📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ৪৭)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
শরাবখোরের আযাবের বিবরণ-
হযরত উবাই ইবনে কা'ব (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, হুযুর করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিয়াছেন, রোজ কিয়ামতে মদখোর ও শরাবখোরদিগকে হাতে তাম্বুরা ও গলায় পানপাত্র ঝুলান অবস্থায় দোযখের কাষ্ঠের শূলে চড়াইবার জন্য আনা হইবে। এমন সময় জনৈক ঘোষণাকারী ঘোষণা করিবে, “ইহা অমুকের পুত্র অমুক এবং অমুক স্থানের বাসিন্দা।” তখন তাহাদের মুখ হইতে এমন দুর্গন্ধ বাহির হইবে যে, সমস্ত হাশরবাসী উহাতে অস্থির হইয়া আল্লাহর কাছে আরজী করিবে। তখন আল্লাহ পাক তাহাদিগকে দোযখে নিক্ষেপ করিবার জন্য হুকুম করিবেন। দোযখে পড়িয়া তাহারা হায় তৃষ্ণা! হায় তৃষ্ণা!! বলিয়া হাজার বৎসর যাবত চীৎকার করিবে। তারপর আশি বৎসর পর্যন্ত হযরত মালেক (আঃ) এর নিকট আরজ করিবে; কিন্তু তিনি কোন উত্তর দিবেন না। তাহাদের দেহ হইতে এমন দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম বাহির হইবে যাহাতে শুধু প্রতিবেশীই নয়, স্বয়ং তাহারাও অতিষ্ঠ হইয়া আল্লাহর নিকট আরজ করিবে; কিন্তু অনুনয়ে কোন উপকার হইবে না। পরিশেষে অকস্মাৎ দোযখের আগুন তাহাদিগকে জ্বালাইয়া ভস্ম করিয়া দিবে। আবার তাহাদিগকে নূতন করিয়া পয়দা করা হইবে এবং আগুন তাহাদিগকে তৌকের আকার চারিদিক হইতে জ্বালাইতে থাকিবে এবং তাহারা বিকট চীৎকার সহকালে আহাজারী করিতে থাকিবে। এমনভাবে পা হাতে মাথা পর্যন্ত জ্বালান হইবে। অবশেষে অধঃমুখে পায়ে জিঞ্জির লাগাইয়া দোযখের মধ্যস্থলে ফেলিয়া দেওয়া হইবে। দোযখে পড়িয়া যখন পানি পানি বলিয়া চীৎকার করিবে, তখন তাহাদিগকে পানি দেওয়া হইবে। উহা এমন বিষাক্ত হইবে যে, উদরস্থ করিবার সঙ্গে সঙ্গে নাড়িভুড়ি ছারখার হইয়া যাইবে। পুনরায় তাহারা খাদ্যের জন্য চীৎকার করিতে থাকিবে। তখন যাক্কুম নামক কাঁটাযুক্ত ফল তাহাদিগকে খাইতে দেওয়া হইবে। উহা উদরস্থ করিবামাত্র আপাদমস্তক টগবগ করিয়া জোশ মারিতে থাকিবে এবং মুখ হইতে আগুনের শিখা বাহির হইতে থাকিবে। অবস্থা এমন চরমে পৌছিবে যে, সমস্ত নাড়িভুড়ি গলিয়া বিন্দুর মত বাহানালী দিয়া গড়াইয়া পড়িবে। আবার কাহাকেও আগুনের সিন্ধুকে ভরিয়া এক হাজার বৎসর পর্যন্ত আযাব করা হইবে। উহাতে তাহার শরীরের রং পরিবর্তিত হইয়া যাইবে। পুনরায় এক হাজার বৎসর পর্যন্ত দোযখের জিন্দানখানায় জ্বালান হইবে। সেখানে হাজার হাজার বৎসর ক্রন্দন করিবে। তবুও তাহাদের প্রতি আল্লাহর দয়া হইবে না। সেই জেলখানায় উটের মত সাপ-বিচ্ছু থাকিবে। উহারা তাহাদের পদতল হইতে কাটিয়া ছিন্নভিন্ন করিয়া দিবে। তারপর তাহাদের মাথায় আগুনের তাজ ও শরীরের জোড়াগুলিতে লোহার পাত মুড়িয়া ও গলায় তৌক ও জিঞ্জির পরান হইবে। হাজার বৎসর যাবত এমনি আযাব ভোগ করিবার পর 'ওয়াইল' নামক দোযখের মাঠে নিক্ষেপ করা যাইবে। তথাকার উষ্ণতা অত্যন্ত ভয়াবহ ও ইহার গভীরতা সীমাহীন হইবে। উহাতে অগণিত সাপ, বিচ্ছু তৌক ও জিঞ্জির থাকিবে। সেখানে হাজার বৎসর আযাব ভোগ করিবার পর সে অকস্মাৎ 'হে মুহাম্মদ' বলিয়া কাঁদিয়া উঠিবে। ইহা শ্রবণান্তে হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিবেন, “হে আল্লাহ! আমি আমার এক উম্মতের করুণ ক্রন্দন যেন শুনিতে পাইতেছি?” আল্লাহ পাক বলিলেন, “হ্যাঁ, ইহা তোমার এক শরাবখোর উম্মতের আওয়াজ। সে শরাব খাইয়া মাতাল অবস্থায় মৃত্যুমুখে পতিত হইয়াছিল।” পরিশেষে হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)এর সুপারিশক্রমে তাহাকে দোযখ হইতে বাহিরে আনা হইবে। তখন আল্লাহ পাক বলিবেন, “হে মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)! আপনার উসিলায় আমি আজ তাহাকে নাজাত দান করিলাম।”
পরবর্তী পর্ব-

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন