হুযুর করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিয়াছেন যে, “আল্লাহ পাক যখন প্রাণী জগতকে প্রকত্রিত করিবে, তখন তাঁহার তরফ হইতে ঘোষণা করা হইবে যে, “হে সম্ভ্রান্তগণ! তোমরা কোথায়?” তখন এক সম্প্রদায়ের লোক দ্রুতবেগে জান্নাতের দিকে অগ্রসর হইবে। ফেরেশতাগণ জিজ্ঞাসা করিবে, “তোমরা কে? এত তাড়াতাড়ি জান্নাতের দিকে গমন করিতেছ?” তাহারা উত্তর করিবে, “আমরাই সম্ভ্রান্ত দল!”
পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হইবে, “তোমরা কিরূপে সম্ভ্রান্ত হইলে?” প্রত্যুত্তরে বলিবে, “অত্যাচারে ধৈর্যাবলম্বন করিয়া এবং অন্যায়কে মাফ করিয়া।” ফেরেশতাগণ সন্তুষ্ট হইয়া বলিবে, “নিশ্চয়ই এ ধরনের আমলকারীদের জন্যেই বেহেশত নির্ধারিত রহিয়াছে।"
তারপর ধৈর্যশীলদিগকে ডাকা হইলে একদল লোক উঠিয়াই জান্নাতের দিকে তাড়াতাড়ি অগ্রসর হইবে। ফেরেশতাগণ তাহাদিগকে প্রশ্ন করিবে, “তোমরা কে? এত দ্রুতগতিতে জান্নাতের দিকে অগ্রসর হইতেছ?” তাহারা উত্তর করিবে, “আমরাই ধৈর্যশীল।” জিজ্ঞাসা করা হইবে, “তোমরা কেমন করিয়া ধৈর্যশীল হইলে?” উত্তর করিবে, “আমরা আল্লাহ পাকের বন্দেগীতে এবং গুনাহ হইতে বাঁচিয়া থাকিতে ধৈর্যাবলম্বন করিয়াছিলাম।” অতএব তাহাদিগকে বেহেশতে গমন করিতে নির্দেশ দেওয়া হইবে।
পরিশেষে ডাকা হইবে, “হে আল্লাহর প্রেমিকগণ! তোমরা কোথায়?” তখন একদল লোক উঠিয়া তাড়াতাড়ি বেহেশতের দিকে ধাবিত হইবে। ফেরেশতারা প্রশ্ন করিবে, “তোমরা কে? এত ত্বরিতগতিতে বেহেশতের দিকে যাইতেছ?” উত্তর করিবে, “আমরা একে অন্যকে ভালবাসিয়াছি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান-সদকাহ করিয়াছি।” তখন তাহাদিগকে বেহেশতে যাওয়ার হুকুম দেওয়া হইবে।
হুযুর করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করিয়াছেন যে, “তাহারা জান্নাতে দাখেল হইবার পর নেক-বদ ওজন করিবার জন্য মিজান খাড়া করা হইবে এবং হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর ‘লেওয়ায়ে হামদ' অর্থাৎ প্রশংসার পতাকা উন্নত শিরে উড়িতে থাকিবে।” একদিন আঁ হযরত . (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে উক্ত পতাকার আকতি ও বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হইলে তিনি উত্তর করিলেন, “উহার দৈর্ঘ্য এক হাজার বৎসর পথের সমান ও প্রস্থ আকাশ পাতালের দূরত্বের সমপরিমাণ হইবে। আর উহাতে লেখা থাকিবে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।” উহার উপরের অংশ লাল ইয়াকুত এবং হাতলদন্ড সাদা রূপার ও জমরজদে তৈরী হইবে। উহাতে তিনটি নূরের গুচ্ছ থাকিবে। তন্মধ্যে একটি পূর্বদিকে একটি পশ্চিমদিকে এবং অপরটি পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করিবে। উহাতে তিনটি লাইন বা সারি লেখা থাকিবে। প্রথম সারিতে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” দ্বিতীয় সারিতে “আল্হাম্দু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন” এবং তৃতীয় সারিতে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” লেখা থাকিবে। প্রত্যেক সারি এক হাজার বৎসরের পথের সমান লম্বা হইবে। এই লেওয়ায়ে হামদের মধ্যে আরও সত্তর হাজার ঝান্ডা এবং প্রত্যেক ঝান্ডার নীচে সত্তর হাজার নিশান হইবে। প্রত্যেক সারিতে পাঁচলক্ষ ফেরেশ্তা তাসবীহ ও তাহলীল পাঠে নিমগ্ন থাকিবে। “লেওয়ায়ে হামদ বেইয়াদী” অর্থাৎ প্রশংসার পতাকা আমার হাতে থাকিবে- এই হাদীসের ব্যাখ্যা করিতে গিয়া মুহাম্মদ জোরজনী (রাঃ) বলিয়াছেন যে, “রোজ কিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত মুমিন উহার নীচে দাঁড়াইবে। সমস্ত বেঈমান দোযখের কিনারায় অবস্থান করিবে। তারপর উহা সরানো হইলে কাফেরদিগকে দোযখের দিকে হাঁকাইয়া নেওয়া হইবে।”
হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিয়াছেন, “রোজ কিয়ামতে আল্লাহ পাক সাত প্রকার লোককে আরশের নীচে জায়গা দিবেন। সেইদিন আরশের ছায়া ব্যতীত অন্য কোনও ছায়া থাকিবে না। (১) ইনসাফগার রাজা-বাদশাহ, (২) যে যুবক আল্লাহর এবাদতে আত্মনিয়োগ করিয়াছে, (৩) যাহারা আল্লাহর ওয়াস্তে একে অন্যকে মহব্বত করিয়াছে, (৪) যে পুরুষ সুন্দরী, লাবণ্যময়ী এবং কুলীন রমণীর ব্যভিচারের আহ্বানে আত্মসংযম করিয়াছে। যুবক রমণীকে বলিয়াছে, “আমি দুনিয়ার প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।" (৫) যে আত্মম্ভরিতার ভয়ে নির্জনে আল্লাহর এবাদত করিয়াছে এবং চোখের পানিতে বুক ভাসাইয়াছে, (৬) যে এমন সংগোপনে সদকাহ দান করিয়াছে যে, বামহাত অনুভব করিতে সক্ষম হয় নাই ডানহাত কি দান করিয়াছে, (৭) যাহার হৃদয় সর্বদাই মসজিদের প্রতি আকৃষ্ট রহিয়াছে।
সত্যবাদিতার ঝান্ডা হযরত আবুবকর (রাঃ) এর হস্তে থাকিবে এবং সমস্ত সত্যবাদী এর নীচে শান্তিলাভ করিবে।
ন্যায়পরায়ণতার ঝান্ডা হযরত ওমর (রাঃ)এর হস্তে থাকিবে এবং সমস্ত ন্যায়পরায়ণ বান্দা উহার নীচে আরামে থাকিবে।
দান-দক্ষিণার ঝান্ডা হযরত ওসমান (রাঃ)এর হস্তে থাকিবে এবং সমস্ত দানশীল ব্যক্তি উহার নীচে অবস্থান করিবে।
শাহাদতের ঝান্ডা হযরত আলী (রাঃ)এর হস্তে থাকিবে এবং সমুদয় শহীদ উহার ছায়ায় থাকিবে।
বিজ্ঞতার ঝান্ডা হযরত মাআজ বিন্ জাবাল (রাঃ) এর হস্তে থাকিবে এবং সমস্ত বিজ্ঞ ব্যক্তি উহার নীচে অবস্থান করিবে।
সাধুত্বের ঝান্ডা হযরত আবু যর (রাঃ) এর হস্তে থাকিবে এবং সমস্ত সাধু ব্যক্তি উহার নীচে অবস্থান করিবে।
দারিদ্র্যতার ঝাণ্ডা আবু দারদাহ (রাঃ) এর হস্তে থাকিবে এবং সমস্ত দরিদ্র ব্যক্তি উহার নীচে অবস্থান করিবে।
কেরাতের ঝান্ডা হযরত উবাই ইবনে কা'ব (রাঃ) এর হস্তে থাকবে এবং সমস্ত কারী উহার নীচে অবস্থান করিবে।
মুয়াজ্জিনের ঝান্ডা হযরত বেলাল (রাঃ) এর হস্তে থাকিবে এবং সমস্ত মুয়াজ্জিন উহার নীচে থাকিবে।
