📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ৩৮)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
তুলাদণ্ড বা মিজান খাঁড়া করিবার বিবরণ-
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, “রোজ কিয়ামতে আল্লাহ পাক একটি বৃহৎ খুঁটির উপর মিজানকে খাঁড়া করিবেন। উক্ত খুঁটি মাশরিক ও মাগরিবের সমান লম্বা হইবে। উহার দুইটি পাল্লা পৃথিবীর সমান প্রশস্ত হইবে। নেকের পাল্লাটি আরশের দক্ষিণ দিকে থাকিবে এবং বদের পাল্লাটি আরশের উত্তর দিকে থাকিবে। পঞ্চাশ হাজার বৎসর সমতুল্য দিনে ওজন করিবার জন্য নেক-বদ মিজানের মাঝখানে পাহাড়ের মত স্তূপিকৃত থাকিবে।” হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) আরও বলিয়াছেন যে, “নিরানব্বইটি দপ্তরবিশিষ্ট (হিসাবের খাতার সহিত) এক বান্দাকে মিজানের নিকট উপস্থিত করা হইবে।” তাহার প্রত্যেক পাপপূর্ণ দপ্তর দৃষ্টিশক্তির প্রান্তসীমা পর্যন্ত লম্বা হইবে। এই সমস্ত পাপের পাল্লায় রাখার পর শুধু কালেমা শাহাদাত লিখিত অঙ্গুলির ন্যায় চিকন এক টুকরা কাগজ নেকের পাল্লায় রাখা হইবে। সঙ্গে সঙ্গে বদের' পাল্লাটি হাল্কা হইয়া উঠিয়া যাইবে। যেমন, আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন, : “ফাআম্মা মান ছাকুলাত মাওয়াযিনুহু ফাহুয়া ফি ইশাতির রাদ্বিয়াহ” অর্থাৎ : যাহার নেকের পাল্লা ভারী হইবে, সে চিরসুখে বেহেশতে অবস্থান করিবে। আল্লাহ পাক আরও ঘোষণা করিয়াছেন, “কিন্তু যাহার নেকের পাল্লা হাল্কা হইবে, তাহার বাসস্থান হইবে হাবিয়া দোযখ। তুমি কি পরিজ্ঞাত যে উহা কি? উহা প্রজ্বলিত অনলকুন্ড বিশেষ । ”
পরবর্তী পর্ব-
পুলছিরাতের বিবরণ

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন