খোদাবিমুখতা ও মুনাফেকী– (পর্ব – ১)
📚মুকাশাফাতুল-কুলুব ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
দরূদ পাঠের ফজিলত—
একদা জনৈকা মহিলা হযরত হাসান বসরী (রহঃ)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে বললো : কিছুদিন হয় আমার একটি যুবতী কন্যা মারা গেছে, সেজন্যে আমার হৃদয় ভারাক্রান্ত; আপনি আমাকে এমন কোন তদ্বীর বলে দিন, যদ্দ্বারা আমি তাকে স্বপ্নে দেখতে পারি।
অতঃপর হযরত হাসান বসরী (রহঃ) তাকে তদ্বীর বালিয়ে দিলেন। মহিলাটি সে অনুযায়ী আমল করার পর একদিন স্বপ্নে দেখে যে, তার কন্যা আলকাতরার পোষাক পরিহিতা, গলায় লোহার জিঞ্জীর এবং পায়ে বেড়ী লাগানো অবস্থায় রয়েছে।
মহিলা একথা হযরত হাসান বসরীকে জানালে তিনি অত্যন্ত দুঃখিত ও চিন্তান্বিত হলেন।
এভাবে কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর হযরত হাসান বসরী নিজে সেই কন্যাকে স্বপ্নে দেখেন যে, সে বেহেশতে পদচারণ করছে এবং তার মাথায় বেহেশতী তাজ।
তখন সে হযরত হাসান বসরীকে বললো 'হে হাসান। আপনি আমাকে চিনতে পারেন নাই? আমি সেই মহিলার কন্যা, যে আমাকে স্বপ্নে দেখার জন্য আপনার নিকট হতে তদ্বীর নিয়েছিল।'
তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার অবস্থা তো পূর্বে এরূপ ছিল না; কিভাবে তোমার পূর্বাবস্থা পরিবর্তন হয়ে গেল এবং তুমি এ পর্যায়ে উন্নীত হলে - এর কারণ কি?”
সে বললো এর কারণ হচ্ছে এই যে, একদা এক (বযুর্গ) ব্যক্তি আমার কবরের পার্শ্ব দিয়ে পথ অতিক্রম করার সময় হুযূর আকরাম (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-উনার উপর দরূদ পাঠ করেছে। তখন কবরস্থানে পাঁচ ব্যক্তির উপর গোর আযাব হচ্ছিল। সেই পথিক লোকটির দরূদ পড়ার পর আমরা একটি আওয়ায শুনতে পেলাম, তাতে বলা হচ্ছে, - ‘এই ব্যক্তির বরকতে এদের উপর থেকে কবরের আযাব উঠিয়ে নাও।' অতঃপর তৎক্ষণাৎ আমাদের আযাব বন্ধ হয়ে গেল।
এখানে প্রণিধানযোগ্য যে, একজন পথিকের একবার দরূদ শরীফ পাঠ করার ওসীলায় অপর লোকজন চিরকালের জন্য যদি ক্ষমা পেতে পারে, তাহলে যে ব্যক্তি স্বয়ং পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত দরূদ শরীফ পাঠ করবে সে কি আল্লাহর রাসূলের শাফা'আত লাভে ধন্য হবে না ?
আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেছেন “তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা আল্লাহ্কে ভুলে গেছে ।” ( হাশর : ১৯ )
অর্থাত, ওইসব কপট ও মুনাফেকদের মত হয়ো না, যারা আল্লাহ্ তা'আলার হুকুম-আহ্কামকে পরিত্যাগ করেছে এবং তার দেওয়া বিধানাবলীর বিপরীত পন্থা অবলম্বন করে পার্থিব লোভ-লালসা ও মায়া-মোহে নিমজ্জিত হয়ে গেছে ।
পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন