শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৪

আধ্যাত্মিক সাধনা ও রিপুর তাড়না



আধ্যাত্মিক সাধনা ও রিপুর তাড়না

📚মুকাশাফাতুল-কুলুব ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

আল্লাহ্ তা'আলা হযরত মূসা আলাইহিস সালামের নিকট ওহী পাঠিয়ে ছিলেন "হে মুসা ! তোমার কথা তোমার জিহ্বার যতটুকু নিকটবর্তী, অনুরূপ তোমার হৃদস্পন্দন তোমার হৃদয়ের, তোমার রূহ তোমার দেহের, তোমার দৃষ্টিশক্তি তোমার চোখের, তোমার শ্রবণশক্তি তোমার কানের যতটুকু নিকটবর্তী, সেই তুলনায় তুমি যদি চাও - আমি (আল্লাহ) তোমার আরও অধিকতর নিকটবর্তী হই, তা'হলে তুমি আমার হাবীব হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর অধিক পরিমাণে দরূদ পাঠ কর"। 
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন – "প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামী কালের জন্য সে কি প্রেরণ করে, তা চিন্তা করা।" (হাশর : ১৮) 
"হে মানব ! ক্বিয়ামতের দিন জবাবদেহী করার জন্য তুমি কি আমল করেছো? এ কথা সর্বদা স্মরণ রেখো যে, তোমার নফস বা রিপুই হচ্ছে তোমার সবচেয়ে বড় দুশমন। এমনকি শয়তানের চেয়েও সে তোমার জন্য অধিকতর জঘন্য ও মারাত্মক। কারণ, খোদ শয়তানও প্রকৃতপক্ষে তোমার রিপুর তাড়না ও কামনা-বাসনা থেকেই শক্তি যুগিয়ে থাকে। তারপর সে তোমাকে ধোকা–প্রতারণার জালে আবদ্ধ করে তোমার ক্ষতি সাধনে সমর্থ হয়। 
অতএব এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন কর। প্রবৃত্তির তাড়নায় অহেতুক কামনা-বাসনা ও আকাংখা-অভিলাষের মাধ্যমে নিজকে শয়তানের প্রবঞ্চনার শিকারে পরিণত করো না। নফস বা কুপ্রবৃত্তি সবসময়ই উদাসীন ও অচেতন থাকতে চায়। বস্তুতঃ এটা তার মজ্জাগত স্বভাব, এজন্যে তার সকল দাবীই মিথ্যা। সুতরাং তাকে কোন ব্যাপারেই বিশ্বাস করো না, তার সাথে আপোষ করো না। নফসের ধোকায় প্রতারিত হয়ে যদি কোন বিষয়ের প্রতি তুমি আকৃষ্ট হয়ে পড়, তা'হলে এ কথা সত্য জেনে রাখ যে, এই নফস তোমাকে পরিণামে জাহান্নামে পৌঁছিয়ে ছাড়বে। বস্তুতঃ নফস থেকে কোনই কল্যাণের আশা করা যায় না; এই নফসই হচ্ছে সকল অনিষ্টের মূল, সকল আপদ ও লাঞ্ছনার হেতু, অভিশপ্ত ইবলীসের আসল সম্পদ ও হাতিয়ার, সকল অহিতকর কর্মকাণ্ডের শিকড়। আল্লাহ্ ছাড়া এর প্রকৃত রহস্য ও হাকীকত অনুধাবন করা অন্য কারও পক্ষে সম্ভব নয়। অতএব, সদাসর্বদা এক আল্লাহ্'র ভয় অন্তরে জাগরুক করে রাখ। তিনি সর্বজ্ঞ; আমলের ভালমন্দ সবকিছু সম্পর্কে তিনি সম্যক পরিজ্ঞাত। আখেরাতের জীবনকে সুন্দর সফল ও উন্নততর করার জন্য বান্দা যখন স্বীয় অতীত জীবনের কৃতকর্মের প্রতি চিন্তানিবেশ করে, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তার অস্তকরণকে স্বচ্ছ–পরিচ্ছন্ন করে দেন। 
হুযুর আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন "এক মুহূর্তকালের ধ্যানমগ্নতা বছরকালের ইবাদত অপেক্ষা উত্তম।" 
হযরত আবুল-লাইস (রহঃ) কর্তৃক বিশ্লেষিত তফসীর থেকে উক্তরূপ ব্যাখ্যা বোধগম্য হয়। সুতরাং প্রকৃত বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ লোকের কর্তব্য হচ্ছে, অতীতের সমুদয় পাপকার্য হতে সঠিক তওবা ও অনুতাপ করা। আখেরাতের জীবনে মুক্তি ও সাফল্যের বিষয়ে অগ্রগামী হওয়া, আল্লাহ্ তা'আলার সান্নিধ্যে অধিকতর নৈকট্যলাভের চিন্তা-সাধনায় মনোনিবেশ করা, অনতিবিলম্বে আল্লাহর যিক্‌রে নিমগ্ন হওয়া, সকল হারাম ও নিষিদ্ধ কার্য পরিত্যাগ করা,  প্রবৃত্তির তাড়নায় ব্যতিব্যস্ত না হয়ে ধৈর্য-সহিষ্ণুতা অবলম্বন করা, নফসানী খাহেশের অনুসরণ চিরতরে পরিহার করা। কেননা, নফস হচ্ছে মূর্তি সদৃশ; সুতরাং যে ব্যক্তি নফসের তাবেদারী করলো, প্রকারান্তরে সে মুর্তি পুঁজায় লিপ্ত হলো। আর যে ব্যক্তি নিষ্ঠা ও ইখলাসের সাথে আল্লাহ্'র ইবাদত-বন্দেগীতে মগ্ন হলো, সত্যিকার অর্থে সে-ই হলো নফসের সাথে কঠোর বিরুদ্ধাচরণকারী ও প্রকৃত সংযমী।
কথিত আছে, বিখ্যাত বুযুর্গ হযরত মালেক ইবনে দীনার (রহঃ) একদা বসরা শহরের একটি বাজার অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন, এমন সময় একটি ডুমুর ফলের প্রতি তার দৃষ্টি পতিত হয়। ফলটি দেখে তাঁর অন্তরে তা ভক্ষণ করার স্পৃহা জন্মায়। তখন তিনি স্বীয় পাদুকা খুলে বিক্রেতাকে এর বিনিময়ে ফলটি দিতে অনুরোধ করলেন। কিন্তু ফল বিক্রেতা জুতার মূল্যহীনতার কথা ব্যক্ত করে ফল বিক্রয় করতে অসম্মতি জ্ঞাপন করলো। অতঃপর মালেক ইব্‌নে দীনার আপন পথে রওয়ানা হয়ে গেলেন। এদিকে অপর একজন লোক এসে বিক্রেতাকে বললো আপনি কি জানেন, তিনি কে ? তিনিই মালেক ইবনে দীনার। দেশের সুবিখ্যাত বুযুর্গের নাম শুনে লোকটি অত্যন্ত আক্ষেপ করতে লাগলো এবং কৃতদাসের মাথায় ডুমুর বোঝাই একটি টুকরী দিয়ে বললো, - "যাও, যদি ইবনে দীনার এ সবগুলো ফল গ্রহণ করে নেন, তাহলে তুমি আযাদ গোলামীর শৃংখল থেকে তুমি আজ হতে মুক্ত।" গোলাম ছুটে গেল এবং ইব্‌নে দীনারকে অনুরোধ করতে লাগলো। কিন্তু ইব্‌নে দীনার ফল গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন। গোলাম পুনরায় অনুরোধ করে বললো, - "আপনি যদি এগুলো কবুল করে নেন, তাহলে আমি গোলামীর শৃংখল থেকে মুক্তিলাভ করতে পারি।" ইবনে দীনার (রহঃ) এতদসত্ত্বেও অসম্মতি জানিয়ে বললেন আমার গ্রহণ করাটা যদিও তোমার জন্য মুক্তির কারণ; কিন্তু আমার জন্য তা 'শাস্তির কারণ'। গোলাম অতঃপর বারবার অনুরোধ করলে তিনি বললেন, "আমি কসম খেয়ে নিয়েছি যে, ডুমুরের বিনিময়ে আমি আমার ঈমানকে বিক্রি করবো না এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত কোনদিন ডুমুর খাবো না।" - হযরত মালেক ইব্‌নে দীনার (রহঃ) অস্তিমকালীন অসুস্থতার সময় একবার দুধ ও মধু মিশ্রিত গরম রুটির সরীদ (সুস্বাদু খাদ্য) খাওয়ার আকাংখা প্রকাশ করেছিলেন। খাদেম যথাসময়ে সরীদ এনে হাজির করার পর কিছুক্ষণ তিনি সরীদের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তাকিয়ে রইলেন, অতঃপর বললেন, -“হে নফস ! তুমি দীর্ঘ ত্রিশ বৎসর ধরে কৃচ্ছ-সাধনায় ধৈর্যধারণ করে আসছো, এখন এই অস্তিম অবস্থায় যখন তোমার মৃত্যুর মাত্র মুহূর্তকাল বাকী আছে" এতটুকু বলে তিনি সরীদের পাত্র হাত থেকে রেখে দিলেন এবং তৎক্ষণাৎ মৃত্যুবরণ করলেন। বস্তুতঃ আম্বিয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালাম, আওলিয়া, সাধক, আল্লাহর প্রেমিক ও দুনিয়াত্যাগী বুযুর্গগণের হৃদয়ের অবস্থাই ছিল এরূপ; তারা পারলৌকিক সুখ-শাস্তির তুলনায় নশ্বর পৃথিবীর সবকিছুকে তুচ্ছাতিতুচ্ছ জ্ঞান করতেন।
হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম বলেছেন, - “যে ব্যক্তি স্বীয় প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে, সে দিগ্বিজয়ী সেনাপতির চাইতেও বড় বাহাদুর।"হযরত আলী (র.) বলেন, - "আমার এবং আমার নফসের উপমা হচ্ছে রাখাল ও ছাগলের পালের ন্যায়; একদিক থেকে একত্রিত সুশৃংখল করে আনে, অপরদিকে সব ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়।" বস্তুতঃ 'যে নিজের নফসকে হত্যা করতে পেরেছে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে রহমতের কাফন পরিয়ে ইয্যতের মাটিতে দাফন করবেন। আর যে ব্যক্তি নিজের আত্মাকে অকেজো করে রেখেছে, তাকে অভিশাপের কাফন পরানো হবে এবং আযাবের মাটিতে দাফন করা হবে।'
ইয়াহয়া ইব্‌নে মু'আয (রহঃ) বলেন : "ইবাদত ও আধ্যাত্ম্য সাধনার মাধ্যমে স্বীয় প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ কর।" আধ্যাত্ম্য সাধনা হচ্ছে, নিদ্রা ও খাদ্যের পরিমাণ হ্রাস করা, অধিক কষ্ট সহ্য করা, মুসীবতে ধৈর্যধারণ করা, উৎপীড়নে অধৈর্য হয়ে প্রতিশোধ গ্রহণে উদ্যত না হওয়া। 
জেনে রাখ– নিদ্রার স্বল্পতা তোমার অন্তরে নূর সৃষ্টি করবে, তোমার চিন্তাশক্তিতে স্বচ্ছতা আনয়ন করবে। আহারের স্বল্পতা তোমাকে নানাবিধ আপদ থেকে রক্ষা করবে। দুঃখ-কষ্ট ও উৎপীড়নে ধৈর্যধারণ তোমাকে ইন্সীত লক্ষ্যে পৌছাবে। 
পক্ষান্তরে অধিক ভোজন হৃদয়কে কঠিন করে তোলে, অস্তকরণকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে দেয়। বস্তুতঃ ক্ষুধা ও ক্ষুৎপিপাসা মানবহৃদয়ে হিকমত ও তত্ত্বজ্ঞানের তীক্ষ্ণতা আনয়ন করে। আর পরিতৃপ্ত ভোজন মানুষকে আল্লাহ্ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। 
হযরত রাসূলে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ "জঠরজ্বালার মাধ্যমে তুমি তোমার অস্তকরণকে জ্যোতির্ময় করে তোল, ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অস্ত্রের দ্বারা তুমি তোমার রিপুর বিরুদ্ধে জিহাদে প্রবৃত্ত হও। ক্ষুধার সাহায্যে তুমি সদা বেহেশতের দরজায় কষাঘাত করতে থাক। কেননা এতে তোমার আমলনামায় জিহাদের সওয়াব লিপিবদ্ধ হবে।" 
বস্তুতঃ ক্ষুধা ও তৃষ্ণার চাইতে অধিক প্রিয় আল্লাহ্'র কাছে আর কিছু নাই। যে ব্যক্তি অধিক ভোজন করেছে, সে আসমানের মালাকুতী জগতে প্রবেশ করতে পারবে না; ইবাদতে আস্বাদ গ্রহণ থেকেও সে বঞ্চিত হবে। 

