বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৪

দাকায়েকুল আখবার- (৩৩) সৃষ্টিজগতকে হাশরের মাঠে লইয়া যাওয়ার বিবরণ



📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ৩৩)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

সৃষ্টিজগতকে হাশরের মাঠে লইয়া যাওয়ার বিবরণ
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে, “কাফেরদিগকে পদব্রজে হাঁকাইয়া হাশর ময়দানে উঠান হইবে আর মুমিনদিগকে উৎকৃষ্ট উটের পিঠে সওয়ার করাইয়া আল্লাহ পাকের দরবারে উপস্থিত করা হইবে।” যেমন, আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন, “সেদিন মুমিনদিগকে মেহমানের ন্যায় আল্লাহর দরবারে একত্রিত করিব আর গুনাহগারদিগকে তৃষ্ণাকাতর অবস্থায় হাঁকাইয়া দোযখে সমবেত করিব।” হুযুর করীম (সঃ) এরশাদ করিয়াছেন যে, “মুমিন বান্দাদিগকে উৎকৃষ্ট উটের পিঠে সওয়ার করাইয়া হাশরের মাঠে উপস্থিত করা হইবে।” আর রোজ কিয়ামতে আল্লাহ পাক ফেরেশতাদিগকে নির্দেশ দিবেন, “হে ফেরেশতাগণ! আমার প্রিয় বান্দাদিগকে পদভরে হাঁটাইয়া আমার কাছে হাজির করিও না, বরং উত্তম উঠের পিঠে আরোহণ করাইয়া তাহাদিগকে আমার নিকট উপস্থিত করিও। পৃথিবীতে আরোহী হওয়া যাহাদের সহজাত অভ্যাস ছিল। সর্বপ্রথম পিতার ঔরসে, তারপর মাতৃ উদরে নিম্নপক্ষে ছয়মাস তাহারা অতিবাহিত করিয়াছে। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর স্তন্য পান, দুই বৎসর মায়ের কোলে ও পিতার কাঁধে চড়িয়া কাটাইয়াছে তারপর ভূ-পৃষ্ঠে, পানিতে, নৌকা, গাধা, ঘোড়া ও খচ্চরে চড়িয়া পরিভ্রমণ করিয়াছে। অতএব হাশর মাঠেও তাহাদিগকে পদব্রজে চালাইও না। কেননা তাহারা হাঁটিতে অনভ্যস্ত ছিল। এইজন্য তাহাদের নিমিত্ত উট অথবা কোরবানীর জন্তুর ব্যবস্থা কর।” পরিশেষে তাহারা উহাতে আরোহণ করিয়া আল্লাহ পাকের সন্নিধানে উপস্থিত হইবে। এইজন্যই মহানবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করিয়াছেন, “তোমরা নিজের কোরবানীকে মোটা তাজা কর, কারণ উহা পুলছিরাতে তোমাদের বাহন হইবে।”

পরবর্তী পর্ব-
প্রাণী জগতকে একত্রিত করিবার বিবরণ

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...