শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৪

গাফলতি ও উদাসীনতা



গাফলতি ও উদাসীনতা
📚মুকাশাফাতুল-কুলুব ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

গাফলতি ও উদাসনীতা মানুষের আসুস ও হা-হুতাশ বৃদ্ধি করে, শুভ পরিণতির কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করে, আখেরাতের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও আরাম-আয়েশ থেকে মাহরুম করে, ইবাদতের বিঘ্নতা ঘটায়, হিংসা-দ্বেষ বাড়িয়ে তোলে, পরিণামে লজ্জা, ভর্ৎসনা, তিরষ্কার ও অপমানের কারণ হয়।

জনৈক পুণ্যবান ব্যক্তি তার উস্তাদকে মৃত্যর পর স্বপ্নযোগে জিজ্ঞাসা করেছিল,-'মৃত্যুর পর আপনি দুনিয়ার কোন্ বিষয়টির উপর আক্ষেপ করাকে সবচেয়ে মারাত্মক পেয়েছেন?' উত্তরে তিনি বলেছেন, 'গাফলতি ও অসাবধানতার আক্ষেপকে।'

বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি হযরত যুন্নুন মিসরী (রহঃ)-কে স্বপ্নযোগে জিজ্ঞাসা করেছিল,-'মৃত্যুর পর আল্লাহ্ তা'আলা আপনার সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন?' তিনি বলেছেন: 'আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে তাঁর মহান দরবারে দণ্ডায়মান করে বলেছেন: হে মিথ্যুক! হে অসত্যের দাবীদার! তুমি আমার প্রতি কৃত্রিম ভালবাসার দাবী করেছো, অতঃপর আমা হতে উদাসীন ও অন্যমনস্ক হয়ে রয়েছো।' 
জনৈক বুযুর্গ স্বীয় পিতাকে মৃত্যুর পর স্বপ্নে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, -আব্বাজান! পরকালের এই জগতে আপনি কেমন আছেন? 
তিনি বললেন, 'ওহে বৎস! দুনিয়াতে আমি গাফেল ও উদাসীন ছিলাম এবং সে অবস্থায়ই আমার মৃত্যু হয়েছে, ফলে এখন আমার নানাবিধ কষ্ট ও শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে।'

'যাহরুর-রিয়াদ' কিতাবে আছে, হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের সাথে মালাকুল-মওতের সখ্যতার সম্পর্ক ছিল; তাই মালাকুল-মওত প্রায়ই হযরত ইয়াকুবের নিকট আসা-যাওয়া করতেন। একদিন হযরত ইয়াকুব তাঁকে বললেন : 'আপনি কি আমার সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে এসেছেন, না জান কবজ করতে? তিনি বললেন,-সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে। অতঃপর হযরত ইয়াকুব (আঃ) বললেন, 'আপনার নিকট আমার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ আবেদন যে, আমার মৃত্যুর সময় যখন উপস্থিত হবে এবং আপনি আমার জান কবজ করার উদ্দেশে আগমন করবেন, তখন পূর্বাহ্নেই আমাকে অবগত করে দিবেন।' হযরত মালাকুল-মওত সম্মতি ব্যক্ত করে বললেন, 'মৃত্যুর পূর্বে অবশ্যই আমি আপনার নিকট তিনটি বার্তা পাঠাবো, তখন বুঝে নিবেন যে, আপনার মৃত্যু সন্নিকটবর্তী।' 
কিছুদিন পর হযরত ইয়াকুবের অন্তিম সময়ে মালাকুল-মওত উপস্থিত হলে তিনি আগমনের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। উত্তরে মালাকুল-মওত রূহ কবজের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করলেন। জওয়াব শুনে হযরত ইয়াকুব (আঃ) বিস্ময়বিমূঢ় হয়ে বললেন, -আপনি কি আমার সঙ্গে মৃত্যুর পূর্বে দূত পাঠানোর ওয়াদা করেছিলেন না? কিন্তু কই, কোন দূত বা বার্তাবাহক তো আসে নাই! 

মৃত্যুর ফেরেস্তা বললেন,-'হে আল্লাহর নবী! আমি ঠিকই আপনার কাছে দূত পাঠিয়েছি; কিন্তু আপনি তা' লক্ষ্য করেন নাই; আপনার কেশরাশির কৃষ্ণতার পর শুভ্রতা, আপনার দৈহিক শক্তির প্রাবল্যের পর দুর্বলতা এবং আপনার দেহ সোজা ও সটান থাকবে পর বক্রতাই মৃত্যুর পূর্বে আপনার কাছে প্রেরিত আমার দূত বা বার্তাবাহক।'

হযরত আবু আলী দাক্কাক (রহঃ) বলেন: 'প্রখ্যাত এক বুযুর্গের অসুস্থতার সংবাদ পেয়ে তাঁকে দেখার জন্য আমি খেদমতে হাজির হলাম। তখন তাঁর শিষ্যগণ শিয়রের পার্শ্বে উপবিষ্ট ছিল এবং তিনি ক্রন্দন করছিলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম,- 'হে শায়খ! আপনি কি এই অন্তিম সময়ে দুনিয়ার মায়া-মহব্বত ও বিচ্ছেদের কারণে কান্নাকাটি করছেন?' তদুত্তরে তিনি বললেন, 'না, বরং আমি আমার নামাযের অসারত্বের কথা স্মরণ করে কাঁদছি; জীবনের সমস্ত নামায আমি বিনষ্ট করে ফেলেছি।' আমি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, -'এটা কিভাবে? আপনি তো সারা জীবন নামায আদায় করেছেন।' তিনি বললেন, 'আমি জীবনে যত নামাযই পড়েছি; সিজদা করেছি, সিজদা হতে মাথা উঠিয়েছি, সবসময়ই আমার অন্তরে গাফলতি ও অবহেলা বিরাজ করতো, মনোযোগ সহকারে আমি রুকু-সিজদা করতে পারি নাই, আর আজকে আমার সেই অবস্থাতেই মৃত্যু হচ্ছে।' এতটুকু বলে তিনি একটি দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললেন এবং কয়েকটি পংক্তি আবৃত্তি করলেন।

সেগুলোর সারমর্ম হচ্ছে: 'হাশরের দিন কিয়ামতের ময়দানে আমার কি অবস্থা হবে, সে বিষয়ে চিন্তা করে আমি উদ্বিগ্ন ও হতাশাগ্রস্ত। দুনিয়ার আরাম-আয়েশ ও ইয্যত-সম্মানের পর জানিনা কবরের ঘোর অন্ধকারে একাকী কি অবস্থায় আমাকে কাটাতে হবে। আমি অতি উত্তমরূপে ধ্যান করেছি,-যখন আমলনামা হস্তান্তর করা হবে, তখন না-জানি আমার কি দুর্দশা হয়। 
আয় আল্লাহ্। আয় পরওয়ারদিগার!! একমাত্র আপনার উপরই আমার ভরসা আমার আশা; আপনার দয়া ও রহমত ছাড়া আমার কোন গত্যন্তর নাই; মেহেরবানী করে আপনি আমাকে সেদিন মা'ফ করে দিন।'

'উয়ুনুল-আখবার' গ্রন্থে হযরত শাক্বীক বলখী (রহঃ) থেকে উদ্ধৃত হয়েছে, তিনি বলেছেন : 
"তিনটি বিষয় এমন রয়েছে, মানুষ মুখে মুখে যেগুলোর খুব বুলি আওড়িয়ে থাকে; কিন্তু কার্যক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত লক্ষ্য করা যায়।
এক, - মানুষ মুখে স্বীকারোক্তি করে যে, আমরা আল্লাহর বান্দা, একমাত্র তাঁরই দাস; কিন্তু কার্যতঃ দেখা যায় যে, প্রতিটি কাজে আল্লাহ্ অবাধ্যতা ও স্বেচ্ছাচারিতা অবলম্বন করে থাকে। 

দুই,- মানুষ বলে থাকে, আল্লাহ আমাদের জীবিকা ও রোযী-রোযগারের জিম্মাদার, সুতরাং তিনিই এ ব্যাপারে ফিকির করবেন। কিন্তু একথা বলা সত্ত্বেও বাস্তব ক্ষেত্রে মানুষের অন্তর কখনও দুনিয়ার ধন-সম্পদ ব্যতিরেকে পরিতৃপ্ত হয় না, সর্বদা দুনিয়ার মোহে আচ্ছন্ন থাকে এবং ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার মাল-সামান একত্রিকরণে উন্মত্ত থাকে। 

তিন, মানুষ বলে থাকে, মৃত্যু আসবেই এবং এটা সকলের জন্য অবধারিত; কিন্তু তাদের ব্যস্ততা এবং দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ দেখে মনে হয় যে, তারা কোনদিন মরবে না।"
প্রিয় সাধক! একটু চিন্তা করে দেখ, মহান আল্লাহর দরবারে তুমি কোন্ দেহটি নিয়ে হাজির হবে, কোন্ মুখে তুমি কথা বলবে? মহান সেই দরবারের প্রতিটি জিজ্ঞাসার সঠিক জওয়াব তোমাকে দিতে হবে, যা পূর্বাহ্নেই প্রস্তুত করে রাখা চাই। মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের ভয় থেকে এক মুহূর্তের জন্যেও শঙ্কামুক্ত হয়ো না; কারণ তিনি তোমার ভাল-মন্দ সবকিছু সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত। আল্লাহ্ তা'আলার প্রতিটি নির্দেশকে আন্তরিক আনুগত্য সহকারে পালন কর এবং নিজের জাহের-বাতেন, চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান-ধারণা ও কাজ-কর্মে সর্বতোভাবে এক আল্লাহর জন্যে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে যাও।

হুযুর আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন যে, আরশের নীচে লেখা রয়েছে: "আমার অনুগত বান্দার প্রতি আমি অনুগ্রহ করে থাকি, যে আমাকে ভালবাসে আমি তাকে ভালবাসি, যে আমার কাছে প্রার্থনা করে আমি তাকে দান করি এবং যে আমার কাছে ক্ষমা চায় আমি তাকে ক্ষমা করি।"

অতএব মানবের কর্তব্য হচ্ছে, ইখলাস ও পূর্ণ আনুগত্যের সাথে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীতে নিমগ্ন হওয়া, দুনিয়ার বালা- মুসীবত ও দুঃখ-দৈন্যে ছবর করা, আল্লাহর দেওয়া নে'আমতসমূহের শোকর আদায় করা এবং সর্বাবস্থায় মাওলার প্রতি সন্তুষ্ট ও উদগ্রীব থাকা। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: 'যে ব্যক্তি আমার অভিপ্রায়ে সন্তুষ্ট থাকে না, আমার যাচাই ও পরীক্ষায় ছবর করে না, আমার নে'আমতের শোকর আদায় করে না এবং আমার পরিমিত দানে তুষ্ট থাকে না, সে যেন আমাকে ছাড়া অন্য কোন প্রভু তালাশ করে।':

এক ব্যক্তি হযরত হাসান বসরী (রহ.)-এর নিকট আরজ করলো, 'হুযূর! আমি ইবাদতে স্বাদ পাই না; এর কারণ কি?' 
তিনি বললেন: 'হয়তঃ তুমি এমন কোন লোকের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছো, যার অন্তরে আল্লাহ্ ভয় নাই।' জেনে রাখ, - 'ইবাদত হচ্ছে, আল্লাহ্ ছাড়া অন্য সবকিছুকে পরিপূর্ণরূপে ত্যাগ করার নাম; এমনকি ইবাদতে স্বাদ অন্বেষণ করাও ইবাদতের পরিপন্থী কাজ।' জনৈক ব্যক্তি হযরত আবু ইয়াযীদ (রহঃ)-এর নিকট ইবাদতে স্বাদ না-পাওয়ার কথা উল্লেখ করলে তিনি বলেছিলেন : 'তুমি তো আল্লাহ্ ইবাদত না-করে 'ইতা'আত ও আনুগত্য' নামের বস্তুটির পূজা করছো, নতুবা তুমি ইবাদতে স্বাদ অন্বেষণ করছো কেন? বস্তুতঃ আল্লাহর আনুগত্যের উদ্দেশে ইবাদত করাটাও এক প্রকার গায়রুল্লাহর ইবাদত। 
সুতরাং তুমি সকল গায়রুল্লাহ্ থেকে মুক্ত-পবিত্র হয়ে এক আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন হও। তা'হলে অবশ্যই তুমি স্বীয় আরাধনায় স্বাদ ও লজ্জত অনুভব করতে পারবে।

একদা এক ব্যক্তি নামায আরম্ভ করে যখন - "হে আল্লাহ্! আমি একমাত্র আপনারই ইবাদত করছি"।পর্যন্ত পৌঁছলো, তখন তার মনে ধারণার উদ্রেক হলো যে, 'সে প্রকৃতই আল্লাহ্ তা'আলার যথার্থ ইবাদত করছে।' তৎক্ষণাৎ গায়েব থেকে আওয়ায আসলো,-'তুমি মিথ্যুক; তুমি আল্লাহর ইবাদত করছো না; বরং রিয়া বা লোকদেখানোর উদ্দেশে এরূপ আরম্ভ করছো।"
একথা শুনে সে তৎক্ষণাৎ তওবা করে নির্জন স্থানে গিয়ে নামায আরম্ভ করলো। এবারও যখন (إِيَّاكَ نَعْبُدُ) পাঠ করলো, তখন আওয়ায আসলো, -'তুমি মিথ্যুক, তুমি তোমার ধন-সম্পদের ইবাদত করছো।' অতঃপর সে নিজের সমস্ত ধন-দৌলত আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিল এবং পুনরায় নামায আরম্ভ করলো। পূর্বের মত এবারও আওয়ায আসলো,-'তুমি তোমার পোষাক-পরিচ্ছদের ইবাদত করছো।' অতঃপর সে নিতান্ত প্রয়োজনীয় পোষাকাদি ছাড়া অবশিষ্ট সমস্ত কাপড়- চোপড় দান করে দিল। এরপর পুনরায় নামায আরম্ভ করে (إِيَّاكَ نَعْبُدُ) পর্যন্ত পৌঁছলে গায়েবী আওয়ায আসলো,-'হে আমার বান্দা! এবার তুমি সত্য বলছো; প্রকৃতই তুমি একমাত্র আমারই ইবাদত করছো।'

'রাওনাকুল-মাজালিস' কিতাবে আছে,-'একদা এক ব্যক্তির মূল্যবান একটি বস্তু হারিয়ে যায়; কে নিয়েছে বা কোথায় আছে, তার স্মরণ ছিল না। অতঃপর একবার নামাযে দণ্ডায়মান অবস্থায় বিষয়টি তার স্মরণ হয়। নামায সমাপ্ত করে গোলামকে সে বললো,-'অমুক ব্যক্তির নিকট হতে আমার সেই বস্তুটি নিয়ে আস।' একথা শুনে গোলাম জিজ্ঞাসা করলো, বিষয়টি আপনার কখন স্মরণ হয়েছে? সে বললো, -'নামাযে।' গোলাম বললো, 'হে মনিব! সত্য বলতে কি, নামাযরত অবস্থায় আপনি খোদার উপাসক ছিলেন না; বরং সে বস্তুটির অন্বেষী ছিলেন। মনিব গোলামের মুখে এহেন বিজ্ঞজনোচিত উক্তি শুনে আনন্দিত হয়ে তাকে আযাদ করে দিল।'

হে সাধক! দুনিয়ার সর্ববিধ মায়া-মোহ পরিত্যাগ করে একমাত্র ইবাদত ও আনুগত্যে নিমগ্ন হয়ে যাও, সর্বদা অন্তকরণকে সুস্থ, সবল ও সুন্দর করার চেষ্টায় নিরত থাক, কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা করে সম্মুখে অগ্রসর হও এবং পারলৌকিক জীবনের সাফল্যকেই একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসাবে গ্রহণ করে নাও। প্রকৃত চিন্তাশীল ও বুদ্ধিমান লোক এ বিষয়ে কোনরূপ অবহেলা প্রদর্শন করতে পারে না। আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেছেন – "যে ব্যক্তি পরকালের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্য সেই ফসল বাড়িয়ে দেই। আর যে ইহকালের ফসল কামনা করে, আমি তাকে দুনিয়ার কিছু দিয়ে দেই; কিন্তু পরকালে তার কোন অংশ থাকবে না।" (শূরা : ২০)

আয়াতে উল্লেখিত 'হারসুদ্দুনয়া'-এর অর্থ হচ্ছে,-দুনিয়ার যাবতীয় ভোগ্য উপকরণ, যথা: লেবাস-পোষাক, খাদ্য-পানীয় প্রভৃতি। 'এ ব্যক্তি আখেরাতের কোন অংশ পাবে না'-এর অর্থ হচ্ছে,-দুনিয়াতেই তার অন্তর থেকে আখেরাতের মহব্বত দূর হয়ে যায়। 
হযরত আবু বকর (র.)-এর জীবনালেখ্যে লক্ষ্য করা যায় যে, আখেরাতের প্রতি সনিষ্ঠ আকর্ষণের ফলশ্রুতিতেই তিনি দ্বীনের খেদমতের জন্য চল্লিশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা গোপনে আর চল্লিশ হাজার প্রকাশ্যে সর্বমোট আশি হাজার স্বর্ণমুদ্রা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করেছেন। অতঃপর নিজের জন্য তাঁর কাছে আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। 
দু'জাহানের সরদার হযরত নবী করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর পরিবারবর্গ সর্বদা দুনিয়ার সর্বপ্রকার আরাম-আয়েশ ও ভোগ-বিলাস পরিহার করে চলতেন। 

আদরের দুলালী মা ফাতেমা যাহরা (র.)-কে তিনি বিবাহের সময় যে উপহার দিয়েছিলেন, তা ছিল নিতান্ত নগণ্য-চামড়ার একটি ছোট মোশক এবং খেজুরবৃক্ষের আঁশ দিয়ে প্রস্তুত করা একটি বালিশ মাত্র।

পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...