হযরত আবু বকর (র) বলেছেনঃ "আমি ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পর উদরপূর্তি করে কোনদিন আহার করি নাই। কারণ এতে ইবাদতের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হতে হয়। অনুরূপ আমি কোনদিন তৃষ্ণা মিটিয়ে পানিও পান করি নাই। কেননা আমার অন্তরে খোদার দীদারের তীব্র আকাংখা রয়েছে"। এতদ্ব্যতীত অধিক ভোজন ইবাদতকার্যে শৈথিল্য ও স্বল্পতা আনয়ন করে। অতিরিক্ত আহারের কারণে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভারী হয়ে যায়, নিদ্রার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং গোটা দেহ অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ফলে, মানুষ নিতান্ত নিষ্কর্মা হয়ে যায়।

বস্তুতঃ মানুষ যদি অতিরিক্ত ঘুমে অভিভুত হয়ে জীবন কাটিয়ে দেয়, তাহলে এটা নিজকে মৃতদেহে পরিণত করার নামান্তর।

হযরত লুকমান হাকীম (আ.) স্বীয় পুত্রকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিলেন, - "অধিক মাত্রায় নিদ্রা ও ভোজন থেকে নিজকে বিরত রাখ। কেননা অধিক নিদ্রাযাপনকারী ও অধিক ভোজনকারী ক্বিয়ামতের দিন আমল ও ইবাদতশূন্য হবে।
”হুযূর আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন "অধিক পানাহার করে আত্মাকে নিধন করো না। কেননা অধিক বৃষ্টির কারণে যমীনের ফসল যেমন বিনষ্ট হয়ে যায়,  তেমনি অধিক পানাহারে তোমার আত্মাও মরে যাবে।"
জনৈক বুযুর্গ বিষয়টি একটি উদাহরণ দ্বারা আরও স্পষ্ট করে বুঝিয়েছেন, – ‘মানুষের পাকস্থলী হচ্ছে ডেগচি বা রন্ধনপাত্র সদৃশ, এর উপরে রয়েছে আত্মা। পাকস্থলীরূপ ডেগচি হতে বাষ্প নির্গত হয়ে আত্মা পর্যন্ত পৌঁছে। অধিক ভোজনের ফলে যদি এই বাষ্প অধিক মাত্রায় নির্গত হয়, তা'হলে অবশ্যই তা আত্মাকে কলুষিত করে। বস্তুতঃ অধিক ভোজনে জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পেয়ে যায়, মেধার প্রখরতা বিনষ্ট হয়, স্মরণশক্তি বিলুপ্ত হয়।
একদা হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালামের সাথে অভিশপ্ত ইবলীসের দেখা হয়। ইবলীসের হস্তস্থিত একটি বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহ্'র নবী জিজ্ঞাসা করলেন'এটা কি তোমার হাতে ? ইবলীস বললো,- এটা শাওয়াত বা প্রবৃত্তির তাড়না; এটা দিয়ে আমি বনী আদমকে শিকার করে থাকি। 
হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম জিজ্ঞাসা করলেন, আমাকে শিকার করার জন্যেও কি তোমার কাছে কিছু আছে? ইবলীস বললো, – 'না; তবে এক রাত্রিতে আপনি পরিতৃপ্ত হয়ে ভোজন করেছিলেন, সেই সুযোগে আমি আপনাকে অবসাদগ্রস্ত করে নামায হতে উদাসীন করে দিয়েছিলাম।' হযরত ইয়াহিয়া আলাইহিস সালাম বললেন : "আজ থেকে আমি আর কোনদিন তৃপ্ত হয়ে আহার করবো না ।" ইবলীস বললো, - তাহলে আমিও আজ থেকে আর কোনদিন বনী আদমকে নসীহত করবো না।

প্রিয় সাধক চিন্তা কর, শুধুমাত্র এক রাত্রির তৃপ্ত আহারের এই পরিণাম ! আর যারা জীবনের একটি রাত্রিও ক্ষুধার্ত অবস্থায় কাটায় নাই, তাদের দ্বারা আল্লাহ্'র কি ইবাদত- হতে পারে ? 
এক রাত্রিতে হযরত ইয়াহিয়া আলাইহিস সালাম তৃপ্ত হয়ে যবের রুটি আহার করেছিলেন। ফলে, সেই রাত্রিতে তিনি আল্লাহর যিকর করতে পারেন নাই। অতঃপর তার নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী এসেছে'হে ইয়াহিয়া ! আমার বেহেশতের চাইতেও কি উত্তম কোন আবাসস্থল তুমি পেয়ে গেছ ? আমার সান্নিধ্যের চাইতেও কি উত্তম কোন সাহচর্য তুমি লাভ করেছো? তবে কেন তোমার এই অবসাদ?  আমার ইয্যত ও প্রতাপের কসম, যদি তুমি আমার তৈরী বেহেশতের প্রতি একবার দৃষ্টি কর, আর পরক্ষণে জাহান্নামের প্রতিও এক পলক তাকাও, তাহলে অবশ্যই তুমি রক্তের অশ্রুধারা প্রবাহিত করবে এবং বস্ত্রের পোষাক পরিহার করে লোহার পোষাক পরিধান করবে।" 

পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...