খুনের ঝান্ডা হযরত হোসাইন ইবনে আলী (রাঃ)এর হস্তে থাকিবে এবং খুন হওযা লোক উহার নীচে থাকিবে।
যেমন, আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন, “ইয়াউমা নাউ কুল্লু উনাছিন বিইমামিহিম” অর্থাৎ সেদিন আমি প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাহার সর্দারের নামে ডাকিব।
হাদীস শরীফে আরও আছে যে, রোজ কিয়ামতে যখন সমুদয় প্রাণী জগত জড়ো হইবে তখন তাহারা অতিশয় তৃষ্ণার্ত হইবে। তাহাদের শরীর হইতে অত্যদিক ঘাম বাহির হইবে এবং তাহারা অজ্ঞান হইয়া যাইবে। এমন সময় আল্লাহ পাক হযরত জিব্রাইল (আঃ)-কে বলিবেন, “হে জিব্রাইল! তুমি মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে বল, যেন তিনি স্বীয় উম্মতদিগকে সেই নামের সহিত আমার নিকট প্রার্থনা করিতে বলেন যেই নামে সঙ্কট মুহূর্তে পৃথিবীতে তাহারা আমার সমীপে দোয়া করিত।” উহা শ্রবণ করিয়া সমুদয় উম্মতে মুহাম্মদী উচ্চৈঃস্বরে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম" বলিতে থাকিবে। আর আল্লাহ পাক তৎক্ষণাতই হিসাব-নিকাশ শুরু করিবেন।
অন্যান্য নবীর উম্মতদিগকে আল্লাহ পাক বলিবেন, “যদি উম্মতে মুহাম্মদী আমার নাম না লইত, তবে হিসাব নিকাশ আরও এক হাজার বৎসর দেরী করিতাম।” আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম পশু-পাখী, হিংস্ৰ প্রাণীর বিচার শুরু করিবেন। সেখানে শিংহীন পশু শিংওয়ালা পশুর অন্যায়ের প্রতিশোধ লইবে! শেষ পর্যন্ত আল্লাহ পাকের নির্দেশে মাটি হইয়া যাইবে। তখন কাফেরগণ আক্ষেপ করিয়া বলিবে, “হায়! আমরাও যদি মাটি হইয়া যাইতাম।”
হযরত মোকাতেল (রাঃ) বলিয়াছেন যে, 'দশটি পশু বেহেশতে দাখিল হইবে। (১) হযরত সালেহ (আঃ)এর উনী, (২) হযরত ইব্রাহীম (আঃ)এর গো-শাবক, (৩) হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর দুম্বা, (৪) হযরত মূসা (আঃ)-এর গাভী, (৫) হযরত ইউনুস (আঃ)-এর মৎস, (৬) হযরত উজাইর (আঃ)-এর গর্দভ, (৭) হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর সহিত বাক্যালাপকারী পিপীলিকা, (৮) হযরত বিলকিস রানীর নিকট প্রেরিত দূত হুদহুদ পাখী, (৯) হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর হিজরতের বাহন উষ্ট্রী এবং (১০) আসহাবে কাহাফের সঙ্গী কুকুর। বর্ণিত আছে যে, ইহাকে দুম্বার আকারে বেহেশতে দাখিল করা হইবে এবং উহার নাম পরিবর্তন করিয়া 'ফারওয়ান' অথবা 'হেরমান' অথবা 'কিতুমির' রাখা হইবে। উহাকে হলুদ রঙ্গে রঞ্জিত করা হইবে।
সুতরাং চিন্তা করিয়া দেখুন, কুকুর আসহাবে কাহাফের সহিত মিলিয়া গেল কিন্তু শত প্রচেষ্টায়ও ইহাকে পৃথক করা সম্ভব হইল না। অনুরূপভাবে কোন গুনাহগার যদি দীর্ঘ পঞ্চাশ বৎসর তৌহিদের পরিমন্ডলে জীবনাতিবাহিত করে, তাহা হইলে আল্লাহ পাক তাহাকে কেমন করিয়া করুণা ও রহম হইতে দূরে রাখিবেন?
