা তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও আত্মীয়-স্বজনের আকৃতি ও দেহাবয়বে কয়েকজন ফেরেশতা পাঠিয়ে দেন। তারা সেই মুসাফির ব্যক্তির শিয়রপার্শ্বে উপবেশন করলে, সে চক্ষু উম্মিলন করে তাদেরকে প্রত্যক্ষ করে এবং অপার্থিব আনন্দ উপভোগ করে। অতঃপর এই উৎফুল্ল অবস্থাতেই সে ইহজগত ত্যাগ করে। তারপর যখন এ ব্যক্তির জানাযা উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন ফেরেশতাগণও তার সঙ্গে থাকেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত সেই ব্যক্তির কবরের পার্শ্ব বসে তার মাগফেরাত ও উচ্চ মর্যাদার জন্য আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করতে থাকেন। আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন : "আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়ালু।” ( শূরা : ১৯ ) 


হযরত ইব্‌নে আত্তার (রহঃ) বলেন : 'তুমি যদি কোন বান্দার অস্তকরণের সত্যাসত্য ও প্রকৃত অবস্থা যাচাই করতে চাও, তাহলে তার সুখ-স্বাচ্ছন্দ ও দুঃখ-কষ্ট উভয় অবস্থার কার্যকলাপের প্রতি লক্ষ্য কর। যদি সে কেবল সুখ-স্বাচ্ছন্দের সময়েই আল্লাহর শোকর আদায় করে, অথচ দুঃখ-কষ্টের সময় হা-হুতাশ করে, তাহলে বুঝতে হবে সে মিথ্যুক ও প্রতারক। 


বস্তুতঃ কোন ব্যক্তি যদি সমগ্র জ্বিন ও মানবের সাকুল্য জ্ঞানের অধিকারী হয়, অতঃপর কোন দুর্ভোগে পতিত হওয়ার পর কোনরূপ শেকায়াত বা অভিযোগ উত্থাপন করে, তাহলে এ কথা নিশ্চিত যে, তার সমস্ত ইলম ও জ্ঞানচর্চা সম্পূর্ণ বৃথা এবং সমগ্র আমল ও ইবাদত একেবারে নিষ্ফল।
হাদীসে কুদসীতে আছে, আল্লাহ্ পাক বলেন "যে ব্যক্তি আমার (নির্ধারিত) তাকদীরের প্রতি অসন্তুষ্ট এবং আমার দান ও নে‘আমতে অকৃতজ্ঞ, সে যেন আমাকে ছাড়া অন্য কোন রব তালাশ করে নেয়।”
হযরত ওয়াহ্ব ইব্‌নে মুনাব্বিহ (রহঃ) বলেন : "একজন নবী দীর্ঘ পঞ্চাশ বৎসরকাল আল্লাহ্ তা'আলার ইবাদতে মগ্ন ছিলেন। 


আল্লাহ্ আলা ওহীর মাধ্যমে জানালেন যে, "আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।" 
নবী বললেন : "ইয়া আল্লাহ্ ! আপনি আমার কোন্ বিষয় ক্ষমা করলেন; আমি তো জীবনে কোন গুনাহ্-ই করি নাই"। 


অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা নবীর একটি শিরাকে আদেশ করলেন। ফলে, সেই শিরাতে অসহনীয় বিষ-বেদনা আরস্ত হয়ে গেল এবং বিষম যন্ত্রণায় নবী সারারাত্রি ঘুমাতে পারলেন না। সকাল বেলা আল্লাহ্ তা'আলা ফেরেশতা পাঠালেন। 
ফেরেশতা বললেন : "আপনার মহান প্রভু আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন, — "তোমার দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের ইবাদত আমার দেওয়া একটা সামান্য সুস্থ শিরা'র নে‘আমতের সমান নয়।"


পরবর্তী পর্ব
আধ্যাত্মিক সাধনা ও রিপুর তাড়না
x

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...