📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ৩৫)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
বেহেশতকে হাজির করিবার বিবরণ-
আল্লাহ পাক এরশাদ করিয়াছেন, “বেহেশতকে মোত্তাকীগণের জন্য হাজির করা হইবে এবং পথভ্রষ্টদের জন্য দোযখকে খোলা হইবে।”
হাদীস শরীফে আছে যে, “রোজ কিয়ামতে আল্লাহ পাক হযরত জিব্রাইল (আঃ) কে বলিবেন, 'হে জিব্রাইল! মোত্তাকীদের জন্য বেহেশতকে নিকটবর্তী কর এবং পথভ্রষ্টদের জন্য দোযখকে উন্মুক্ত কর।' তখন বেহেশ্তকে আরশের দক্ষিণ দিকে এবং দোযখকে উত্তর দিকে হাজির করা হইবে। তারপর দোযখের উপরে পুলছিরাতকে স্থাপন করা হইবে এবং মিজানকে খাড়া করা হইবে এবং আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম সফিউল্লাহ, ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ, মূসা কালিমুল্লাহ, ঈসা রূহুল্লাহ ও তাঁহার প্রিয় হাবীব মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে মিজানের উত্তর দিকে দাঁড়াইতে নির্দেশ দিবেন আর বেহেশতের দারোগা, রেদওয়ান (আঃ) ও দোযখের দারোগা মালেক (আঃ) কে বেহেশত ও দোযখের দ্বারগুলি উন্নমুক্ত করিতে বলিবেন। পরিশেষে রহমতের ফেরেশতাদিদকে বেহেশতি লেবাছ ও আযাবের ফেরেশতাদিগকে জিঞ্জির, তৌক ও কাত্রান বিরঞ্জিত লেবাছ লইয়া আসিতে নির্দেশ দিবেন। তখন কেহ ঘোষণা করিবে, “হে আদম সন্তান! মিজানের দিকে তাকাও, অমুকের তনয় অমুকের পাপ-নেক ওজন করা হইতেছে।" আরও ঘোষণা করা হইবে যে, “হে বেহেশ্তীগণ! চিরতরে বেহেশতে দাখিল হও এবং হে দোযখীগণ! তোমরাও চিরতরে দোযখে প্রবেশ করিয়া আযাব ভোগ করিতে থাক। তোমাদের আর মৃত্যু হইবে না।” যেমন আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন,-“ওয়া আজির হুম্ ইয়াওমাল্ হাছরাতি ইজ কাদ্বাল্ আমরু” অর্থাৎ হে মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ! মানব সম্প্রদায়কে সেই অনুশোচনার দিন সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করুন, যেদিন আল্লাহ পাক মীমাংসার নির্দেশ প্রদান করিবেন।
পরবর্তী পর্ব-
ইহকালে ও পরকালে মানুষের উপর আপতিত দুঃসময়

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন