বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৪

দাকায়েকুল আখবার- (৩৬) ইহকালে ও পরকালে মানুষের উপর আপতিত দুঃসময়



📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ৩৬)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

ইহকালে ও পরকালে মানুষের উপর আপতিত দুঃসময়
হাদীস শরীফে আছে যে, 'জান কবজের সময় যখন মানুষের চক্ষুদ্বয় ফাটিয়া যায়, নাসিকারন্ধ্র বিস্তারিত হয়, ওষ্ঠদ্বয় লটকাইয়া যায়, গগুদ্বয় বিবর্ণ হইয়া যায়, নখগুলি সবুজ রং হয়, মুখমন্ডল ঘামে ভিজিয়া যায়, কোমল দেহ শক্ত হইয়া যায়, বাকশক্তি রুদ্ধ হইয়া আসে, বান্দা উত্তর দিতে ও কথা বলিতে অসমর্থ হয়, সে নিজের কৃত নেক-বদ ও পরিত্যক্ত ধন-সম্পদ দেখিতে থাকে এবং অতীতাবস্থা অনন্তে মিলিয়া যায়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়াগুলি শিথিল হইয়া পড়ে, সমস্ত আশা-ভরসা বিনষ্ট হয়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থানচ্যূত হয়, আত্মীয়-স্বজন কাটিয়া পড়ে, সেই সময়ের যাতনার তুল্য কষ্ট কখনও আর হয় না।' তখন সে এতই ব্যস্ত হয় যে, তাহার জ্ঞান লোপ পায়। সেই সময় ঈমান নষ্ট করিবার জন্য শয়তান চক্রান্ত করিতে থাকে। অতএব মৃত্যুর জন্য এই সময়টাই অত্যন্ত ভীতিপ্রদ হয়। তখন তাওবাহর দরজা বন্ধ হইয়া যায়। তখন কালেমা শাহাদাত পাঠ করার মত উত্তম আমল আর নাই। অধিকন্তু পরকালে যখন পুনরুত্থানের জন্য সিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হইবে, সেই সময়ও মুর্দারের জন্য অত্যন্ত ভীতিপ্রদ। তখন সকলেই নগ্নদেহে কবর হইতে উঠিবে। অত্যাচারিত ব্যক্তি অত্যাচারীকে ধরিয়া আল্লাহর নিকট উপস্থিত করিবে। সেইদিনের অবস্থা এত ভয়াবহ হইবে যে, আল্লাহ নিজে গুনাহগারদিগকে সওয়াল করিবেন এবং ফেরেশতাগণ ইহার সাক্ষ্য দিবে। অবশেষে আল্লাহ পাক বদকারদিগকে দোযখে কঠিন শাস্তির জন্য প্রেরণ করিবেন এবং নেককারদিগকে বেহেশতে অফুরন্ত সুখে বসবাস করিতে হুকুম দিবেন। সেই ভীষণাবস্থা প্রত্যক্ষ করিয়া গর্ভবতীর গর্ভ নষ্ট হইয়া যাইবে। মানুষ উন্মাদের মত বিক্ষিপ্তভাবে দৌড়াদৌড়ি করিতে থাকিবে। তাহারা এই সকল আযাবের ভয়ে চীৎকার করিবে। তখন বালক বৃদ্ধে পরিণত হইয়া যাইবে। সেইদিন সম্বন্ধে আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন, “দ্বিতীয় ফুৎকার একটি কঠিন শব্দ ছাড়া কিছুই নহে।” আরও এরশাদ হইতেছে, “সেইদিন কাফেরদিগকে দোযখের দিকে দলে দলে হাঁকাইয়া নেওয়া হইবে এবং মোত্তাকীদিগকে দলে দলে জান্নাতের দিকে পরিচালিত করা হইবে।”

হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে, রোজ হাশরে সাতটি জিনিস মানুষের স্বপক্ষে অথবা বিপক্ষে সাক্ষ্যদান করিবে। (১) স্থান-যেমন আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন, “যেদিন তাহার কর্মস্থল নেক-বদের সাক্ষ্য দান করিবে।” (২) সময়-যেমন হাদীস শরীফে আছে, “সময়ের প্রত্যহ উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা।” (৩) জিহ্বা-যেমন আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন, “যেদিন তাহাদের হস্ত-পদ ও জিহ্বা তাহাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যদান করিবে ।” (৪ ও ৫) কেরামান কাতেবীন-যেমন আল্লাহ পাক এরশাদ করিয়াছেন, “আর নিশ্চয়ই তোমাদের সহিত কেরামান কাতেবীন নামক দুইজন মর্যাদাশীল তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশ্তা রহিয়াছেন, যাহারা তোমাদের আমল সম্পর্কে পরিজ্ঞাত।” (৬) আমলনামা - যেমন আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন- “ইহাই আমাদের দপ্তর, যাহা তোমাদের সম্পর্কে যথার্থ সত্য নির্ধারণ করিয়া থাকে।” (৭) রাওহান ফেরেশ্তা-যেমন আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন, “আমি তোমাদের কৃতকর্মের সাক্ষী ছিলাম।” সুতরাং হে গুনাহগার! চিন্তা কর, তখন তোমার অবস্থা কিরূপ হইবে, যখন তাহারা তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে?

পরবর্তী পর্ব-
কিয়ামতের দিন আমলনামা উন্মুক্ত হইবার বিবরণ

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...