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে, রোজ কিয়ামতে উম্মতে মুহাম্মদীর একজন (দীনদার) আলেমকে হাজির করা হইলে, আল্লাহ পাক জিব্রাইল (আঃ)-কে নির্দেশ দিবেন, “হে জিব্রাইল? তাহাকে হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট লইয়া যাও।” তখন অবিলম্বে আলেমের হস্তধারণ করতঃ তিনি তাহাকে হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর সম্মুখে লইয়া যাইবেন। সেই সময় হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) পেয়ালা দ্বারা স্বীয় হস্তে উম্মতদিগকে পানি পান করাইতে থাকিবেন এবং উক্ত আলেমকে হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) নিজ অঞ্জলি ভরিয়া পানি পান করাইবেন।
তখন কেহ প্রশ্ন করিবে, 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদিগকে পেয়ালা দ্বারা পানি পান করাইলেন, কিন্তু ঐ আলেমকে অঞ্জলি ভরিয়া পানি পান করাইলেন কেন?” উত্তরে হযরত (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিবেন, কারণ পৃথিবীতে মানুষ যখন বেচা-কেনা ও দুনিয়ার কাজকর্মে নিমগ্ন ছিল, তখন আলেম সম্প্রদায় নিশ্চয়ই জ্ঞানানুশীলন ও ধর্ম চর্চায় আত্মনিয়োগ করিয়াছিল ।'
প্রখ্যাত ফেকাহবিদ হযরত আবু লাইছ সমরকন্দি (রহঃ) বলিয়াছেন যে, “আল্লাহর অলীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও আল্লাহর শত্রুদের শত্রুতা সাধনের ন্যায় উত্তম আমল আর নাই।”
হাদীস শরীফে আছে যে, একদিন হযরত মূসা (আঃ) আল্লাহর নিকট আরজ করিলে আল্লাহ তায়ালা তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন; “হে মূসা! বল, আমার জন্য তুমি কি আমল করিয়াছ?" মূসা (আঃ) উত্তর করিলেন, “হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্য নামায পড়িয়াছি, রোযা রাখিয়াছি, আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করিয়াছি, দান-সদকাহ করিয়াছি, তাসবীহ ও তাহ্লীল পাঠ করিয়াছি, আপনার যিকির করিয়াছি ও আপনার কালাম পাঠ করিয়াছি।” উত্তরে আল্লাহ পাক বলিলেন, “হে মূসা!” নামায ঈমানের চিহ্ন, রোযা তোমার জন্য ঢাল হইবে, আর দান-সদকাহ তোমার জন্য ছায়া দানকারী হইবে। তাসবীহ ও তাহলীলের বদলে তোমার জন্য জান্নাতে একটি বৃক্ষ তৈরি করা হইবে। আমার কালাম পাঠের বদলে তুমি হুর পাইবে এবং জিকিরের বিনিময়ে নূরের জ্যোতি লাভ করিবে। হে মূসা! এই সব কিছু ত কেবল নিজের জন্যই করিয়াছ, কিন্তু আমার জন্য কি করিয়াছ, বল।” মূসা প্রার্থনা করিলেন, হে আল্লাহ! বলুন, 'আপনার জন্য আমি কি আমল করিব?' আল্লাহ পাক বলিলেন, “হে মূসা! তুমি কি আমার বন্ধুদের সহিত কখনও বন্ধুত্ব করিয়াছ এবং আমার শত্রুদের সহিত শত্রুতা করিয়াছ?' ইহাতে হযরত মূসা (আঃ) অনুধাবন করিলেন যে, আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসা ও আল্লাহর শত্রুদের সঙ্গে শত্রুতা সাধনের মত উত্তম আমল আর নাই।”
তারপর আল্লাহ তায়ালা নিকটবর্তীদের হিসাব-নিকাশে মনোযোগ দিবেন। জিজ্ঞাসা করিবেন, “জালেম ও অত্যাচারীর দল কোথায়?” ফেরেশতাগণ একজন জালেমকে তাঁহার সমীপে হাজির করিবেন। আল্লাহ পাক তাহাদের নেক আমল অত্যাচারিতকে দিবেন।
সেখানে ধন-রত্নের বিনিময় চলিবে না। এইভাবে দেওয়ার ফলে যখন জালেমের কোন নেক থাকিবে না, তখন মজলুমের গুনাহ দ্বারা জালেমের আমলনামা পূর্ণ করিয়া দিবেন এবং জালেমকে হাবিয়া দোযখে প্রেরণ করিবেন। সেইদিন কাহারও উপর অণুমাত্র জুলুমও করা হইবে না। প্রকৃতই আল্লাহ পাক অতিশীঘ্র বদলা দান করিবেন। এই প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে, 'আল্লাহ পাক হযরত মূসা (আঃ)-কে অহীর মারফত জানাইয়া দিলেন, “হে মূসা! তুমি তোমার উম্মতদিগকে শুধুমাত্র একটি কাজ হইতে বাঁচিয়া থাকিতে বল। তবে আমি তাহাদিগকে বেহতে দাখিল করিব।”

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন